spot_img
27 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

পৃথিবীর যে শহরগুলোতে যেতে ভুলবেন না

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: সৌন্দর্য আর ভ্রমণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান কোনটি? এক বাক্যে বলা কঠিন। যদিও বলা হয় ইন্টারনেটের কারণে ছোট হয়ে আসছে বিশ্ব, তবুও ভ্রমণের গুরুত্ব কমেনি এতটকু।

আর সারা পৃথিবীতেই এমন অসাধারণ সব সুন্দর জায়গা রয়েছে, যেগুলোর ছবি দেখলে মনেই হবে না এগুলো পৃথিবীর কোনো জায়গা; যেন অপার্থিব গল্পের কোনো পটভূমি। আজ আমরা বেশ কয়েকটি সুন্দর স্থান নিয়ে সংক্ষেপে জানব।

. সান্তরিনি, গ্রিস

বিজ্ঞানীদের গবেষনণা মতে, লক্ষাধিক বছর আগে ইজিয়ান সাগরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বৃত্তাকার একটি দ্বীপের সৃষ্টি হয়। সময়ের বিবর্তনে সাধু আইরিনির নামানুসারে এর নাম হয়ে যায় সান্তরিনি। হ্যাঁ, আমরা গ্রিক আইল্যান্ড সান্তরিনির কথাই বলছি। সান্তরিনি গ্রিসের অন্যতম সুন্দর একটি দ্বীপ।

মূল ভূমি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইজিয়ান সাগরে অবস্থিত ছোট দ্বীপটি। সান্তরিনির বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট। পর্যটকদের কাছে এ দ্বীপ বিখ্যাত এর আর্কিটেকচারাল সৌন্দর্যের কারণে। দ্বীপের খাড়া বেয়ে নীল সাদার মিলনে ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সান্তরিনি আকর্ষণীয় জায়গা। বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সান্তরিনি ভ্রমণের আদর্শ সময়।

২.কেপিলান সাসপেনশন ব্রিজ, কানাডা

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের সবুজেঘেরা বনের মাঝে কেপিলান সাসপেনশন ব্রিজের অবস্থান। ১৮৮৯ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নর্থ ভানকোভারের কাপিলান নদীর ওপর সেতুটির অবস্থান।

১৪০ মিটার দীর্ঘ এই অপূর্ব সেতু নদী থেকে ৭০ মিটার উচ্চতায় ঝুলছে। জীবনে একবার হলেও ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরে আসতে চাইবেন কেপিলান সাসপেনশন ব্রিজে। তবে সেতুটির ওপর দিয়ে হেঁটে পার হওয়া খুবই ভয়ের।

ছবি-সংগৃহীত

. ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, জিম্বাবুয়ে

অপরূপ সুন্দর এই জলপ্রপাত জিম্বাবুয়ের সীমান্ত ও জিম্বাজি নদীর কোলঘেঁষে অবস্থিত। এর উচ্চতা ১০৮ মিটার ও চওড়ায় ১,৭০৩ মিটার। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯৩৫ ঘনমিটার জল পতিত হয় এই জলপ্রপাত থেকে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত এটি লোমহর্ষক কুয়াশার সৃষ্টি করে। জল পড়ার সময় প্রচণ্ড আওয়াজ সৃষ্টি করে বলে স্থানীয় ভাষায় এর নাম ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া’। এর অর্থ ‘বজ্রের ধোঁয়া’।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত থেকে জল পড়ার সময় জলীয় বাষ্পের মেঘ তৈরি হয়, যা প্রায় ৪০০ মিটার উচ্চতায় ভাসতে থাকে ও প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায়। অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রাকৃতিক নিদর্শনের অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য এখানকার জলীয় বাষ্পে আলো পড়ে রংধনুর সৃষ্টি হওয়া। শুধু দিনেই নয়, পূর্ণিমার রাতেও এই রংধনু দেখা যায়। ব্রিটিশ অভিযাত্রী ডেভিড লিভিংস্টোন ১৮৫৫ সালে এই জলপ্রপাত দেখে নামকরণ করেন রানি ভিক্টোরিয়ার নামে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত।

. ভেনিস, ইতালি

ইতালির অন্যতম সেরা পর্যটন নগরী ভেনিস পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের শহর। ভাসমান এ শহরটি দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন। ফলে ইতালি সরকারের অন্যতম আরেকটি আয়ের উৎস ভেনিস। উত্তর-পূর্ব ভেনেতো এলাকায় অবস্থিত ভেনিস।

এটি একসময় ছিল প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ও ‘প্রশান্ত অথবা শাসক’ হিসেবে পরিচিত ছিল জলকন্যাখ্যাত ভেনিস। এর উচ্চতা দুই মিটার সাত ফুট। স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ অনেক বেশি। তাই ভেনিসের সৌন্দর্য শুধু জলপথে। ভেনিসের জনসংখ্যা ছয় লাখ ৩৬ হাজার ২৪৪। দেশটি ভ্রমণ করতে প্রতি বছর দুই কোটি পর্যটন যান। এ শহরে প্রায় ১১৮টি দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে।

ছবি-সংগৃহীত

. রোম, ইতালি

বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত শহরগুলোর একটি রোম। ইতালির রাজধানী এ শহরের ইতিহাস হাজার বছরের। রোমকে পাশ্চাত্য সভ্যতার কেন্দ্র বলা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৭৫৩ শতকে শহরটি আবিষ্কার করা হয়। রোম পিলিওলিথিক যুগের প্রাচীন শহর। ইউরোপের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির এক অনন্য তীর্থভূমি রোম।

প্রাচীনকালে এখানে ছোট্ট জনপদ গড়ে উঠেছিল, যাকে সুসভ্য গ্রিকরা ইতালিয়া বলে ডাকতেন। ইতালি প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির সংমিশ্রণে রোমান সভ্যতার নগরী। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা সপরিবারে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন প্রাচীন এই নগরীতে। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ইতালির রোম পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম।

ছবি-সংগৃহীত

এসি/ আই. কে. জে/

আরো পড়ুন:

ইউরোপে বড়দিনের রাজধানী বলা হয় কোন শহরকে?

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ