spot_img
26 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

শিল্পকলায় শুরু ১০ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসব

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: পিঠার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে শীতে পিঠা বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিছুদিন আগেও শহুরে সংস্কৃতিতে পিঠার অবস্থান খুব নগণ্য হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন স্টলে বার্গার, পিত্জার জোয়ারে হারিয়েই যেতে বসেছিল পিঠা। কিন্তু ধীরে ধীরে ফিরে আসছে পিঠা। রাজধানীসহ নানা শহরে পিঠা উৎসব আয়োজনে মানুষ আগ্রহ নিয়ে আসছে। ফিরে আসছে পিঠা খাওয়ার ধুম। সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় পিঠা উৎসব পরিষদ যৌথভাবে আয়োজন করেছে পিঠা উৎসবের।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকের বাদ্যিতে বর্ণিল বেলুন আর শান্তির পায়রা উড়িয়ে ১০ দিনের এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নৃত্যগুরু আমানুল হক। প্রধান বক্তা ছিলেন পরিষদের সভাপতি ম. হামিদ। সভাপতিত্ব করেন পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সদস্য সচিব খন্দকার শাহ্ আলম প্রমুখ।

উৎসবের উদ্বোধন করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণসহ নানা কারণে এখন আর গ্রামে-গঞ্জে সেভাবে পিঠা উৎসব হয় না। সেই উৎসব এখন শহরে নানা আনুষ্ঠানিকতায় হচ্ছে। এটা ভালো দিক। অন্তত এই উৎসবের কারণে আমরা আমাদের গ্রামের সেই পিঠাপুলির ঘ্রাণ নিতে পারছি, স্বাদ নিতে পারছি। তবে, এ উৎসবকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারের উৎসবে প্রায় ৫০টি স্টলে প্রায় ২০০ পদের পিঠা নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার পিঠাশিল্পীরা। যার মধ্যে রয়েছে—ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, মেড়া পিঠা, মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, সুন্দরী পাকান, সরভাজা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, পাকান পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেজপাতা পিঠা, তেলের পিঠা, তেলপোয়া পিঠা, চাঁদ পাকান পিঠা, ছিট পিঠা, পানতোয়া, জামদানি পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, ঝালপোয়া পিঠা, ঝুরি পিঠা, ছাঁচ পিঠা, ছিটকা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধ চিতই, বিবিখানা, চুটকি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, ঝিনুক পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা, ফুল পিঠা, বিবিয়ানা পিঠা, সেমাই পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি, দুধরাজ, ফুলঝুরি পিঠাসহ আরও বাহারি সব নামের পিঠা। আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নানান রকমের বৈচিত্র্যময় স্বাদের এসব পিঠা ভোজনরসিকদের রসনায় জোগাবে ব্যতিক্রমী আনন্দ।

এদিকে, নানা রকমের বাহারি পিঠার সঙ্গে উৎসব আঙিনায় প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তারই অংশ হিসেবে উদ্বোধনী আয়োজন শেষে উৎসব মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা এ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবারের এ পিঠা উৎসবে সহযোগিতা করছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি লিমিটেড।

এম/

আরো পড়ুন:

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে কে কখন বয়ান করবেন

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ