spot_img
25 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ

পর্যটক বাড়ছে গুলিয়াখালি সি-বিচে, বাড়ছে কর্মসংস্থানও

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালি সি-বিচ সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হচ্ছে এলাকাটি। এখানে দিন দিন বাড়ছে কর্মসংস্থান। এদিকে, জেলা ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করে হোটেল-মোটেল গড়ে তোলার জন্য এক গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে সরকারিভাবে গুলিয়াখালি সি-বিচটি পর্যটন শিল্প হিসাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতকে সরকারিভাবে উন্নত করতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এরই মধ্যে পর্যটন এলাকা ঘোষণার পর জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ করে। বাকি আছে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ। হোটেল-মোটেল জোন করতে জায়গা অধিগ্রহণ ও খাস জায়গা শনাক্তের কাজও শুরু করে। অপরূপ গুলিয়াখালি সৈকতের সোনালি গোধূলী পর্যটকদের মন প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়।বাহারি রঙের বৃক্ষ আর সবুজের সমারোহ পরিবেশকে আরও সৌন্দর্যময় করে তোলে।

বিশাল আয়তনের এই পর্যটন স্থানটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক অধির আগ্রহ নিয়ে এখানে আসেন। বিশেষ করে ঢাকা থেকে গুলিয়াখালি সি-বিচে আসতে ভাড়া কম বিধায় পর্যটকরা ঘন ঘন আসেন। কারণ কক্সবাজার সৈকতটি অনেক দূরে এবং ভাড়াও অনেক বেশি। গুলিয়াখালি সি-বিচে এক দিকে দিগন্ত জোড়া জলরাশি আর অন্যদিকে কেওড়া বন। আরও আছে মন মাতানো সবুজ গালিচার বিস্তৃত ঘাস। তার মাঝে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা ছোট ছোট নালা। জোয়ারের পানিতে সবুজ ঘাসের ফাঁকে নালাগুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে। এরই মাঝে চলে আসে ছোট ছোট লাল কাঁকড়া। আর তখন পর্যটকদের সঙ্গে আসা ছোট বাচ্চারা আনন্দে মেতে ওঠে। জোয়ার চলে গেলে ফিরে যায় আগের অবস্থায়।

মৃদু বাতাস আর গাছের পাতার ফিসফিসানিতে তৃপ্ত দুপুর, স্নিগ্ধ বিকেল কিংবা বিষণ্ন সন্ধ্যাটি যে কাউকে মাতিয়ে তুলবে বর্ণিল আলোকচ্ছটায়। খাল ধরে এগিয়ে গেলে মিলবে সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য উপভোগের এক অভাবনীয় মুহূর্ত। চোখের সামনে এক অনন্য সুন্দর সৈকত। গুলিয়াখালি সমুদ্র তীরকে সাজাতে কোনো ধরনের কার্পণ্য করেনি প্রকৃতি। সবকিছু মিলে এ যেন প্রকৃতির এক অন্যরকম ‘আর্শীবাদ’। দেখা মিলবে সোয়াষ্প ফরেস্ট আর ম্যানগ্রোভ বনের অন্যরকম মিলিত রূপ।

গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতকে পর্যটনের আওতায় আনতে নেওয়া হয় এক মহাপরিকল্পনা। রাস্তা প্রশস্তকরণ, রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন, হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ভূমি জরিপের মাধ্যমে দেওয়া হয় প্রস্তাবনা। গুলিয়াখালি সি-বিচটি সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণার সাথে সাথে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। পর্যটকরা রাতেও ঘুরতে আসেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করার জন্য এখনই অন্তত লাইটিং ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কারণ, বিচের বেড়িবাঁধ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বে বিদ্যুতের লাইন এসে গেছে বসবাস করা মানুষের ঘরবাড়িতে। আর সমুদ্র সৈকতে বিদ্যুৎ এসে গেলে যেমন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের পথ আরও বেড়ে যাবে।

গুলিয়াখালি বিচটি পৌর সদর বাজার থেকে দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। পৌর সদর নামার বাজার থেকে সিএনজিতে যাতায়াত ভাড়াও জন প্রতি ২০ টাকা। আর রিজার্ভ গেলে ১০০ টাকা ভাড়া লাগে। বর্তমান অবস্থায় আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া না লাগলেও এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দল বেঁধে অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসেন অপরূপ প্রকৃতির নয়নাভিরাম এই সৈকতে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত হতে পারে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্থান। আর তা সম্ভব হলে এটি দেশের পর্যটন খাতে বিশাল অবদান রাখবে। সরকারিভাবে অধিকতর গুরুত্ব দিলে এটি একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

পৌর সদর থেকে সি-বিচে যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত দেখে পর্যটকদের মন জুড়িয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের চাপ কমাতে গুলিয়াখালি সমুদ্র তীরকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

আরো পড়ুন:

বৈশ্বিক পর্যটন সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ