spot_img
25 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ

জেলহত্যার নেপথ্যে

- Advertisement -

মাহবুব মারুফ, সুখবর বাংলা: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় এই দিনটিই হলো আজকের ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে কারাগারে নেয়া হয়৷ একই বছর ৩ নভেম্বর আবারো একদল বিপথগামী সেনা সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে তাঁদের চারজনকেই নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর থেকেই রাষ্ট্রের হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে৷

নিহত চার নেতা

সৈয়দ নজরুল ইসলাম– বাংলাদেশের প্রথম সরকার, মুজিবনগর সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি বাকশালের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

তাজউদ্দীন আহমদ– একজন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যও ছিলেন।

আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান– একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন গঠিত অস্থায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন।

মুহাম্মদ মনসুর আলী– মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

যারা ছিলেন এর পেছনে

পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বরে ঢাকা সেনানিবাসে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল ১৫ আগস্ট হত্যা মিশনে অংশ নেয়া সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা। তারা ভেবেছিলেন, বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়া খালেদ মোশাররফ ও শাফায়েত জামিলরা হয়তো কেবল সেনাপ্রধান জিয়াকে বন্দি করে বা ক্ষমতাচ্যুত করেই ক্ষান্ত হবেন না, তারা হয়তো জেল ভেঙে জাতীয় নেতাদের বের করে আনবেন এবং রাষ্ট্রপতি মোশতাক ও ফারুক-রশীদদের হত্যা করবেন।

এই আতঙ্ক থেকে মোশতাক-ফারুক-রশীদরা জেল হত্যার ছক কষে বলে মনে করেন ঘটনার প্রতক্ষদর্শী ও গবেষকরা। তখন ঢাকা সেনানিবাসে মেজর পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন বর্তমানে বিগ্রেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এসব ঘটনাপ্রবাহ বেশ কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর সে অভিজ্ঞতা নিয়ে মি: হোসেন একটি বই লিখেছেন ‘বাংলাদেশ রক্তাক্ত অধ্যায়: ১৯৭৫-৮১’ শিরোনামে। সেখানে তিনি বলেন- “ঐ ধরনের ক্যু হলে তখনকার আওয়ামী লীগে যাতে কোনও ধরনের লিডারশিপ না থাকে সেটাই তারা বোধ হয় নিশ্চিত করেছিল।”

বিভিন্ন লেখায় ও বর্ণনাতেও এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এই ঘটনা এতো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছিল যে, হত্যাকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টা পর সেনানিবাস ও জনসাধারণ এ ঘটনা জানতে পারে। ঘটনার ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশত্যাগের সুযোগ দেয়া হয়, তাদের বার্মা হয়ে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়।

মূলত জাতীয় নেতাদের হত্যার মাধ্যমে মোশতাক তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হত্যা করেছিলেন এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

বিচারকার্য

জেলহত্যার পর দীর্ঘদিন ক্ষমতা দখলে রেখেছিল খুনিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ। তারা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল হত্যা মামলার বিচার। সুপরিকল্পিতভাবে অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছিল। ইতিহাসের জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর নিম্ন আদালত থেকে মামলার রায় পাওয়া যায়। রায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ডসহ ১৫ জনের সাজা হয়। এরপর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দিয়ে দেয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেয় হাইকোর্ট। তারপর সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায় দেয়। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. ইমান আলী ছিলেন।

যদিও সাজাপ্রাপ্তদের অনেকেই পলাতক কিংবা বিদেশে অবস্থান করছে। তাদের অনেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও দণ্ডপ্রাপ্ত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অপরাধে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যেসব আসামি এখনো পলাতক, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং রায় কার্যকরের মাধ্যমে ইতিহাসের আরেক কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে।

এম এইচ/

আরো পড়ুন:

জেলহত্যা দিবসের স্মৃতিকথা

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ