spot_img
31 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৭ই অক্টোবর, ২০২২ইং, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

পদ্মা সেতুর কল্যাণে সকালে তোলা পেয়ারা বিকেলে ঢাকায়

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: পিরোজপুরের নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠি) আড়তদার আব্দুল হক গতকাল সকালে এক ট্রাক পেয়ারা ঢাকায় পাঠান। ট্রাকটি দুপুর ১২টার আগেই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পৌঁছে যায়। ঢাকার আড়তদারদের মাধ্যমে বিকেলের মধ্যেই তা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে গেছে। সেদিনই সেই তাজা পেয়ারার স্বাদ নিতে পেরেছেন রাজধানীবাসী। পদ্মা সেতুর সুবাদে আব্দুল হকের মতো স্বরূপকাঠির অনেক আড়তদারের পেয়ারার ট্রাক প্রতিদিন দুপুরের আগেই ঢাকা শহরে পৌঁছাচ্ছে। গত মৌসুম পর্যন্ত বাগান থেকে তোলার পরদিন এখানকার পেয়ারা পৌঁছাত রাজধানীতে।

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে কৃষিপণ্যের প্রথম সুফলভোগী হলেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার পেয়ারা চাষিরা। এ দুই এলাকা পেয়ারার রাজ্য নামে সারাদেশে পরিচিত। এখানকার আঁকাবাঁকা খালের দুই পাড়ে হাজার হাজার একর জমিতে রয়েছে পেয়ারা বাগান। এসব বাগান দুই শতাধিক বছরের ঐতিহ্য বলে জানান চাষিরা। তাদের তথ্যমতে, পেয়ারার মৌসুম সবেমাত্র শুরু হয়েছে। পেয়ারা বেচাকেনার পাশাপাশি যথারীতি সারাদেশ থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন পেয়ারা বাগান ভ্রমণে। ফলে আগামী তিন মাস পেয়ারা মৌসুমে দারুণ চাঙ্গা থাকবে এখানকার অর্থনীতি।

নেছারাবাদের মাহমুদকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল হক বলেন, তিনি স্বাধীনতার পরপরই ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে পেয়ারা ব্যবসায় জড়িয়েছেন। সে হিসাবে তার ব্যবসার বয়স অর্ধশত বছর পেরিয়েছে। পাইকারি দরে ফলটি কিনে তিনি ঢাকায় পাঠান। তিনি বলেন, ৬০-৭০ দশকে ঢাকায় পেয়ারা পাঠানো হতো লঞ্চে। আশির দশকে ঝালকাঠি থেকে স্টিমারে তুলে দেওয়া হতো পেয়ারা। নব্বই দশকে বানারীপাড়ার জম্বুদ্বীপ থেকে প্রতিদিন দু-চারটি পিকআপে ঢাকায় পেয়ারা পাঠানো শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালে মিনিট্রাক এবং ২০১৯ সাল থেকে বড় ট্রাকের ব্যবহার শুরু হয়।

এখানকার আড়তদারদের মতে, লঞ্চ-ট্রাক যে পথেই পাঠানো হোক, ঢাকার ভোক্তাদের কাছে পেয়ারা পৌঁছাত এক দিন পরে। দ্রুত পচনশীল পণ্য হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে পেয়ারার রং-স্বাদ নষ্ট হতো। পচে যেত অর্ধেক পেয়ারা। এতে চাষিরা ন্যায্য দাম পেতেন না। পদ্মা সেতুর কল্যাণে এখন সকালে গাছ থেকে সংগৃহীত পেয়ারা দুপুরের আগেই পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকায়। এতে রং-স্বাদ দুটিই থাকছে অটুট।

পেয়ারার পাইকারি বেচাকেনার অন্যতম মোকাম ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলি বাজার। পেয়ারার মূল রাজ্য স্বরূপকাঠির আটঘর-কুড়িয়ানার পাশেই এই গ্রামটি। ঢাকার ব্যবসায়ী অপূর্ব মিস্ত্রী ভীমরুলিতে এসেছেন পেয়ারা কিনতে। তিনি বলেন, প্রতি কেজি পেয়ারা কিনেছেন ১৮ টাকা দরে, যা ঢাকা ও খুলনায় ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারবেন। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ফলটির বাজারজাত সহজ হওয়ায় কৃষক ও আড়তদার দু’পক্ষই লাভবান হচ্ছেন। ভীমরুলির চাষি সুদেব হালদার জানান, তিনি ৫০ একর জমিতে পেয়ারা বাগান করেছেন। ফলনের পুরোটাই ঢাকায় পাঠাবেন। ২০ টাকা কেজি দর পেলেই তিনি খুশি।

আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের কটুরাকাঠি গ্রামের প্রবীণ চাষি বঙ্কিম চন্দ্র মণ্ডল জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে ব্রাহ্মণকাঠি গ্রামের কালীচরণ মজুমদার প্রথম এই অঞ্চলে পেয়ারা আবাদ করেন। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আটঘর-কুড়িয়ানা ও জলবাড়ি ইউনিয়নের ২২ গ্রামে ৮০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। পাশের ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার গাভা ইউনিয়নেও এখন পেয়ারার আবাদ হয়। ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ জানান, তার এলাকায় ১২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। এ বছর প্রতি হেক্টরে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ১০ টন।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চপল কৃষ্ণ নাথ বলেন, চাষিরা তাকে জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর কারণে সরাসরি ঢাকায় পেয়ারা যাওয়ায় এবার দাম একটু বেশি পাবেন। এ বছর ১৫ থেকে ২০ দিন বিলম্বে ফলন ধরায় পেয়ারার ভরা মৌসুম হবে আগামী আগস্টে। আমের মৌসুম শেষ হওয়ায় পর পেয়ারা বাজারে আসায় বেশি দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী চাষিরা। নেছারাবাদে সাড়ে ৬০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে জানান তিনি।

আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এতদিন বিপণন ব্যবস্থা ভালো ছিল না। ফলে চাষিরা পেয়ারা ন্যায্য দাম পেতেন না। পদ্মা সেতু চাষিদের সেই দুঃখ ঘুচিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

চিলিতে ১৬ ফুটের দানবাকৃতির মাছ!

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ