spot_img
20 C
Dhaka

৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের আরো সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত : থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক

- Advertisement -

 

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

এশিয়া-প্যাসিফিক ফাউন্ডেশন থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিচালক ডা. সজ্জন এম গোহেন এবং এশিয়া-প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের একজন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মার্কাস অ্যান্ড্রোপোলোস বলেন, পাকিস্তানের ইচ্ছা পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহর প্রদান করার পর বাইডেন প্রশাসন আশা করছে যে এটি বাইরের হস্তক্ষেপ থেকে ভঙ্গুর শাসক জোটকে সহায়তা করবে। তবে এটি অবিচল থাকা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কৌশল মাত্র।

বাইডেন প্রশাসন দেশের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর বর্তমান সক্ষমতাকে বাড়াতে পাকিস্তানকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এটি ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্ককে নতুন ধারা দিয়েছে। গত চার বছরে এটিই পাকিস্তানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা।

তবে এফ-১৬ এর বর্তমান পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে বলা যায় এটি কি আদৌ ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সমস্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ কর‍তে সক্ষম হবে- এ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। যদিও উত্তর হতাশাজনকই হবে৷ কারণ একাধিক মার্কিন কর্মী জানেন পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ঠিক কতোটা ভয়াবহ। সবকিছু জেনেই তারা পাকিস্তানকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান। সেইসাথে যখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় তখন আবার সহযোগিতা থেকে সরেও যায়। অবশ্য এই ব্যাপারটি এখন পাকিস্তান নিজেও উপলব্ধি করতে পারছে।

পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি দেশটিকে ক্রমান্বয়ে গ্রাস করে ফেলছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তবে এতকিছুর মধ্যেও এফ-১৬ এর ব্যাপারটি কিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে তার উপরে নির্ভর করছে অনেক কিছুই। যেমন, পরমাণু সংঘাত, প্রচলিত যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ও চীনা প্রভাবের অন্তর্ভুক্ত থেকে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

তবে পাকিস্তানের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে বুঝা যায় এই এফ-১৬ এর ব্যবহার পাকিস্তান হয়তো বা ভারতের বিরুদ্ধেই করতে পারে। তবে আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার জন্যে এর ব্যবহার করাটাও আশ্চর্যজনক কিছু হবে না। সুতরাং ভারত হোক কিংবা আফগানিস্তান দুইটি দেশের বিরুদ্ধেই পাকিস্তানের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।

তবে এফ-১৬, পাকিস্তানের পঙ্গু অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের সমাধান না করে বরং এর স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক বেসামরিক শাসনের উপর সামরিক অস্বচ্ছতা ও অস্থিরতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে গোহেল ও আন্দ্রেওপোলাসের বক্তব্য হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত পাকিস্তানকে এফ-১৬ বহর সরবরাহ করা অতি দ্রুত বন্ধ করা। পাকিস্তানের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত। এমন অবস্থায় এ দেশকে আরো অস্ত্র সরবরাহ করা হিতে বিপরীত হতে পারে। পরবর্তীতে দেখা যেতে পারে পাকিস্তান এসব অস্ত্রশস্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছে।

তাছাড়াও পাকিস্তানের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে পারমাণবিক ঝুঁকিও লক্ষ্য করা যায়।

পাকিস্তানের সাথে ভারতের বর্তমান যে সম্পর্ক তার উপর ভিত্তি করেই বলা যায়, এই এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানকে রক্ষা করতে নয়, বরং ভারতকে ধ্বংস করার জন্যেই ব্যবহার করা হবে। এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

তবে তার এ বক্তব্য একদম ভিত্তিহীন নয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই দেখা যায়, জম্মু ও কাশ্মিরে জইশ-ই-মুহাম্মদ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি বোমা হামলায় ৪০ জন ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়। এ ঘটনার পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিক্রির শর্ত লঙ্ঘন করেই চীনে নির্মিত জেএফ-১৭ এর বিপরীতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলা জানা যায়।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ