spot_img
27 C
Dhaka

২৯শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

পাক-চীন বৈঠক : ঋণের ব্যাপারে চীনের মৌনতা

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎকার করে দেশে ফিরে এসেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি সেখান থেকে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে এসেছেন। কিন্তু মূলত যে কারণে তার চীন ভ্রমণ অর্থাৎ দেশের ঋণের ব্যাপারে চীনের সাথে কথা বলা, সে আলোচনাটিই তিনি করেননি।

এ দুইদিনের বৈঠকে অর্থপ্রদান, ভূমি অধিগ্রহণ, বিলম্বিত প্রকল্প এবং নিরাপত্তাজনিত পুরাতন সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়েই আলোচনা হয়েছে। শরীফ বা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে বিবৃতি দেন তাতে নতুন কিছুই ছিল না। পাকিস্তানের ঋণের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনাই শরীফ সেখানে করেননি। নির্বাচনী বছরে এ বিষয়টি শরীফ এবং তার নির্বাচনী দলের বিরুদ্ধেই কাজ করবে।

পাকিস্তানকে আগামী জুনের মধ্যে চীনকে ৯.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। পরবর্তী অর্থবছরে দেশটিকে ২০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

ঋণে জর্জরিত পাকিস্তানের অবস্থা যেন শ্রীলঙ্কার মতো না হয় সেজন্য শরীফ চীনের সহযোগিতা আশা করছিলেন। তবে চীনারা এসব বিষয়ে আগ্রহী নয়। বরং তারা নতুন প্রকল্প এবং চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতেও আগ্রহী ছিল।

যদিও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শরীফকে অর্থনৈতিক মন্দায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। শরীফ আগামী বছরের ভেতরেই সমস্ত ঋণ পরিশোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কারণ এই ঋণ পরিশোধ করতে দেশ ব্যর্থ হলে এর দায় তার উপরেই বর্তাবে এবং তা পরবর্তী নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে।

ঋণ পরিশোধের জন্য শরীফ কি চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন এ ব্যাপারটি এখনো অস্পষ্ট। তবে ধারণা করা যায় যদি তিনি সহযোগিতা চেয়েও থাকেন তবুও চীন হয়ত সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছে।

১০ মিলিয়ন ডলারের উচ্চ গতির রেল প্রকল্পই এই সফরের একমাত্র সাফল্য। এই আধুনিক প্রকল্পের জন্য চীন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যোগানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শি জানান, মেইনলাইন-১ রেলওয়ে আপগ্রেডিং প্রকল্প এবং করাচি সার্কুলার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দুইটি দেশকেই একত্রে কাজ করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সিপিইসি কে পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি গোয়াদর সমুদ্র বন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন। বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অন্যান্য খাতে তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি পাকিস্তানের উপর জোর দেন। শরীফ প্রস্তাবিত সৌর শক্তি প্রকল্পের ব্যাপারে তার বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়নি। ঋণ পরিশোধের বিলম্বের জন্য শরীফ দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে যত দ্রুত সম্ভব ঋণ পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। দুই দেশ চীনা মুদ্রায় লেনদেন সম্পন্ন হবে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

তবে চীনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাহায্য না পেলে আগামী বছর ঋণ পরিশোধের জন্য পাকিস্তানকে পশ্চিমা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ঋণদাতাদের কাছে হাত পাততে হবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ