spot_img
21 C
Dhaka

৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৬ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

পোস্টকার্ড দেখে আফ্রিকা সম্পর্কে যে ভুল ধারণা হয়েছিল তা শোধরাতে উদ্যোগ

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: আজকাল ইন্সটাগ্রাম বা ফেসবুকের মাধ্যমে যেভাবে আমরা বিশ্বের খবরাখবর রাখি, আগের দিনে বিশ্ব দেখার সবচেয়ে সাধারণ মাধ্যম ছিল পোস্টকার্ড।

১৯ শতকের শেষ থেকে ২০ শতকের শুরুর দিকে, যখন মানুষের মাঝে বিশ্ব ভ্রমণের সুযোগ কম ছিল, তখন পোস্টকার্ডের মাধ্যমেই মানুষ বিস্তৃত বিশ্বের বিভিন্ন সৌন্দর্য অবলোকন করত।

তবে এই পোস্টকার্ড ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল। সেই সময়কালে আফ্রিকার বেশিরভাগ অংশই ইউরোপের শাসনাধীন ছিল। সেই সময় আফ্রিকা মহাদেশটিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে পোস্টকার্ডের এক আলাদা ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন সৈন্য, ধর্মপ্রচারক এবং পেশাদার ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আফ্রিকাকে দেখতে পেতো বিশ্বের মানুষ।

এখন “আফ্রিকার পোস্ট কার্ড” নামে এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আফ্রিকা মহাদেশের অতীতে পোস্টকার্ডের ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হবে এবং এটিকে নতুনভাবে ডিজাইন করা হবে। এ উদ্যোগটি মূলত নিয়েছেন জোহানেসবার্গের “থ্রু দ্য লেন্স কালেক্টিভ” নামক ফটোগ্রাফি স্কুলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ফটোগ্রাফার, মিশেল লুকিডিস এবং মিশেল হ্যারিস।

আফ্রিকা ও আফ্রিকার ফটোগ্রাফির ইতিহাসের উপর প্রধানত গুরুত্ব দিয়ে তারা আফ্রিকা মহাদেশের গল্প শিক্ষার্থীদের শুনাতে চান।

মে মাসে এ প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে, তারা আফ্রিকার ৩৮টি দেশের ৩,০০০ এরও বেশি জায়গায় গিয়েছেন। তাদের কাছে এ পোস্টকার্ডগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা মহাদেশের ইতিহাসের উপর মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে অনেকসময় ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়, ঠিক তেমনি ঐ সময় পোস্টকার্ডেও আফ্রিকা সম্পর্কে অনেক ভুল চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। লুকিডিস এবং হ্যারিস মনে করেন, মানুষের এ ভুল ধারণাগুলোকে ভুল প্রমাণিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক, ভিভিয়ান বিকফোর্ড স্মিথের মতে, ঔপনিবেশিক আমলে সাব-সাহারান আফ্রিকার পোস্টকার্ডগুলো মূলত দুই ধরনের কাজ করতো।

প্রথমত এটি দেখাতো কিভাবে মিশনারিরা আফ্রিকাকে সভ্য করে তুলেছে। মূলত শ্বেতাঙ্গ ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা আফ্রিকার সভ্য হওয়ার কাহিনি দেখাতো এই পোস্টকার্ডগুলো।

দ্বিতীয়ত এটি দেখাতো কী করে ঔপনিবেশিকতার দ্বারা আফ্রিকা পাশ্চাত্যের সংস্কৃতিকে ধারণ করেছে।

ঐ সময় প্রতি বছরই কয়েক হাজার পোস্টকার্ড পাঠানো হতো, যা বিশ্বের কাছে আফ্রিকাকে চিত্রায়িত করতো। আফ্রিকানদের পোস্টকার্ডে আদিবাসী পোশাকে উপজাতি মানুষদের দেখানো হতো। মহিলাদের দেখানো হতো অর্ধনগ্ন পোশাকে।

তবে পোস্টকার্ডের সাথে বাস্তবতার তফাৎ নির্ণয় করার জন্য বিশেষ কেউ ছিল না।

যদিও পোস্টকার্ডের যুগ অনেক আগেই শেষ, তবে লুকিডিস মনে করেন যে পোস্টকার্ডের দ্বারা আফ্রিকানদের ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আফ্রিকানরা অন্য মানুষদের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করে।

হ্যারিস এক্ষেত্রে লুকিডিসের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, “ইন্টারনেট ও ফটোগ্রাফির বদৌলতে এখন বহির্বিশ্বের মানুষেরা আফ্রিকার মানুষদের দৈনন্দিন জীবন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে অবগত হচ্ছে। নয়তো একসময় আমেরিকানদের ধারণা ছিলো আফ্রিকার রাস্তায় হয়তো হাতি, সিংহ দেখা যায়।”

হ্যারিস আরো বলেন, আফ্রিকান ফটোগ্রাফারদের কারণে বাইরের দেশের মানুষেরা আফ্রিকা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়েছে।

আই.কে.জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ