spot_img
26 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল টিটিপি ইসলামাবাদের গলার কাঁটা?

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর ভয়ে ইসলামাবাদ জর্জরিত হয়ে আছে। কারণ এ সংগঠন সরকারের কথা অমান্য করে সারাদেশে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।

টিটিপি এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, তারা জুন মাসে সরকারের সাথে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যেহেতু বিভিন্ন এলাকায় মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, সেহেতু তারাও আর যুদ্ধবিরতি মানবে না। সমগ্র দেশে যেখানেই সম্ভব তারা আক্রমণ চালাবে।

২০০৬ সাল থেকে টিটিপি প্রায় ৮৩ হাজার নিরপরাধ জনগণকে হত্যা করেছে। শুধু তাই নয়, তারা অনেক মানুষকে বাড়িছাড়া করেছে এবং দেশের উন্নয়নে বাধা প্রদান করেছে।

পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফলে জনদুর্ভোগকে অনেকাংশেই উপেক্ষা করে আসছে সরকার। তার উপরে রয়েছে দেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে সহিংস জঙ্গি গোষ্ঠী টিটিপি-এর সহিংসতা।

টিটিপি একটি পাকিস্তানি শাখা, যা আফগান-তালেবানদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ কর্তৃক বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেও তালিকাভুক্ত।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ৪০০০ থেকে ৬৫০০ জন সন্ত্রাসী রয়েছে। এই সন্ত্রাসীদের বিস্তার উপজাতীয় এলাকাগুলো ছাড়িয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

১৬ নভেম্বর, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৬ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানায়, ঘটনাটি ঘটেছিল যখন পেশোয়ারের প্রাদেশিক রাজধানী থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) দূরে লাকি মারওয়াত শহরে পুলিশের গাড়ির উপর গুলি চালানো হয়।

অন্য একটি ঘটনায়, বাজাউরের হিলাল খেলা এলাকায় সন্ত্রাসীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই ধরনের সংঘর্ষ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। জঙ্গিবাদ দমনে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের ব্যর্থতা জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে।

জনগণের অভিযোগ সরকার টিটিপি সন্ত্রাসীদের দমন ও নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিদেশী পর্যবেক্ষকরা সন্ত্রাসবাদী এবং সরকার, সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় শ্রেণীর মধ্যে এই যোগসাজশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টিটিপি এর অধিকাংশ সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তানে বিতাড়িত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন ইসলামাবাদের দাবি যে কাবুল টিটিপি সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানের উপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

তাছাড়া, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, আফগানিস্তানে মহিলাদের প্রতি অশোভন আচরণ করা হয়। তাছাড়াও জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনাও বেড়েই চলেছে। ফলে বিশ্ববাসী আফগানিস্তানের উপর বিরক্ত।

জারদারি কাবুলের ইসলামপন্থী শাসকদের আহ্বান জানান যেন তারা আন্তজার্তিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ করে দেয় এবং সমস্ত নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষা করে।

তবে পাকিস্তানও সন্ত্রাসবাদ দমনে সমানভাবেই ব্যর্থ। আর তাই বিশ্ববাসী পাকিস্তানের উপরেও চরম বিরক্ত।

টিটিপি’র যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) গত সোমবার, সরকারের সাথে তাদের জুন মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করে সন্ত্রাসীদের সারাদেশে হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়।

এ ব্যাপারে তারা জানায়, যেহেতু সারাদেশে মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলছে, তাই তারাও সমগ্র দেশে আক্রমণ চালাবে।

টিটিপি, আফগানিস্তানের তালেবান থেকে আলাদা একটি সত্তা। কিন্তু তাদের ইসলামপন্থী মতাদর্শ এক। ২০০৭ সালে আবির্ভূত হওয়ার পর এটি শত শত হামলা চালিয়েছে এবং হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে।

সামরিক সংস্থাগুলি বান্নুর লাকি মারওয়াত জেলায় ধারাবাহিক আক্রমণের সূচনা করার পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিষিদ্ধ গোষ্ঠীটি জানায়, তারা বারবার পাকিস্তানের জনগণকে সতর্ক করেছে। কিন্তু সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থামেনি ও আক্রমণ চালিয়েছে। তাই এবার তারা সবকিছুর প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়বে।

এ ব্যাপারে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা এখনো কোন মন্তব্য করে নি।

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের প্রথম আলোচনা গত বছরের অক্টোবরে শুরু হলেও ডিসেম্বরে এসে তা ভেঙ্গে যায়।

আফগানিস্তানের নতুন তালেবান শাসকেরা শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার পর তারা এই বছরের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

পরবর্তীকালে, সেনাবাহিনীর সাথে টিটিপি গোষ্ঠীর যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর থেকে টিটিপির হামলা বেড়েই চলেছে৷ বেশিরভাগ হামলার ঘটনা ঘটেছে ডেরা ইসমাইল খান, ট্যাঙ্ক, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান এবং কেপির উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলসমূহে।

গত অক্টোবরে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে জানিয়েছিলেন যে, টিটিপি ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থবির হয়ে আছে, ফলে তা সারাদেশে উদ্বিগ্নতা ছড়াচ্ছে।

দুই সপ্তাহ আগে টিটিপি উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে এক অতর্কিত হামলায় ছয় পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। ফলে গত শুক্রবার থেকে সামরিক বাহিনী জঙ্গীদের নির্মূল করার জন্য এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং হেলিকপ্টার দিয়ে তাদের আস্তানায় গোলাবর্ষণ করছে।

টিটিপি ২০০৭ সালে জিহাদিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই জিহাদিরাই ৯/১১ এর পর আমেরিকান হস্তক্ষেপের জন্য ইসলামাবাদের সমর্থনের বিরোধিতা করে এবং ১৯৯০ এর দশকে আফগানিস্তানের তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

২০১৪ সালে টিটিপি শিশুদের একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৫০ জনকে হত্যা করলে সেনাবাহিনী টিটিপিকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর হয়।

তাদের অধিকাংশকেই আফগানিস্তানে বিতাড়িত করা হলেও, আফগানিস্তানের তালেবানেরা তাদের পাকিস্তানের উপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে বলে পাকিস্তানের অভিযোগ।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ