spot_img
27 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় কেঁচোর অবদান কম নয়

- Advertisement -

ডেস্ক নিউজ, সুখবর ডটকম: আধুনিক যন্ত্র ও রাসায়নিক নির্ভর কৃষি পদ্ধতি আখেরে মাটির অনেক ক্ষতি করে ও জীব বৈচিত্র্য নষ্ট করে। অথচ কেঁচোও মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা তাই চাষিদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

বার্লিনের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বিশেষ পাঠক্রমে শিশুরা এমন এক প্রাণী সম্পর্কে জানতে পারছে, যা সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও মানুষের অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত জরুরি। হড়হড়ে ও কোঁচকানো আর্থওয়ার্ম বা কেঁচোর কাছে যেতে মানুষ মোটেই পছন্দ করে না। কিন্তু শিশুরা জানে, ভালো করে এই প্রাণী চেনা কতটা জরুরি।

অমেরুদণ্ডী প্রাণী হলেও আর্থওয়ার্ম অত্যন্ত সক্রিয়। আমাদের মাটির নীচের অনেক অদৃশ্য প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই প্রাণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউরোপের মতো যে সব অঞ্চলে কেঁচো বাস করে, সেখানকার মাটি ও উদ্ভিদ জগতের জন্য এই প্রাণীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্লাস টিচার পাউলা রিসার পড়ুয়াদের পুষ্টি চক্র সংক্রান্ত এক ওয়ার্কশীট দিয়েছেন। তাতে দেখানো হচ্ছে, আর্থওয়ার্ম কীভাবে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী খেয়ে নিয়ে সেগুলি মলে রূপান্তরিত করে। অত্যন্ত পুষ্টিকর সেই মল উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য জরুরি।

শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্র এই প্রাণীর অবদানের কদর করবে বলে রিসার আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিশুদের বৃহত্তর চিত্র বোঝা উচিত। জানা উচিত, যে সবকিছু পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। আমি যদি ভালো আচরণ করি, সব প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাই, তখন অবশ্যই আমি আরও ভালো ও বাসযোগ্য পরিবেশ পাবো।’

জার্মানির হালে শহরের কাছে এক গবেষণা কেন্দ্রে বিজ্ঞানীরা বিশাল আকারে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতির মাত্রা বোঝার চেষ্টা করছেন। বিস্তৃত এলাকার উপর পরীক্ষা চালিয়ে তারা দেখেছেন, জমি অন্যভাবে ব্যবহার করলে মাটির মানের কত পরিবর্তন ঘটে। জলবায়ুর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের আরও উষ্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইকোলজিস্ট হিসেবে মারি স্যুনেমান বলেন, ‘এমন শস্যের জমি আর্থওয়ার্মের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি করছে। কেঁচো মাটিতে নিয়মিত সার দেওয়া পছন্দ করে না, কারণ তার ফলে মাটির পিএইচ মাত্রা কমে যায় এবং মাটিতে অম্লের মাত্রা বেড়ে যায়। এই প্রাণীর ত্বক খুবই নাজুক। কেঁচো একটি মাত্র উদ্ভিদ খায়। ফলে একটি স্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।’

মার্টিন শেডলার প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক সমন্বয়ক৷ তার মতে, শুকনা বছরগুলোর পর ঘাসজমির উদ্ভিদ জগত চাষের খেতের তুলনায় অনেক ভালোভাবে সামলে উঠেছে। শেডলার প্রায়ই গবেষণার ফলাফল অংশীদারদের সামনে তুলে ধরেন। তার মতে, চাষিরা মাটিকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

কেঁচো মাটিতে নিয়মিত সার দেওয়া পছন্দ করে না, কারণ তার ফলে মাটির পিএইচ মাত্রা কমে যায় এবং মাটিতে অম্লের মাত্রা বেড়ে যায়।

কেঁচো মাটিতে নিয়মিত সার দেওয়া পছন্দ করে না, কারণ তার ফলে মাটির পিএইচ মাত্রা কমে যায় এবং মাটিতে অম্লের মাত্রা বেড়ে যায়।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনুন। অর্থাৎ মাটির উপর যান্ত্রিক হস্তক্ষেপ এবং ধাতব সারের মতো রাসায়নিক ব্যাঘাত ঘটিয়ে মাটির প্রাকৃতিক পুষ্টিচক্র নষ্ট করবেন না। তাছাড়া কীটনাশক ব্যবহার করলেও মাটির নিজস্ব জৈব জগতের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করা উচিত নয়।’

ইকোলজিস্ট হিসেবে মারি স্যুনেমান মনে করেন, এমন খেতে বীজ বপন করা উচিত, যেখানে জীব বৈচিত্র্য বেশি। অনেক ধরনের ঘাস, লতাগুল্ম, সবজি থাকলে ভালো।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা ঠিক সেই নীতি হাতেনাতে প্রয়োগ করছে। মাটির দেখাশোনার অর্থ কেঁচো ও অন্যান্য জীবের যত্ন নেওয়া। সেগুলোই বীজ বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

এম/

আরো পড়ুন:

নতুন বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু বিকেলে

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ