spot_img
33 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৫ই অক্টোবর, ২০২২ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

তরুণরাই দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলবে: প্রধানমন্ত্রী

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশকে উন্নত দেশে উন্নীত করার লড়াইয়ে দেশের তরুণ ও যুবকদের ওপরই ভরসা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, তরুণরাই হবে একচল্লিশের কারিগর, তারাই দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলবে।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যুব সমাজ আমাদের বড় একটা শক্তি। পৃথিবীর অনেক দেশ এখন বয়োবৃদ্ধদের দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা সেটা হতে চাই না। কাজেই আমাদের এ যুব সমাজই পারবে বাংলাদেশটাকে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করতে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত বাংলাদেশ গড়া। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ব। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ করার কথা বলেছি। আজ আমরা উন্নয়শীল দেশের মর্যদা পেয়েছি। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের গ্রাজুয়েশন হয়েছে। এটা যেন আর পিছিয়ে না যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজকে আমাদের তরুণ সমাজই হবে সেই ৪১ এর কারিগর। তারা দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। প্রত্যেক মানুষ যেন সুন্দর জীবন পায় আমরা সে পথে এগিয়ে যাব।

সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ১১ জন ব্যক্তির হাতে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এ সম্মাননা তুলে দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে তরুণ সমাজের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর আমাদের লক্ষ্যই ছিল দেশের যুব সমাজকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করা। তখনকার যুগে কেউ কম্পিউটার শিখতো না, কম্পিউটার ছিলই না। দুই-চারটা অফিসে হয়তো ডেস্কটপ সাজানো থাকতো, কিন্তু কেউ ব্যবহার করতো না।

তিনি বলেন, আমিই উদ্যোগ নিয়েছিলাম যে, প্রথমেই প্রযুক্তি শিক্ষা দিতে হবে। কারণ সেসময় আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে মাত্র সাত শতাংশ ছেলেমেয়ে সম্পৃক্ত ছিল। যে কারণে আমি ১২টা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেই। কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসী যুবকরা বিনা জামানতে ঋণ নিতে পারবে, সে ব্যবস্থা করেছি। প্রযুক্তি ও কম্পিউটার শেখার জন্য আমরা আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছি, যাতে যুবকরা ট্রেনিং নিয়ে এই সেক্টরে দক্ষ হয়। দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি, সেখানেও কর্মসংস্থান হচ্ছে। কোনো যুবকই বেকার থাকবে না।

জিয়াউর রহমান যুব সমাজের হাতে অস্ত্র, মাদক তুলে দিয়েছিল অভিযোগ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, যুব সমাজকে উন্নয়নের ধারাবাহিতকায় ছেদ পড়ে জাতির পিতাকে হত্যার পর। ৭৫-এর পর সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিল। সেই জিয়াউর রহমান যুব সমাজের হাতে অস্ত্র, মাদক তুলে দিয়ে তাদের বিপথে পরিচালিত করেছিলেন। তিনি যুব সমাজের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

২০২০ সালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের এবং বৈশ্বিক যুবাদের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল’ এর অধীনে প্রধানমন্ত্রীর নামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছিল ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৯৬০ জন এবং জাতীয় পর্যায়ে তিন হাজার ২৫৬ জন অংশ নেন এই আয়োজনে। গত আসরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছর আবারও আয়োজিত হয় ‘শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২২’। এই আয়োজনের মাধ্যমে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট ১২ জন তরুণ-তরুণীকে তাদের স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে।

সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ১১ জনের হাতে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত ১১ জনের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা এবং সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য এ বছর সম্মাননা পেয়েছেন শরীয়তপুরের বাসিন্দা মাসুম আলম এবং নেত্রকোনার কামরুন নাহার লিপি। শিক্ষা, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি ক্যাটাগরিতে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন জাগো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক করভি রাকসান্দ দ্রুব এবং পেন ফাউন্ডেশনের মেঘনা খাতুন।

দেশপ্রেম, বীরত্ব ও সাহসিকতার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন রাঙ্গামাটির এন কে এম মুন্না তালুকদার এবং লক্ষ্মীপুরের রাজু আহমেদ। জ্যেষ্ঠদের প্রতি আদর্শ সেবা বা সমাজকল্যাণে অবদানের জন্য বরিশালের মিল্টন সমাদ্দার এবং সুনামগঞ্জের কাস্মিরুল হক সম্মাননা পেয়েছেন। আর ক্রীড়া, কলা (চারু ও কারু) ও সংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শেরপুরের মেয়ে নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং রাজশাহীর মোস্তফা সরকার।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব ও যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন, মন্ত্রিসভার সদস্য, সিনিয়র সচিবসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার প্রদান শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আরো পড়ুন:

ফেসবুকের মাধ্যমে ২২ বছর পর ফেনীতে বাবার খোঁজ পেলেন পাকিস্তানি তরুণী

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ