spot_img
22 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

পটচিত্র: বাংলার গৌরবময় শিল্পকলার ধারক

- Advertisement -

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল:

বাংলা ভাষাভাষী অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে পরিচিত প্রাচীন বাংলার অন্যতম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য “পটচিত্র”। পট বা বস্ত্রের উপর আঁকা একপ্রকার লোকচিত্র-ই হলো পটচিত্র। প্রাচীনকালে যখন কোনও রীতিসিদ্ধ শিল্পকলার অস্তিত্ব ছিল না, তখন এই পটশিল্পই বাংলার শিল্পকলার ঐতিহ্যের বাহক ছিল। যারা পটচিত্র অঙ্কন করেন তাদেরকে পটুয়া বলা হয়। এই পটুয়ারা পেশাদার শিল্পী, যারা তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য ছবি আঁকতেন। প্রাচীন বাংলায় যখন কোনও দরবারি শিল্পের ধারা গড়ে ওঠেনি তখন পটচিত্রই ছিল বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক।

পট শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো কাপড়। শব্দটি সংস্কৃত “পট্ট” থেকে এসেছে। বর্তমানে এই শব্দটিকে ছবি, ছবি আঁকার মোটা কাপড় বা কাগজের খন্ড ইত্যাদি অর্থেও ব্যবহার করা হয়। পটের উপর তুলির সাহায্যে রং লাগিয়ে বস্তুর রূপ ফুটিয়ে তোলাই পট চিত্রের মূলকথা। এতে কাহিনী ধারাবাহিকভাবে চিত্রিত হতে থাকে। অন্তত আড়াই হাজার বছর ধরে পটচিত্র এ উপমহাদেশের শিল্প জনজীবনের আনন্দের উৎস, শিক্ষার উপকরণ এবং ধর্মীয় আচরণের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। বাংলাদেশের পটচিত্রের মধ্যে গাজীর পট ও পশ্চিমবঙ্গের পটচিত্রের মধ্যে কালীঘাটের পট উল্লেখযোগ্য।

পট মূলত দুই ধরনের রয়েছে। যথা:

জড়ানো পট: এ ধরনের পট ১৫-৩০ ফুট লম্বা এবং ২-৩ ফুট চওড়া হয়।

চৌকা পট: এগুলোর আকারে ছোট হয়।

কাপড়ের উপর গোবর ও আঠার প্রলেপ দিয়ে প্রথমে একটি জমিন তৈরি করা হয়। সেই জমিনের উপর তুলি দিয়ে বিভিন্ন চিত্র অঙ্কিত হয়। তুলি হিসেবে ব্যবহৃত হয় কঞ্চির ডগায় পশুর লোম বা পাখির পালক।

পটের প্রকারভেদ

বিষয়বৈচিত্র অনুসারে সংগৃহীত পটগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে; যেমন- চকসুদন পট, যমপট, সাহেবপট, কালিঘাটপট, গাজিপট, সত্যপীড়েরপট, পাবুজীপট ইত্যাদি। সাধারণভাবে পটকে ছয়ভাগে বিভক্ত করা যায়। সেগুলি হল – বিষয়নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, ধমীয়, সামাজিক এবং পরিবেশগত।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে বিষয়নিরপেক্ষ পটগুলির মধ্যে যে কোনও ধরনের নর ও নারীর ছবি অথবা শিল্পচিত্র দেখা যায় এবং সামাজিক পট বলতে বোঝায় সামজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য যে পটচিত্রগুলি অঙ্কণ করা হয় সেগুলি। যেমন- পোলিও টীকাকরণ অভিযান, ম্যালেরিয়া দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র, বৃক্ষরোপণ, এইডস সন্মন্ধীয় সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার ও নারীনিগ্রহ বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত পটচিত্রগুলি।

ইতিহাস

বৈদ্যুতিক মাধ্যমের সূত্রপাতের ফলে বাংলার প্রাচীন প্রথাগুলির বেশিরভাগ অবলুপ্ত হয়ে পড়লেও পটচিত্রের ক্ষেত্রে এটি সত্যি নয়। পটচিত্রের সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। গ্রামীণ বাংলায় পটুয়ারাই দীর্ঘদিন যাবৎ পট তৈরি করে আসছেন। এই পটুয়ারা চিত্রশিল্পী জাতিভুক্ত। এই পটুয়ারা পেশাদার শিল্পজাতি যারা তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য ছবি আঁকতেন ও সংগীত পরিবেশন করে থাকেন। সংগীতের বিষয়বস্তু পৌরাণিক, সমসাময়িক বা লোকজ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। প্রজন্মান্তরে, গ্রাম থেকে গ্রামে এই পটুয়ারা তাঁদের পট নিয়ে গিয়ে কখনও মঙ্গলকাব্য বা বিষয়ানুগ অন্য কোনও সংগীত পরিবেশন করেন খাদ্য বা অর্থের বিনিময়ে।

পৌরানিক পট

পৌরানিক বিভিন্ন গল্প ও গাঁথা এই পটের উপজীব্য। সেগুলি হল রাবন বধ, সীতা হরণ, রাজা হরিশ্চন্দ্র, কৃষ্ণলীলা, দুর্গালীলা, সাবিত্রী-সত্যবান, মনসা মঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, আনন্দ মঙ্গল ইত্যাদি।

ঐতিহাসিক পট

ঐতিহাসিক পটের উপজীব্য হলো ঐতিহাসিক ঘটনাবলী। যেমন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, আজাদ্ হিন্দ্ বাহিনী, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, আণবিক বোমাবর্ষণ ইত্যাদি।

অঙ্কন পদ্ধতি

জমিন তৈরির পর অঙ্কন কাজ শুরু হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশজ রঙের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য; যেমন-  ইটের গুঁড়া, কাজল, লাল সিঁদুর, সাদা খড়ি, আলতা, কাঠ-কয়লা ইত্যাদি।

পটটিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে কাজ করা হয় এবং রংয়ের প্রকারের মধ্যে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপী, বাদামী, সাদা এবং কালো ব্যবহৃত হয়।

আদি শিল্পকর্ম

পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) ও বাংলাদেশে আজও একটি বিশেষ চিত্রকর সম্প্রদায় এক আখ্যানধর্মী লোকচিত্রকলার পেশায় নিয়োজিত। এ শিল্পকলার আদি উৎপত্তি সম্পর্কে যেমন কিছু জানা যায় না, তেমনি এ শিল্পকর্মে নিয়োজত চিত্রকর সম্প্রদায়ের আদি উৎপত্তিও জল্পনা-কল্পনার বিষয়।

পটচিত্রকর্ম বংশানুক্রমিক পেশা রক্ষার উপায়। এ শিল্পশৈলীর উত্তরাধিকার এক পুরুষ থেকে আরেক পুরুষে বর্তায়। পটুয়া, পটিদার ও পট- এসব নামে একজন চিত্রকর সাধারণত পরিচিত। চিত্রকর একাধারে কবি, গায়ক ও চিত্রশিল্পী। চিত্রকর হিন্দু আখ্যান কাহিনীকে ছড়ার আকার দেয়। আর তাতে একটা নীতি শিক্ষার বিষয়ও থাকে। স্ক্রোল পেন্টিং বা জড়ানো পটে ধারাবাহিক কয়েকটি কাঠামো বা ফ্রেমে আখ্যান কাহিনীর ধারাচিত্রগুলি আঁকেন পটচিত্রকর।

গ্রাহকের কাছে সে তার জড়ানো পটের ফ্রেমগুলি একের পর এক খুলে ধরে বর্ণনা করে যেতে থাকে। আর তার মাঝে যে নীতি শিক্ষার বিষয় তুলে ধরা হয় তাতে জীবনের নানা পাপ ও পুণ্য সম্পর্কে শ্রোতারা সজাগ হয়ে ওঠে।

পটচিত্রের পরিকল্পনা ও শৈলীতে শিল্পকলার কোনও উদ্ভাবনী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার আকুতি পরিদৃষ্ট হয় না। বংশানুক্রমে হস্তান্তরিত ও পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া শৈলীর প্রশিক্ষণে ধরাবাঁধা কিছু ধারাবিন্যাস, রেখা, রং এবং ভাবভঙ্গিমার গতানুগতিক উত্তরাধিকার এ পটচিত্রকলা। এগুলির সবই শেখানো হয় পরের প্রজন্মকে। শৈলীগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যে শৈলী আমরা পটচিত্রে লক্ষ করি, তাতে এক অনন্য আকৃতিগত সারল্য ও রঙের অপূর্ব সুসঙ্গতি নজরে পড়ে। পটচিত্র বাংলার লোকশিল্পকলার সকল ঐতিহ্যিক উৎকর্ষে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এ শিল্পকলা সাংস্কৃতিক সমজাতীয়তায় ও মূর্তির সাথে নিবিড় সম্পর্কিত এক জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে নিবেদিত।

পটচিত্রে রঙ

পটচিত্রে ঢালাও (flat), প্রাণবন্ত রং ব্যবহার করা হয়। চিত্রে দেহাবয়বের ভাবভঙ্গিতে ক্রিয়ার প্রকাশ ঘটলেও মুখে কোনও অভিব্যক্তি নেই। সমোন্নতি রেখার চারধারে কলোরেখায় আকৃতির ভেতরে রৈখিক বিভাজনগুলি লক্ষ্যণীয়। প্রথম প্রলেপের রঙে রয়েছে বিশুদ্ধ রং ও উদ্ভিদ রঞ্জক। কালো রঙের জন্য ঝুলের কালি ব্যবহার করা হয়।

জড়ানো পটচিত্রে (scroll painting) বিশটিরও বেশি ফ্রেম বা কাঠামো থাকে। এ ছাড়াও থাকে, আড় লতাই বা আয়তাকার জড়ানো পট (oblong scroll) যাতে বিশেরও বেশি ফ্রেম থাকে। যমপট বা জাদুপট ও চক্ষুষ্মান পট এগুলির সাথে ধর্মীয় নিদানতত্ত্ব (eschatology) সম্পর্কিত। এগুলি সাম্প্রতিক কোনও ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য আঁকা হয়। হিন্দুদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কিত নানা আখ্যান কাহিনী চিত্রিত করার জন্য চিত্রকরেরা লোকসাহিত্য উপাদানের সাহায্য নিয়ে থাকে। এসব ছবিতে মানব ও দেব প্রতিকৃতির সাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়, তাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যগুলির তফাৎ অবশ্য লক্ষ করা যায় তাদের মাথায় পরা মুকুট ও অন্যান্য দেবমূর্তি সম্পর্কিত বিশেষ চিহ্নগুলিতে।

চিত্র বর্ণনায় বাস্তব ও কল্পনার উপান্তিক সীমানা মিলেমিশে একাকার হতে দেখা যায়। এধরনের লোকপ্রিয় অতিকথামূলক ধর্মীয় মূলভাবগুলির উদাহরণে মহিষাসূরমর্দিনী, কমলে কামিনী, বেহুলা-লখিন্দর, মনসা-চাঁদ সওদাগর, কৃষ্ণ-রাধা, চৈতন্যলীলা এ সবের উল্লেখ করা যায়।

মরং বুরু, মরা-হাজা, পিচলু বুড়ি ইত্যাদির কাহিনী সাঁওতাঁল সম্প্রদায়ের জন্য আঁকা হয়ে থাকে। আর মিশ্রশ্রেণীর গ্রাহকদের জন্য পীরপট আঁকা হয়। এতে পীর যে সব অলৌকিক ঘটনা সম্ভব করেন তা আঁকা হয়।

রাশিচক্র দেখিয়ে রাশিপট আঁকার বিষয়টিও জনপ্রিয়। যম, যাদু ও চক্ষুদান পটের মতো রাশিপট যাদুটোনা ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। চৌকা পটের মধ্যে চক্ষুদান পট কৌতূহলোদ্দীপক। পটুয়ারা মৃত ব্যক্তির চক্ষুবিহীন কাল্পনিক ছবি এঁকে তার স্বজনদের নিকট গিয়ে এই বলে পারিশ্রমিক দাবি করত যে, চোখ আঁকা না হলে তারা স্বর্গের পথ দেখতে পাবে না।

চৌকা পটের মধ্যে কালীঘাটের পট বিখ্যাত। কাগজে দেবদেবী, মানুষ, ব্যঙ্গ প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এই পট অঙ্কিত হতো। আঠারো-উনিশ শতকের কলকাতা ছিল এর লালন ক্ষেত্র।

পটের বিষয়বস্তু

পটের বিষয়বস্তু হয় সাধারণত ধর্মীয়, সামাজিক ও কাল্পনিক। পটুয়াদের তুলিতে মানুষের ভাবলোক ও আধ্যাত্মিক জীবন সহজ-সরলভাবে প্রতিফলিত হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আট শতক থেকে বুদ্ধদেবের জীবনী-সংক্রান্ত জাতকের গল্পসম্বলিত মস্করী নামক পট প্রদর্শন করতেন। পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্ম এবং পুরাণ হয় পটের প্রধান বিষয়। হিন্দুদের বিভিন্ন দেবদেবী, যেমন: দুর্গা, কালী, মনসা, অন্নপূর্ণা, লক্ষ্মী, যম, চন্ডী, দশ অবতার প্রভৃতি; পৌরাণিক কাহিনী, যেমন: রামলীলা, কৃষ্ণলীলা ইত্যাদি, এমনকি কৈলাস, বৃন্দাবন, অযোধ্যা ইত্যাদি পবিত্র স্থানসমূহও এতে মূর্ত হয়ে ওঠে।

এছাড়া জাদু, গাজী এবং হিতোপদেশমূলক চিত্রপটও অঙ্কিত হতে দেখা যায়। হিন্দুধর্মের শিব-পার্বতীলীলা, মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল, বৈষ্ণবধর্মের শ্রীগৌরাঙ্গলীলা ইত্যাদি পটের আকর্ষণীয় বিষয়। রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনী, যেমন: রামের বনবাস, সীতাহরণ, রাবণবধ, কৃষ্ণলীলা ইত্যাদিও পটে অঙ্কিত হয়।

গাজীর পট

মুসলমানদের গাজীর পটে গাজীকালু-চম্পাবতীর কাহিনী কিংবা গাজী পীরের বীরত্বব্যঞ্জক বিভিন্ন অলৌকিক কর্মকান্ড অঙ্কিত হয়। এতে গাজীকে কখনও দেখা যায় সুন্দরবনের রাজার সঙ্গে লড়াই করতে; কখনও ব্যাঘ্রপৃষ্ঠে সমাসীন; কখনও মাথায় টুপি অথবা রাজমুকুট, পরনে রঙিন পাজামা কিংবা ধুতি, এক হাতে চামর বা ত্রিকোণ পতাকা এবং অন্য হাতে তলোয়ার বা মুষ্টিঘেরা জ্যোতি। গাজীর পটে মানিকপীর, মাদারপীর, সত্যপীর, কালুফকির, বনবিবি প্রভৃতি সম্পর্কে নানা অলৌকিক ক্রিয়াকর্মের ছবিও প্রদর্শিত হয়।

এরূপ ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি নানা কৌতুক, রঙ্গরসসম্বলিত কাহিনী, ব্যঙ্গচিত্র এবং সামাজিক দুরবস্থার চিত্রও অঙ্কিত হয়। কখনও কখনও প্যাঁচা, বানর, গরু, বাঘ, সাপ, কুমির এবং গাছপালাও স্থান পায়। লোকধর্মে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ অনেক সময় পটুয়া এবং পটচিত্রকে ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। অনেকে গৃহে পটচিত্র সংরক্ষণ করাকে কল্যাণ এবং দৈব-দুর্বিপাক থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বলেও মনে করে।

বাংলার পটুয়া

বারো-তেরো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত বাংলার পটুয়ারা এ শিল্পকর্ম নির্মাণে বিশেষভাবে সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশের ঢাকা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, বাঁকুড়া, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি ও মেদিনীপুর ছিল এ শিল্পের প্রধান ক্ষেত্র। মানচিত্রের মতো জড়িয়ে একটি বংশদন্ডের মাথায় ঝুলিয়ে পটুয়া সঙ্গীত সহযোগে পটচিত্র প্রদর্শন করা হতো।

এগুলি ছিল তখন সাধারণ মানুষের ধর্মতৃষ্ণা নিবারণ ও চিত্তবিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। পটচিত্রের সঙ্গে পটুয়া সঙ্গীতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে; পটে যা অঙ্কিত হয়, গানের বাণীতে তাই বর্ণিত হয়। এ গান পাঁচালির ঢঙে গাওয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জের গাজীর পট

বাংলাদেশে এক সময় গাজীর পট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টির সুধীর আচার্য ছিলেন একজন খ্যাতনামা পটুয়া। তিনি গামছার ওপর ইটের গুঁড়া ও তেঁতুলের বিচির আঠায় তৈরি জমিনে লাল, কালো, হলুদ, সবুজ প্রভৃতি রঙে একটি বড় প্যানেলে বাঘের পিঠে গাজী এবং চবিবশটি ছোট ছবির খোপ আঁকেন। এসব খোপে আছে মকরবাহিনী গঙ্গা, গাজীর আসা, খান্দুয়া বাঘ, যমদূত প্রভৃতি। যমবিষয়ক ছবির কারণে এটিকে যমপটও বলা যায়।

নরসিংদীর গুনাই বেদে পটুয়া

নরসিংদীর গুনাই বেদে পটুয়া সঙ্গীত সহযোগে পট প্রদর্শন করেন। কলকাতার আশুতোষ মিউজিয়াম এবং গুরুসদয় দত্ত মিউজিয়ামে একাধিক গাজীর পট রক্ষিত আছে।

আজকাল পটচিত্রের লোকজ ঐতিহ্য দ্রুত নগরায়নের ফলে ক্ষীণ হয়ে আসছে। লোকালয়ের বেশিরভাগ মানুষ এখন আরও লাভজনক পেশার কাজ বেছে নিচ্ছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট,ঔপন্যাসিক।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ