spot_img
24 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***অনলাইন অধ্যয়নের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিয়েছে চীন***নতুন বাজেট উন্নত ভারতের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে : নরেন্দ্র মোদী***পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণ: গোয়েন্দা প্রধানের অপসারণ দাবি পাকিস্তানিদের***২৬ জনকে চাকরি দেবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান***ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে আনোয়ার গ্রুপ***ভালো মানুষ আর টাকাওয়ালা পাত্র খুজছেন রাইমা সেন!***বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী***সিডনি প্রবাসী শিল্পী ইলোরা খানের প্রথম মৌলিক গান ‘মুছে ফেলে দাও’ (ভিডিও)***বইমেলায় সাতটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর***বাংলা সাহিত্যের সব বই অনুবাদের চেষ্টা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি সরাতে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছেন এরদোগান

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান তার বিরুদ্ধে সমালোচনাকে দমন করতে এবং সমালোচনা করা নাগরিকদের উপর জোর জবরদস্তি চালাতে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এমনকি এর মাধ্যমে ২০১৩ সালের নির্বাচনে তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগ্লুর প্রার্থীতাও রোধ করেছেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এমন আচরণ তার জন্যেই বিপদ ডেকে আনছে। কারণ এই ঘটনা তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

গত বুধবার, তুরস্কের একটি আদালত, ২০১৯ সালের ইস্তাম্বুলের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়লাভের পর, সুপ্রিম ইলেক্টোরাল বোর্ডের সদস্যদের অপমান করার অভিযোগে প্রধান বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয় মেয়র একরেম ইমামোগ্লুকে দুই বছর সাত মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

এ ব্যাপারে ইমামোগ্লুর দল জানিয়েছে যে তারা আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। অন্যদিকে প্রসিকিউটর এ সাজাকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করে উচ্চ আদালতে আপিল জানিয়েছেন। ইমামোগ্লুর বিরুদ্ধে এ রায় বহাল থাকলে তিনি তার মেয়র পদ হারাবেন এবং ২০২৩ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্যেও নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেন।

আদালতে অভিযোগ জানানো হয় যে ইমামোগ্লু সুপ্রিম ইলেক্টোরাল বোর্ডের সদস্যদের বোকা বলে সম্বোধন করেছেন এবং অপমান করেছেন। যদিও ইমামোগ্লুর বক্তব্য হলো তিনি বোর্ড সদস্যদের উদ্দেশ্যে এমন কোনও অপমানজনক শব্দের ব্যবহার করেননি। বরং এক সাংবাদিক তাকে বলেছিল যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়লু তার এক বিবৃতিতে ইমামোগ্লুকে বোকা বলে সম্বোধন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের মেয়র নির্বাচনে মাত্র ০.২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে ইমামোগ্লু জয়লাভ করেন। এরদোগান এই নির্বাচনের উপর সন্দেহ পোষণ করলে পরবর্তীতে নির্বাচনটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

জুন মাসে এ নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হলে তিনি একেপি এবং এরদোগান সমর্থিত প্রার্থী, বিনালি ইলদিরিমের বিরুদ্ধে ৭ লাখ ৯২ হাজার ভোট বা ১০ শতাংশের বিরাট ব্যবধানে জয় লাভ করেন। এ ছিল একেপি বা এরদোগানের জন্য এক বিশাল পরাজয়।

ইমামোগ্লুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তাকে দেওয়া কঠোর সাজাকে তুরস্কের নাগরিকেরা এরদোগানের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে। তাদের মতে এরদোগান তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে এমন ফাঁদ পেতেছেন।

এরদোগানের শাসনকালে তুরস্কের মুদ্রাস্ফীতি ৮৫.৫% এ এসে পৌঁছেছে এবং দেশে ক্রমাগত অর্থনৈতিক সংকট পুরো দেশের অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছে। তাই এবার এরদোগান এতোটা নিশ্চিত নন যে তিনি পুনঃনির্বাচিত হবেন কি না। তাই মানুষের বিশ্বাস, এরদোগান তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরাতে আদালত এবং বিচারককে ব্যবহার করেছেন।

নভেম্বরে শুনানির আগেই মামলার বিচারককে প্রতিস্থাপিত করা হয়, যে কারণে সন্দেহ আরো তীব্র হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার, দেশের হাজার হাজার মানুষ এবং ছয়জন বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যে পাঁচজনই পৌরসভা অফিসের বাইরে এসে জড়ো হয়৷ তারা ইমামোগ্লুর বিরুদ্ধে আদালতের রায় এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিবাদ জানায়, সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং সরকারের পদত্যাগের দাবি করে।

জনগণের উদ্দেশ্যে ইমামোগ্লু বলেন, আদালতের রায় রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এবং সম্পূর্ণ বেআইনি। এতেই প্রমাণিত হয় যে আজকের তুরস্কে কোন ন্যায়বিচার নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র, নেড প্রাইস এ রায় নিয়ে ওয়াশিংটনের হতাশার কথা জানান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুরস্কের প্রতিবেদক, নাচো সানচেজ আমোর এই রায় নিয়ে বলেছেন যে এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে তুরস্কের ন্যায়বিচার কতোটা বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে এখন আদালতকেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমনকি একেপি এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, আব্দুল্লাহ গুল, ইমামোগ্লুকে দেওয়া সাজা নিয়ে তার দ্বিমত পোষণ করেন। এ ব্যাপারে তিনি একটি টুইটবার্তায় লিখেন, “আজকের আদালতের রায় শুধুমাত্র একরেম ইমামোগ্লুর বিরুদ্ধেই নয়, বরং তুরস্কের বিরুদ্ধেও একটি বড় অন্যায়। জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ হওয়া উচিত। আমি বিশ্বাস করি উচ্চ আদালত এ ভুল সংশোধন করবে।”

গত অক্টোবরে প্রকাশিত একটি ইইউ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারক এবং প্রসিকিউটরদের উপর অযাচিত চাপের ফলে তুর্কির বিচার বিভাগে স্বাধীনতার অভাব দেখা যাচ্ছে এবং অপরদিকে সংসদে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ক্রমাগত কটাক্ষ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে, ছয়টি বিরোধী দল তুরস্কে নির্বাহী রাষ্ট্রপতির বিলুপ্তি এবং এরদোগানের প্রায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অবসানের লক্ষে জোট গঠন করে। কিন্তু এরদোগানের বিপক্ষে দাঁড় করানোর জন্য কোনও প্রার্থীকে তারা এখন পর্যন্ত নির্বাচন করতে পারে নি।

শনিবারে, ইমামোগ্লুর শাস্তি নিয়ে এরদোগান তার বক্তব্যে বলেন, “ইমামোগ্লুর শাস্তি নিয়ে হওয়া বিতর্কে আমার কিংবা সমগ্র জাতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাছাড়াও এখন পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় নি। মামলাটি আপিল আদালত এবং ক্যাসেশন আদালতে যাবে। আদালতের যদি কোন ভুল থাকে তবে তা সংশোধিত হবে। এসব বিষয়ে অযথাই আমাকে টানা হচ্ছে।”

তবে ইমামোগ্লুকে জেলে প্রেরণের মাধ্যমে হয়তো এরদোগান নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মারলেন। ১৯৯৯ সালে এরদোগান যখন ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন তখন তাকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে চার মাসের জন্য কারাবরণ করতে হয়। তার এই কারাবরণ তার জনপ্রিয়তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় এবং তিনি নির্বাচনে জয়ী হন। এবার ইমামোগ্লুর কারাবরণে হয়তো ছয় বিরোধী দল এরদোগানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর উপযোগী তাদের যোগ্য প্রার্থীকে পেয়ে গেছে।

পরিহাসের বিষয় এই এরদোগান নিজের জীবন থেকে শিক্ষা না নিয়ে অনেক বড় ভুল করে বসেছেন। ইমামোগ্লুকে তিনি নিজ হাতে জনপ্রিয়তা উপহার হিসেবে দিয়ে দিয়েছেন।

আই. কে. জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ