spot_img
26 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

বড়দিন উপলক্ষে সেজেছে কাশ্মীর

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: কাশ্মীর উপত্যকায় খ্রিস্টান অধিবাসীদের সংখ্যা কম হলেও, এখানে বড়দিন পালন করা হয় বেশ ভালোভাবেই। শুধুমাত্র গীর্জা কিংবা স্কুল নয়, বড়দিন উপলক্ষে ডাল লেকের কাছে পর্যটন এলাকাকেও সাজানো হয় দারুণভাবে। এই সময় কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী কাগজের মণ্ড দিয়ে ছোট ছোট জিনিস নির্মাতারা বড়দিন উপলক্ষে সারা বিশ্ব থেকেই হাজার হাজার অর্ডার পেয়ে থাকেন।

কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় শতাব্দী প্রাচীন গির্জা দেখতে পাওয়া যায়। শ্রীনগরের সেন্ট লুকস চার্চ, অল সেন্টস চার্চ এবং হলি ফ্যামিলি চার্চ মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও সুন্দর করে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জম্মু কাশ্মীরের পর্যটন বিভাগ স্থানীয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য বড়দিন উদযাপনে ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে। গত দু-তিন বছর ধরে কোভিডের কারণে কোনও ধরনের অনুষ্ঠান হতে পারেনি বলেই এই বছর তারা বড় আকারে অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে।

শ্রীনগরের অল সেন্টস চার্চের ফাদার, ভিনু চন্দ্র বলেন, “কাশ্মীরের তিনটি প্রধান গির্জা। তার মধ্যে অল সেন্টস চার্চ এবং সেন্ট লুকস চার্চকে গত বছরেই সংস্কার করা হয়েছে। তাছাড়া রয়েছে হলি ফ্যামিলি ক্যাথলিক চার্চ। মূলত এই তিনটি গীর্জাতেই বড়দিনের আয়োজন করা হয়। বড়দিনের সময়টাতেই সমগ্র খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী একত্রিত হওয়ার সুযোগ পায়। কোভিডের কারণে বিগত কয়েক বছর আমরা ভালোভাবে বড়দিন পালন করতে পারিনি। কিন্তু এ বছর আমরা ক্যারলের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা এ পৃথিবীতে এ বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই যে যীশু শান্তি এবং ভালোবাসার বার্তা নিয়ে শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের জন্য নয় বরং সকলের জন্যেই এসেছেন। তাই বড়দিন শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের নয়, সকলেই এই দিন উপভোগ করতে পারে। আমরা সকলের সাথেই আনন্দ ও একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ভাগ করে নেই।”

বড়দিন এলেই এখানকার কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সাজসজ্জার সরঞ্জামের বিক্রিতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। বড়দিনে সাজানোর জন্য বড়দিনের গাছ, দেয়ালে এবং সিলিংয়ে ঝুলানোর জন্য সরঞ্জাম, বল, ঘন্টা ইত্যাদি এই কাগজের মণ্ড থেকে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হয়। কাশ্মীর উপত্যকার পুরস্কার বিজয়ী কাগজের কারিগর মকবুল জান উৎসবের কয়েক মাস আগে থেকেই সাজসজ্জার এই সরঞ্জামগুলো তৈরি করা শুরু করেন। বড়দিনের ঠিক আগে সারাবিশ্ব জুড়ে গ্রাহকদের কাছে লাখ লাখ এ জাতীয় সরঞ্জাম বিক্রি হয়।

মকবুল জানান এই বছর এইসব সরঞ্জামের এত চাহিদা যে তিনি কল্পনাও করতে পারেন নি। হাজার হাজার অর্ডার এসেছে তার কাছে।

মকবুল জানান, “বড়দিনের ৮ মাস আগে থেকেই আমরা এসব সরঞ্জাম তৈরি শুরু করি। এ বছর এত জিনিস অর্ডার এসেছে যে আমার কাছে যথেষ্ট কারিগর নেই। বড়দিনের গাছে ঝুলানোর সরঞ্জাম যেমন, ডিম, বল ইত্যাদির চাহিদাই লাখের মতো। আমরা শুধু দেশ জুড়ে নয়, সারা বিশ্ব থেকেই অর্ডার নিয়ে থাকি।”

কাশ্মীরের এই শিল্পীরা বড়দিনের সাজসজ্জায় নতুন ডিজাইনের প্রবর্তন করেছেন। তারা বিশ্বজুড়ে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে মকবুল জান বলেন, “আমরা ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন ডিজাইন তৈরি করি। গতানুগতিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিখ্যাত উভয় ধরনের সরঞ্জামই আমরা বিক্রি করে থাকি। আমরা আরো সৃজনশীল হওয়ার সৃষ্টি করছি এবং গ্রাহকদের চাহিদা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর সবাই আমাদের কাছ থেকেই বড়দিনের সমস্ত জিনিস কিনে থাকেন। এমনকি পর্যটন অফিস, সচিবালয় এবং বিমানবন্দরেও আমাদের এই হাতের কাজের জিনিসগুলো প্রদর্শিত হয়েছে।”

দেখা যাচ্ছে, বড়দিন শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের জন্যেই নয় কারিগরদের জন্যেও আনন্দ নিয়ে আসে।

আই. কে. জে/

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ