spot_img
25 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

পাকিস্তানে জোরপূর্বক ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য সংখ্যালঘু নাবালকেরা

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: কানাডা-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর রাইটস অ্যান্ড সিকিউরিটি (আইএফএফআরএএস)-এর রিপোর্ট মোতাবেক, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির মধ্যে নাবালকদের ওপর নৃশংসতার বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে নজরে পড়ে না। ঠিক এই কারণেই পাকিস্তানের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ও মেয়েরা ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তনের সম্মুখীন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হচ্ছে।

দক্ষিণ এশীয় এ দেশটির সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারণ তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সংখ্যালঘু ছেলে ও মেয়েদের পাকিস্তানে প্রতিনিয়ত অপহরণ করে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদেরও প্রায়শই জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।

২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, এ বিষয়ে বার্ষিক প্রায় এক হাজার মামলা রিপোর্ট করা হয়েছিল। সিন্ধুর সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়, হায়দরাবাদে চন্দা মেহরাজ যখন বাড়ি ফিরছিল তখন তাকে অপহরণ করা হয়।

পৃথকভাবে, জ্যাকোবাবাদে একটি ১৩ বছর বয়সী শিখ ছেলেকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার করা হলে তারা থানা থেকে পালিয়ে যায়।

২০২১ সালের নভেম্বরে ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার ওপর অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন সদস্য ফারাহনাজ ইস্পাহানি বলেছেন, “জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ একটি অত্যন্ত জঘন্য কাজ। তবুও এখানে একদল লোকেরা অল্পবয়সী মেয়েদেরকে সহিংসতা ছড়ানোর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়। তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অল্পবয়সী মেয়েদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে এবং তাদের লালসা মেটাতে ব্যবহার করে।”

“পাকিস্তান ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার কথা শুধু মুখেই বলে কিন্তু কাজে করে দেখাতে পারে না। তাদের প্রতিশ্রুতি এতোটাই ঠুনকো যে এখন বিশ্বব্যাপী পাকিস্তান সরকার হাসির পাত্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান সরকার চরমপন্থা নিয়ে কথা বলতে কিংবা এর নিন্দা করতেও অপারগ। খ্রিস্টান, হিন্দু এবং আহমদীরা এদেশের সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত জাতি। এদের উপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করা হয় এ দেশে। সরকারের এত এত প্রতিশ্রুতির পরেও এ অত্যাচার একটুকুও কমেনি।

“জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এখন পাকিস্তানে সহিংসতা ছড়ানোর এবং সমগ্র সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার প্রাথমিক রূপ। জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বেশিরভাগ ঘটনাই রিপোর্ট করা যায় না, কারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে। এরকম ঘটনার শিকার হওয়া পরিবারগুলো মানসিক আঘাত নিয়ে বেঁচে থাকে কিংবা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

সংখ্যালঘু এবং এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটানোর জন্য কঠোর ধর্মীয় অবমাননা আইনের অপব্যবহার পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়।

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত ধর্মীয় অবমাননা, জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং অন্যান্য সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের নামে অমানবিক বর্বরতার শিকার হচ্ছে।

আরো পড়ুন:

ধর্মীয় অবমাননার মামলায় আটককৃত মহিলার উপর বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ