spot_img
24 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***মায়ানমারের প্রতি কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে চীন***ঐশ্বরিয়া, বিক্রম অভিনীত ‘পোন্নিয়িন সেলভান ২’ আসছে***ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দর কিনে নিল আদানি গ্রুপ***নারীদের উপর বৈষম্য পাকিস্তানকে সাব-সাহারা দলভুক্ত করেছে***গোপালগঞ্জে ৫০ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পেলো স্কুল পোশাক***অনলাইন অধ্যয়নের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিয়েছে চীন***নতুন বাজেট উন্নত ভারতের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে : নরেন্দ্র মোদী***পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণ: গোয়েন্দা প্রধানের অপসারণ দাবি পাকিস্তানিদের***২৬ জনকে চাকরি দেবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান***ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে আনোয়ার গ্রুপ

পাস নাম্বার ৩৩ হলো কেমন করে?

- Advertisement -

ডেস্ক নিউজ, সুখবর ডটকম: পরীক্ষা এলেই মনে দুশ্চিন্তা বাসা বাঁধে। পরীক্ষায় ভালো না-করলেও অন্তত ৩৩ পাওয়ার আশা করেন অনেক শিক্ষার্থী। কারণ ১০০ নাম্বারের মধ্যে ৩৩ পেলে পাস। এর কম পেলে ফেল!

কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন পাস নাম্বার ৩৩ কেন? কীভাবে কবে থেকে চালু হলো এই নিয়ম?

এ প্রসঙ্গে বহুল প্রচলিত মতবাদ এই যে, ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ক্ষমতা নেয় ইংরেজ। সেই থেকেই নানা নিয়ম চালু করতে থাকে তারা। ১৮৫৮ সালে উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ম্যাট্রিকুলেশন চালু হয়। তবে এর মানদণ্ড বা পাস নাম্বার কী হবে এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান কর্তারা। পাস নাম্বার নির্ণয় করতে ব্রিটেনে চিঠি পাঠায় বাংলায় নিযুক্ত ইংরেজ কর্তারা।

সে সময় ব্রিটেনে পাস নাম্বার ছিল ৬৫। ইংরেজরা সারা দুনিয়া সে সময় শাসন করতো। তখন ইংরেজ সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা ছিল যে ‘The people of subcontinent are half as intellectual and efficient as compared to the British’ অর্থাৎ বুদ্ধি ও দক্ষতায় ইংরেজদের তুলনায় উপমহাদেশের মানুষকে অর্ধেক মনে করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় পাস নাম্বার ৩২.৫ করা হয়। কিন্তু ৩২.৫ হিসাব করে খাতা দেখতে অসুবিধে হওয়ায় ১৮৬১ সালে পাস নাম্বার করা হয় ৩৩। সেই থেকেই এই নিয়ম চলে এসেছে।

এই মত সমর্থন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, পাস নাম্বার ৩৩ দুইশ বছর আগে থেকেই। আমাদের দেশে যখন রানী ভিক্টোরিয়া দায়িত্ব নিলেন তখন সিপাহী বিল্পব ঘটে গেলো এবং বলা হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কাজ করতে পারছে না। তখন রানী দায়িত্ব নিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশে মেট্রিকুলেশন চালু হলো ১৮৫৮ সালে। কিন্তু পাস নাম্বার কী হবে এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেল সবাই। তখন এ দেশীয় ইংরেজরা ব্রিটেনে চিঠি লিখে মতামত জানতে চাইলো। তখন ব্রিটেনে পাস নাম্বার ছিল ৬৫। তাদের ৬৫ থেকে আমাদের অর্ধেক মানে ৩২.৫ করে দেয়া হলো। ৩২.৫ নিয়ে নানা ঝামেলা হওয়ায় ১৮৬১ সালে পাস নাম্বার ৩৩ করা হয়।

এই উপমহাদেশের মানুষের মেধা ইংরেজদের অর্ধেক- এমন ভাবা হতো কথাটি সঠিক নয় উল্লেখ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, এটি এক ধরনের গ্রেডিং সিস্টেম। গ্রেডিং সিস্টেমের জন্যই এভাবে নাম্বারিং করা হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক নেই।

প্রায় একই কথা বলেছেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। তার ভাষ্য ‘আগে ফার্স্ট ডিভিশন ধরা হতো ৬০, ৬০ এর অর্ধেক হলো ৩০ এবং ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড এই ৩ ডিভিশন থেকে এক এক এক করে নিয়ে করা হয়েছে ৩৩। এটা ব্রিটিশ আমলেই করা হয়েছে। এরপর ৩০ এর সঙ্গে ১৫ যোগ করে সেকেন্ড ডিভিশন ৪৫ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ইংরেজরা করে গিয়েছে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা নেই। তবে ব্রিটেনের শিক্ষিত সমাজ এ দেশের পাস নাম্বার কত হবে তা নির্ধারণ করেছেন। শুনেছি সে সময় ব্রিটেনে ৬৫ মার্কস পেলে পাস ধরা হতো। তাই আমাদের ৩৩ করা হয়েছিল।

এম এইচ/ আই. কে. জে/

আরও পড়ুন:

এসএসসিতে এগিয়ে থাকলেও উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম কেন?

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ