spot_img
21 C
Dhaka

৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৬ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

টুইটার একাউন্টে ভারত ও কাশ্মীর সম্পর্কে ‘অপপ্রচার’

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: টুইটার বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশের অনেক বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে এখানেও অনেকেকেই ভুল তথ্য প্রদান করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে। আবার এই ভুল তথ্য প্রদানকারীদের মুখোশ উন্মুক্ত করার কাজেও জড়িত হতে দেখা যায় কাউকে কাউকে।

ভারতীয় এবং কাশ্মীরি মুসলমান নামক একটি টুইটার একাউন্টের ৮,০০০ জনেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। এই একাউন্টটি আরবি ভাষায় পরিচালিত হয় এবং ব্যবহারকারী নিজেকে মধ্যপন্থী মুসলমান হিসেবে দাবি করেন।

তবে এই একাউন্ট থেকে বেশ কয়েকটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। যেমনঃ একাউন্টটি থেকে ঈদুল আজহায় ভারতের কাশ্মিরে মসজিদ বন্ধ করার মিথ্যা খবর ছড়ানো হয়। এ একাউন্টটি দাবি করে যে, ঈদুল আজহার সময় কাশ্মিরের মসজিদগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং মুসলমানদেরকে ঈদ উদযাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়নি, যা সমস্তটাই মিথ্যা ছিল।

এ তথ্য যাচাই করা হলে জানা যায় যে, কাশ্মিরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ ছাড়া সর্বত্রই ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। উপত্যকা হজরতবাল দরগায় ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নামাজ আদায় করেন।

অর্থাৎ টুইটার একাউন্টটির দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল।

দ্বিতীয়ত, এ একাউন্টটি দাবি করে যে, গুজ্জার এবং বাকারওয়ালের প্রতিবাদ ভারত সরকারের কাশ্মীরি পরিচয় এবং জনসংখ্যার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার কথা বলে।

একটি সমাবেশের ভিডিও শেয়ার করার মাধ্যমে ব্যবহারকারী দাবি করে যে কাশ্মীরের পরিচয় এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে ভারতের উপত্যকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

যদিও এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় যে, গুজ্জার এবং বাকারওয়াল সম্প্রদায়ের লোকেরা জম্মু ও কাশ্মীরে উচ্চবর্ণের লোকদের এসটি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।

অর্থাৎ এই একাউন্টের এ দাবিটিও সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

পরবর্তীতে এই একাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয় যে, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে ছয় কাশ্মীরি যুবক নিহত হয়েছে। এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও বার্তাও সংযুক্ত করা হয়।

এ তথ্যেরও সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায় যে, ২৫ বছর বয়সী আসিফ আহমেদ, দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার একটি চেকপোস্ট দিয়ে যাওয়ার সময় ভুলক্রমে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। এ ব্যাপারে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

অর্থাৎ এ একাউন্ট ব্যবহারকারীর এ তথ্যটিও ভুল প্রমাণিত হয়।

এই একাউন্টটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া কাশ্মিরিদের বাড়িতে প্রবেশ, তাদের অপহরণ ও হত্যা করার মতো মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

এ অভিযোগটিও গভীর অনুসন্ধানে মিথ্যে প্রমাণিত হয়।

উল্লেখ্য, জাকির নায়েক একজন কট্টর ওহাবি প্রচারক। তার বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য তিনি ভারতসহ অনেক দেশেই নিষিদ্ধ ঘোষিত হন। বাংলাদেশে বোমা বিস্ফোরণের সাথে জড়িত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানায় যে সে জাকির নায়েকের বক্তব্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ কাজ করেছিল। জাকির নায়েকের সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ) এবং তার পিস টিভি নেটওয়ার্ক ভারতে নিষিদ্ধ। তদন্তে অসহযোগিতা এবং ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার জন্যও তাকে অপরাধী ঘোষণা করা হয়।

উপরে উল্লেখিত টুইটার একাউন্টের ব্যবহারকারী সেই জাকির নায়েকেরই একজন সমর্থক। বেশ কয়েকবার এই ব্যবহারকারী জাকির নায়েকের পক্ষ নিয়ে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

অর্থাৎ এই একাউন্টটি কাশ্মিরী মুসলমানদের উপর ভারতের নৃশংসতার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর সাথে জড়িত। এই একাউন্ট ব্যবহারকারী সেই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর অংশ যারা আরব বিশ্বে ভারত বিরোধী প্রচারণার সাথে জড়িত। তারা সময়ে সময়ে ভারত বিরোধী প্রচার চালাতে থাকে, যাতে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ