spot_img
22 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

নেত্রকোনা শহরে কবি মামার ২১০ রকমের চা

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: নেত্রকোনা শহরের মুক্তারপাড়ায় তার দোকান। নাম  ‘কবি মামার চা’। একসময় লেখালেখি করতেন। গ্রাহকেরাই ভালোবেসে তার দোকানের এই নাম দিয়েছেন। দিনে কয়েক শ মানুষ এসে চা পান করেন তার দোকানে। ‘দুই থেকে আড়াই শ মানুষ তো রোজ আসেই। তারারে দেইখ্যাই চিনি। কে কোন চা খায়, দেখলেই কইতাম পারি। বইয়া (বসে) ইশারা দিলেই অয়। তবে কুনু কুনু দিন মিটিং-টিটিং থাকলে পাঁচ থেকে সাতশ কাপ চাও বেচা অয়’, বললেন মুখলেস।

চা–পাতা ছাড়াই চা বানান তিনি, নানা কিসিমের হারবাল চা। পুদিনাপাতার চা যেমন আছে, তেমনি আছে হরীতকীর চা। আছে তেঁতুলের চা, বহেরার চা, থানকুনিপাতার চা, বাসকপাতার চা। তিতকুটে স্বাদের চিরতা দিয়েও চা বানান তিনি। এমন ২১০ রকমের চা বানান তিনি। চা বানানোয় সিদ্ধহস্ত মানুষটির নাম মুখলেস উদ্দিন।

মুখলেস উদ্দিনের দোকানে সবই ‘সেলফ সার্ভিস’। কারণ, তিনি একাই সব সামলান। কোনো কর্মচারী আগেও ছিল না, এখনো নেই। কর্মচারী না রাখার যুক্তি হচ্ছে, শত শত মসলা ও ঔষধিগাছের মিশ্রণে চা বানান তিনি। প্রতিটারই আলাদা আলাদা পরিমাণ আছে। একটু হেরফের হলেই সুস্বাদু পানীয়টি বিষে পরিণত হতে পারে। এই ভয়ে লোক নেন না। তাই তাঁকেই দ্রুত হাত চালাতে হয়। এমনিতেও বেশ চটপটে ৬১ বছর বয়সী মানুষটি।

দুই শর বেশি চায়ের পাশাপাশি নানা রকমের কফি, লাচ্ছি, শরবতও বানান মুখলেস। কথা বলতে বলতেই লাচ্ছি বানিয়ে দিলেন একটা। সাধারণ লাচ্ছির চেয়ে স্বাদে ও গুণে একেবারেই আলাদা। কী দিয়েছেন এতে, জানতে চাইলে বললেন, ‘কয়েক পদের মসলা। এই স্বাদ অন্য কোথাও পাইতাইন না।’

লাচ্ছির পরই এক পেয়ালা ‘মামা স্পেশাল টি’ বানিয়ে দিলেন। এক টুকরো মাল্টাও আছে তাতে। এটা তাঁর দোকানের বিশেষ রেসিপি, যা রোজ বদলায়। মামা স্পেশাল টি একেক দিনেরটা একেক রকম। এক দিনের সঙ্গে আরেক দিনের চায়ের ফ্লেভার মিলবে না বলে জানালেন মুখলেস। কারণ, এই চায়ে একেক দিন একেক মসলা দেন।

এত রকমের চা বানানো শিখলেন কোথা থেকে আর ঔষধি গাছগাছড়া সম্পর্কে জানলেনই–বা কোথা থেকে? জবাবে একগাল হেসে মুখলেস বললেন, ঔষধিগাছ নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেন তিনি। নিজে খুব বেশি পড়াশোনা না করলেও দেশ-বিদেশের নানা গাছগাছড়া নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে তাঁর। সেখান থেকে পাওয়া জ্ঞানই চা বানানোর কাজে লাগান। একেকটা ফ্লেভার বানান, নিজেই সেটা পরখ করেন, তারপর গ্রাহককে দেন। আপনার চা খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন, এমন নজির আছে—জানতে চাইলে হাসিমাখা মুখে দুই দিকে মাথা নেড়ে বলেন, ‘আইজ পর্যন্ত এই রহম কেউ কয় নাই।’

তেঁতুলের চা আর মরিচের চা বেশি চলে মুখলেসের দোকানে। এই দুই রকমের চা বেচেন ১০ টাকায়। তবে ৫০০ টাকা দামের চা–ও বেচেন মুখলেস। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ৫০০ টাকার এই চা খাওয়া যায় না। কেবল ৪৫ বছরের বেশি যাঁদের বয়স, তাঁরা মাসে একবার এই চা পান করতে পারেন।

কথা প্রসঙ্গে আফসোস ঝরল মুখলেসের কণ্ঠে। একসময় ১ হাজার ২০০ পদের মসলা ছিল তাঁর সংগ্রহে। মাঝে দোকানে চুরি হয়। দুষ্প্রাপ্য অনেক মসলা খোয়া যায়। এখন তিন-চার শ পদের মসলা আছে। এগুলো দিয়েই চলে তাঁর রোজকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কোনো চা-ই নিজে আগে যাচাই-বাছাই না করে গ্রাহকের কাছে তুলে দেন না। তাঁর এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা, লব্ধ জ্ঞান লিখে রাখছেন। ছেলের হাতে দিয়ে যাবেন, যেন তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ জানতে পারে। ২১০ রকমেই থামতে চান না মুখলেস। সামনে আরও নতুন নতুন ধরনের চা দিয়ে জয় করতে চান মানুষের মন।

আরো পড়ুন:

ঈদের দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ