spot_img
29 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৩রা অক্টোবর, ২০২২ইং, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা এখন দেশেই হবে

- Advertisement -

সুখবর রিপোর্ট : দেশে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর বিদেশ যেতে হবে না। দেশেই মিলবে তাদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল-২-এর অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্র থেকে রোগীরা এই চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু দেশে এতদিন এই চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল না। রক্ত পরিসঞ্চালন ও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে পারতেন।

এতে একজন রোগী ৩০ থেকে ৩৫ বছর বেঁচে থাকতে পারতেন। কিন্তু অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একজন রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই চিকিৎসা নিতে একজন রোগীর ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অন্যান্য দেশে ৪০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অথচ ঢামেক হাসপাতালে এই চিকিৎসা নিতে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

ঢামেক হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ও অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্রের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. এম এ খান জানান, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন করতে হয়।

ব্যয়বহুল হওয়ায় এতদিন এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি চালু করা যায়নি। কিন্তু গত বছরের শেষদিকে সরকার ও দাতাগোষ্ঠীর সহায়তায় এটি চালু করা হয়েছে।

প্রতি শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-২-এ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য কয়েকজন রোগী বাছাই করা হয়েছে।

অধ্যাপক এম এ খান আরও বলেন, ২০১৪ সালের মার্চে এই হাসপাতালে অটোলোগাস পদ্ধতিতে অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন শুরু হয়। এই কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৪০ জন রোগীর অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় কয়েক মাস ধরে অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। ওই মেশিন দুটি সচল হলেই রোগীরা পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ অবস্থায় আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘আপনার সন্তানকে দিতে থ্যালাসেমিয়া থেকে সুরক্ষা, বিয়ের আগে করুন

রক্তের ইলেকট্রোফরেসিস পরীক্ষা’। থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ইরান, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যালোজেনিক পদ্ধতির প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ রোগ নির্মূল করতে পেরেছে। দেশে এই পদ্ধতি চালু হওয়ায় মানুষ অত্যন্ত কম খরচে পরিপূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে।

থ্যালাসেমিয়া যেভাবে ছড়ায় : সংশ্নিষ্টরা জানায়, থ্যালাসেমিয়া একটি রক্ত স্বল্পতাজনিত মারাত্মক বংশগত রোগ। মা-বাবা উভয়ে থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করলে সন্তান জন্মের সময় থেকেই এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সন্তান জন্মদানের এক থেকে দুই বছর পর এ রোগের উপসর্গ হিসেবে প্রচণ্ড রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এ রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত না দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই নিয়মিত রক্ত সরবরাহ করা ছাড়া এ রোগে আক্রান্তদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

ঢামেক হাসপাতালের শিশু রক্তরোগ বিভাগের প্রধান ডা. আমিরুল মোর্শেদ খসরু বলেন, রক্ত পরীক্ষা করে দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে রোধ করা গেলে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মা-বাবার মধ্যে কেউ এ রোগের জিন বহন করলে শিশুরও থ্যালাসেমিয়া হতে পারে। এ জন্য বিয়ের আগেই রক্ত পরীক্ষা করে এ রোগের বাহক নির্ণয় করা উচিত।

তাহলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্ত পরিসঞ্চালন, লৌহ অপসারণকারী ওষুধ ব্যবহার, রোগীর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি :বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির এক জরিপে বলা হয়েছে, দেশের শতকরা ১০ থেকে ১২ ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের জিন বহন করছে।

এ হিসাবে দেশে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ বাহক। প্রতি বছর আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার শিশু প্রাণঘাতী এই রোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে।

থ্যালাসেমিয়া সমিতি সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত রোগী সমিতির আওতায় রয়েছে। এসব রোগীর জন্য বছরে ২ লাখ ব্যাগের ওপরে রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু তারা ৪৫ থেকে ৫০ হাজার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে পারছেন।

অধ্যাপক আমিরুল মোর্শেদ খসরু জানান, এ রক্ত সরবরাহ করতে গিয়ে দেশের ব্লাডব্যাংকগুলোতে সংগৃহীত রক্তের ৬০ ভাগই ব্যয় হয় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর পেছনে।

থ্যালাসেমিয়া সমিতির উপদেষ্টা সৈয়দ দিদার বখত বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। এ জন্য বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। কারণ স্বামী-স্ত্রী এই রোগের বাহক হলে সন্তানও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই সতর্ক হতে হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রধান অতিথি এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বিশেষ অতিথি থাকবেন।

এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ