spot_img
29 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

টুইন টাওয়ারে হামলা: এখনো ন্যায় বিচারের আশা স্বজনদের

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: রোববার টুইন টাওয়ারে হামলার ২১ বছর পূর্তি।  এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন হামলার শিকার প্রায় তিন হাজার মানুষের স্বজনরা ।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের দুটি আকাশচুম্বী ভবন ও পেন্টাগনসহ কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। এটি ৯/১১ নামেও পরিচিত।

তথ্য অনুসারে, চারটি মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে এই হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় পেন্টাগন এবং শেঙ্কসভিল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মুহূর্তেই ধসে পড়েছিল টুইন টাওয়ার। এতে প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ। ছয় হাজারের অধিক মানুষ আহত হয় এবং ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক অবকাঠামো ও সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

১ মার্চ, ২০০৩, ভোরের না ফুটতেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিল ৯/১১ পরবর্তী তাদের সবচেয়ে বড় বিজয়ের। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি থেকে গ্রেফতার হন খালিদ শেখ মোহাম্মদ। ১৮ মাস চেষ্টার পর আল-কায়েদার তৃতীয় সর্বোচ্চ এই নেতাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখনও আইনিভাবে তার বিচার করতে পারেনি তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অন্যতম ব্যর্থতাই হলো তার বিচার করতে না পারা।

সেই হামলার আসামি খালিদ শেখসহ আরও চারজন অভিযুক্ত এখনও কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দি। অসংখ্যবার পিছিয়েছে তাদের বিচার কার্যক্রম। সর্বশেষ গত মাসে অনুষ্ঠিতব্য শুনানিও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন হামলার শিকার প্রায় তিন হাজার মানুষের স্বজনরা। এখনও তারা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এই বিচারে চারজন বিচারক পাল্টানো হয়েছে। গত বছরই কর্নেল শেন কোহেন ছিলেন প্রধান বিচারক।

আর এখন বিমানবাহিনীর কর্নেল ম্যাথিউ ম্যাককেইল। ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ওই হামলায় নিজের ২৫ বছর বয়সি মেয়েকে হারিয়েছিলেন গর্ডন হাবেরম্যান নামে এক মার্কিনি। বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তিনি হতাশ। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কি হবে।’ উইসকনসিনে নিজের বাড়ি থেকে চার বার গুয়ানতানামো বে গেছেন তিনি শুধু ন্যায়বিচার দেখার জন্য। কিন্তু বারবারই হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে যুক্তরাষ্ট্রে এক দিন এটা নিয়ে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার স্বাক্ষী হতে চাই।’

বিচারে শেখ মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে শেখ মোহাম্মদের আইনজীবী জেমস কনওয়েল বলেন, ‘বিচার পূর্ববর্তী আপসে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দুই পক্ষ। এতে করে বিচারে তাদের সাজা কম হতে পারে। তারপরও অনেক দিনের শাস্তি হবে নিশ্চিত।’ নিউইয়র্কের সাবেক অ্যাটর্নি ডেভিড কেলি সে সময় বিচার বিভাগের তদন্ত কমিটির উপপ্রধান ছিলেন।

তিনি এই দীর্ঘসূত্রতাকে হতাহতদের স্বজনদের জন্য দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি শেখ মোহাম্মদের বিচারকে নিয়মিত আদালতে পরিচালনা করার আহ্বান জানান। তার দাবি এটা আমাদের আইনি সংবিধান অনুযায়ী চরম ব্যর্থতা। আমাদের ইতিহাসের জন্য দুঃখজনক।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ মোহাম্মদ ও গুয়ানতানামোর অন্যান্য বন্দিদের আগে গোপন কারাগারে রাখা হয়েছিল। তাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শেখ মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসবাদের কারণে ১৮৩ বার পানিতে চুবানো হয়েছিল।

সিনেটের একটি তদন্তে বেরিয়ে আসে যে সেই নিপীড়নে কোনো মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং বিচার কার্যক্রমকে আরও ধীরগতির করে ফেলেছে। সেই নিপীড়নের কারণে বেসামরিক আদালতেও তার বিচারকার্য চালাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

২০০৯ মালে ওবামা প্রশাসন শেখ মোহাম্মদের বিচারকে নিউইয়র্ক আদালতে আনতে চায়। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে তার বিচার হওয়ার কথা ছিল। ওবামা বলেছিলেন, ‘ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই।’

কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে সেই মামলা আর নিউইয়র্কে আসেনি এবং সামরিক আদালতেই তার বিচার চলছে। সেই ঘটনারও ১২ বছর পেরিয়ে গেছে।

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করা আইনজীবী কেলি বলেন, ‘দুই দশক আগে শুরু হওয়া সামরিক বিচারে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ কবরেই ঘোষণা এলো যে সামরিক আদালতে তাদের বিচার হবে। এমনটা যে হতে পারে কেউ তা ভাবতেই পারেনি।’

সে সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জন অ্যাশক্রফটও এই বিচারের পক্ষে ছিলেন না। তিনি চাইছিলেন ম্যানহাটনে ফেডারেলে প্রসিকিউশনে তার বিচার হোক।

কেলি বলছেন, ‘এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিচারকার্যও তাই এখন অনেক কঠিন। অনেক আলামত দুর্বল হয়ে পড়েছে, স্বাক্ষীদের পুরোপুরি হয়তো সব কথা মনেও নেই।

তবে সময় পেরিয়ে গেলেও হতাহতের শিকার স্বজনদের ক্ষত শুকায়নি। তারা এখনও বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এমনই একজন স্বজন এডি ব্র্যাকেন।

তার বোন লুসি ফিসম্যান সেদিনের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওবামা প্রশাসন যখন বিষয়টি বেসামরিক আদালতে আনতে চেয়েছিল সেই সংবাদে অবাক হয়েছিলেন তিনি। তার মতে, শেখ মোহাম্মদ সামরিক অপরাধ করেছে তাই সামরিক আদালতেই তার বিচার হওয়া উচিত।’

এডি বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের প্রশ্ন এত সময় পেরিয়ে গেলেও আমরা কি করছি। যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনই এটি সমাধান করার। বিচারের চাকা ঘুরতেই হবে। হয়তো তার ধীরগতির কিন্তু ঘুরতেই হবে।’

২০১২ সালে তিনিও গুয়ানতানামো বে’-তে গিয়েছিলেন। আবার শুনানি হলেও তিনি যাবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না সেখানে গেলে পুরনো ক্ষত আবার আমাকে কষ্ট দেবে কি না।

কিন্তু আমি যেতে চাই। আমার বোনও আমার জন্য তাই করত। শেখ মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হলেও যুক্তরাষ্ট ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন ও ২০২২ সালে আয়মান আল জাওয়াহিরিকে হত্যা করে তারা।

গুয়ানতানামো বে’র সামরিক গোয়েন্দারা বলেন, ৯/১১ এর হামলার জন্য তিন বছর ধরে পরিকল্পনা করা হয়। শেখ মোহাম্মদকে গ্রেফতারের সময় একটি কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ জব্দ করা হয়।

সেখানে ১৯ হাইজ্যাকারের ছবি ছিল, বিন লাদেনের তিনটি চিঠিও ছিল। এক শুনানিতে শেখ মোহাম্মদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ওসামা বিন লাদেনের অনুগত এবং আল-কায়েদা পরিষদের সদস্য।

এক বিবৃতিতে ১৯৯৩ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার দায়ও স্বীকার করেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার নাইট ক্লাবে বোমা হামলায়ও তিনি জড়িত ছিলেন বলে জানান।

২০০১ সালে শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার ও ম্যানহাটনের এমপায়ার স্টেট বিল্ডিংয়েও হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।  ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটনকে হত্যাচেষ্টা ও ১৯৯৫ সালে পোপ জন পলকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে অভিযোগ গঠন করা হয়। সে সময় বুশ প্রশাসনের প্রত্যাশা ছিল যে বুশ ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই তাদের বিচার সম্পন্ন করা হবে।

কিন্তু তা হয়নি। কারণ অপরাধীরা নিজেদের দোষ স্বীকার করার শর্ত দিয়েছিল যেন তাদের তৎক্ষণাৎ মেরে ফেলা হয়। এতে করে তারা শহীদের মর্যাদা লাভ করতে পারে। আর এই ঘটনাতেই পাল্টে যায় পুরো বিচারের হিসাব-নিকাশ।

শেখ মোহাম্মদ বিচারে ঝুলে থাকলেও ব্যতিক্রম তার ভাইয়ের ছেলে রামজি ইউসেফ। ১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার মূল হোতা রামজি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

১৯৯৫ সালে পাকিস্তান থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়। সে সময় ইউসেফ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরমাণু বোমা হামলা করেছিল, তিনিও সেভাবেই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলেন। শেখ মোহাম্মদও অনেকটা একই কথা বলেছেন।

গুয়ানতানামো বে মামলায় মার্কিন বিচার বিভাগের আইনি পরামর্শক কেভিন পাওয়ার্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেভাবে গুয়ানতানামো বে পরিচালনা করে আর সেনাবাহিনী যেভাবে অপরাধ আদালত চালায়, পুরো প্রক্রিয়াটিতেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। আর এতে ভুক্তভোগী হচ্ছে হতাহতদের স্বজনরা।কিন্তু তারা বিচারের আশা ছাড়েননি এখনো।

আরো পড়ুনঃ

পরমাণু বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ