spot_img
23 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

দুর্যোগের সময়ে প্রিয় নবী (সা.) যেসব দোয়া বেশি বেশি পড়তে বলেছেন

- Advertisement -

লাইফস্টাইল ডেস্ক, সুখবর বাংলা: ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে। ‘সিত্রাং’ বাংলাদেশের বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূলে অতি মাত্রায় আঘাত হানতে পারে।

এর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় অভ্যন্তরীণ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। বৃদ্ধি পেয়েছে পটুয়াখালীর নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানির উচ্চতা।

এছাড়াও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই তিনটি বিমানবন্ধর বন্ধ থাকবে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে বেবিচক এ তথ্য জানিয়েছে।

তাই এরই প্রেক্ষিতে ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ এর ভয়ে উপকূলীয়বাসী অনেক আতঙ্কগ্রস্থ। আসুন আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হই, সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করি আর আশ্রয় কেন্দ্রে বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করি।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে যেতেন এবং নামাজে মশগুল হতেন। (মিশকাত)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদে-মুসিবতে তারা নামাজে দাঁড়াতেন এবং ধৈর্য ধারণ করতেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ)

ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে বিচলিত না হয়ে বিভিন্ন দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় ও বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদে থাকতে পবিত্র কোরআনের বিশেষ দোয়া-

“রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।“

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা দুখান : আয়াত ১২)

প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে যদি মানুষের জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ফসলাদি নষ্ট হয় বা চলাচলের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তবে সে অবস্থায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া পড়তেন-

‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে (ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি) ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’ (বুখারি)

জোরে বাতাস প্রবাহিত হলে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দোয়া পড়তেন-

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর কল্যাণটাই কামনা করি। এবং আপনার কাছে এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।

ঝড় বা বাতাস থেকে বাঁচতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দোয়া পড়তেন-

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি এর কল্যাণ এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে (বুখারি)।

আসুন, আমরা আমাদের পাপ সমূহের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাই আর বেশি বেশি দোয়ায় রত হই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

এম এইচ/

আরো পড়ুন:

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যা করণীয়

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ