spot_img
25 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের সাংবাদিকতার ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা পাকিস্তানের

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: আফগানিস্তানের মূলধারার সাংবাদিকতা যখন মাত্র পূর্ণরূপে নিজেকে প্রকাশ করা শুরু করছিল ঠিক তখনি ২০২১ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিকে দখল করে নেয় তালেবানেরা।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস এবং আফগান ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, শাসন পরিবর্তনের পর ২০০টিরও বেশি মিডিয়া আউটলেট বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং ৬,৪০০ জনের মতো সাংবাদিক কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।

পশ্চিমা সরকার তালেবানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর প্রতিষ্ঠানগুলো গত বিশ বছর ধরে চলে আসা কাজ করার পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে।

তালেবান শাসনে কাজ করতে না পেরে বেশ কিছু মিডিয়াব্যক্তি প্রতিবেশি দেশ বা পশ্চিমা দেশগুলোতে চলে গিয়েছেন।

যদিও দেশের জনপ্রিয় মিডিয়া সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না। তবে এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে তালেবান উত্থানের ফলে সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে বেশ ব্যাঘাত ঘটেছে।

যখন বেশিরভাগ মিডিয়া সংস্থাগুলো এ নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনি পাকিস্তান এ দেশের পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে।

নিজেদের জনসাধারণের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং বিশ্বে আফগানিস্তানের সমালোচনা করছে। নিজেদের স্বার্থে পাকিস্তান আফগানিস্তানের মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

কিছু আফগান সাংবাদিকদের মতে, পাকিস্তানের এ প্রচেষ্টাগুলি একটি সু-সমন্বিত কৌশলের অংশমাত্র। পাকিস্তান নিজেদেরকে উপরে তুলার জন্য আফগানিস্তানকে সাংবাদিকশূন্য করতে চাইছে।

যদিও সাধারণ আফগান সাংবাদিকেরা পাকিস্তানের এ সম্পূর্ণ পরিকল্পনা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত নয়। তবে তারা আন্দাজ করতে পারছে যে পাকিস্তান কিছু না কিছু পরিকল্পনা তো অবশ্যই করেছে যার ফলে আফগান সাংবাদিকেরা দুর্দশার শিকার হচ্ছে।

ইতোমধ্যে মহিলা সাংবাদিকদের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আফগান মিডিয়া ব্যক্তিদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইসাথে কিছু স্থানীয় মিডিয়া সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক চাপের সম্মুখীন কিছু সংস্থা হয়তো তাদের এ ফাঁদে পা দিতে পারে। পাকিস্তানি সরকার কিংবা পাকিস্তানি সেনা সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক ধারণাকে মোকাবেলা করার জন্য পাকিস্তানি বেসরকারি মিডিয়া কোম্পানিগুলো কাবুলে মিডিয়া আউটলেট খুলতে যাচ্ছে।

পাকিস্তান স্থানীয় আফগান এনজিও বা সিভিল সোসাইটির তার সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে এবং কিছু বিদেশী মিডিয়া হাউসেও যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। আফগানি-পাক অঞ্চলের উপর প্রভাব বিস্তার করা পশ্চিমা আউটলেটগুলির সাথে নিজেদের ভালো সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে তাদের অফিস ইসলামাবাদে স্থাপন করার প্রস্তাব নিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তবে যাইহোক, মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান যদি কৌশলগত কিছু করতেও চায়, তবুও জনগণ তাদের উপর বিশ্বাস করবে না। তারা ইতোমধ্যেই জনগণের প্রতি তাদের বিশ্বাস হারিয়েছে। তাই তাদের সমস্ত পরিকল্পনা কার্যকর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে জনগণ এখন স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শিখেছে এবং বুঝতে শিখেছে কোনটি ঠিক এবং কোনটি ভুল। তাই তাদের বোকা বানানো এতো সহজ হবে না।

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ