spot_img
30 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৫ই অক্টোবর, ২০২২ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

পবিত্র কোরআন বুঝতে আরবি শিখেছিলেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: রাজা হওয়ার পর থেকে তৃতীয় চার্লসের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ইসলাম ধর্মের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৩ বছর বয়সী চার্লস কয়েক দশক ধরেই আলোচনায় রয়েছে। তবে ডায়নার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরই বেশি আলোচিত হন তিনি। এছাড়া নতুন এই ব্রিটিশ রাজা জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনীতি এবং ধর্মসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে নিজের মতামতের জন্যও সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কেও চার্লস বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন । ওই সব অনুষ্ঠানে খোলাখুলিভাবে মুসলিম ধর্মের প্রশংসা করেছেন।

ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ মুসলমানের সঙ্গে ‘চার্লস’-এর রয়েছে অন্যরকম সম্পর্ক । কিন্তু এর কারণ কী?

মধ্যযুগীয় ইসলামি শাসন এবং মুসলমানদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের ব্যাপারে অবগত থেকে সবসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এসেছেন রাজা চার্লস। তিনি মনে করেন, ইসলাম ইউরোপিয়ান ইতিহাসেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। আধুনিক ইউরোপ গঠনে এর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তার বিশ্বাস, ইসলাম অতীত এবং বর্তমানে মানবজাতির সকল প্রকার উদ্যোগ এবং উন্নতির সঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে।

ইংরেজ লেখক ‘মার্টিন লিংস’, যিনি পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তার একনিষ্ঠ ভক্ত ‘চার্লস’। মার্টিনের লেখা ইসলামের সবশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে জীবনীগ্রন্থের বেশ প্রশংসা করেছেন তিনি। আর এই লেখকের মাধ্যমেই চার্লস ইসলামের চেতনা এবং সুফিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।

ইসলাম ধর্মের প্রতি বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে ‘ক্যামব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদের’ পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি পবিত্র কোরআন বোঝার জন্য আরবি ভাষা শিখেছেন। রাজপরিবার থেকে তিনিই প্রথম, যিনি স্রোতের বিপরীতে এসে এমন চেষ্টা করেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মুসলিম কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ‘জারা মোহাম্মদ’ এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাজা তৃতীয় চার্লসই ইংল্যান্ডের মুসলিমদের বন্ধু। তিনি দেশের অসংখ্য মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া চার্লস সবসময়ই ইংল্যান্ডে মুসলমানদের মঙ্গলের জন্য কাজ করেছেন। কাজ করেছেন ইসলামকে সুন্দরভাবে বুঝতে, সবার মাঝে সম্প্রীতি ধরে রাখতে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে ব্যঙ্গ করে ২০০৫ সালে একটি ড্যানিশ কার্টুন প্রকাশিত হয়েছিল। ২০০৬ সালে মিশরের কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সফরের সময় সেই ঘটনার সমালোচনা করেছিলেন রাজা তৃতীয় চার্লস।

এ বছর রমজান মাসের শুরুতে মুসলমানদের প্রতি দেয়া শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, রোজা পালনের রীতি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। রমজান শুধু উদারতাই নয়, সংযম, কৃতজ্ঞতা ও একসঙ্গে নামাজ পড়া থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া মুসলিমদের আতিথেয়তায় তার মুগ্ধতার কথা এবং রোজার মাসে তাদের দানশীল মনোভাব সবার জন্যই শিক্ষণীয় বলে জানান।

যুবরাজ থাকাকালীন মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধ মুছে দেয়ার পক্ষে কথা বলে এসেছেন ‘চার্লস’। তার মাঝে এসবের কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি ১৯৯৩ সালে ‘অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে’ বক্তৃতা করেন, যা সে সময় বেশ আলোচিত হয়। তার বক্তব্য ছিল: ‘পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম নিয়ে অনেক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ আছে। এ ছাড়া  বিশ্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতায় ইসলামের অবদান সম্পর্কেও আমাদের অনেক অজ্ঞতা রয়েছে। এটি আমাদের একটি ব্যর্থতা, ইতিহাস থেকেই সরাসরি যা আমাদের চিন্তাধারায় এসেছে।’

এ ছাড়া ইসলামের ইতিহাস নিয়ে গবেষণারত ব্লগার ‘পল উইলিয়ামস’ জানান, ইংল্যান্ডের বর্তমান রাজা চার্লস মুসলিম না হলেও ইসলামের প্রতি আগে থেকেই তার সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নানা ইতিবাচক মন্তব্যই প্রমাণ করে দেয় যে, ইংল্যান্ডের মুসলিম কমিউনিটির কাছে তিনি যোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

১৯৯৩ সালে অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে দেওয়া আলোচিত এক বক্তৃতার সময় রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছিলেন,  ইসলামিক বিশ্বের কাছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং সভ্যতার ঋণ সম্পর্কেও (আমাদের) অনেক অজ্ঞতা রয়েছে। এটি একটি ব্যর্থতা বলেই আমি মনে করি। ইতিহাস থেকে যা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।

সূত্র: আল জাজিরা

আরো পড়ুন:

রাজহাঁস হতে শুরু করে রত্নরাজি, উত্তরাধিকার সূত্রে যা পাবেন চার্লস

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ