spot_img
28 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলায় এক্সেল কামালের ফাঁসি কার্যকর***চেক ডিজঅনার মামলা : হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত***‘মিসেস ইউনিভার্সেস বাংলাদেশ-২০২২’ এর আয়োজক গ্রেফতার***করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী***যাচাইয়ের পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে সিদ্ধান্ত : নসরুল হামিদ***যশোরের ভৈরব নদে কুমিরের ‘রৌদ্রস্নান’ : সতর্ক থাকার আহ্বান***কী কারণে রানী মুখার্জি সাইফের চুমু খেতে বাধ্য হয়েছিলেন?***পাবনার বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রে থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘মাধব মালঞ্চী’***‘বাঁশরী’তে আজ নজরুল-সংগীত পরিবেশন করবেন পপলী চক্রবর্তী***‘সোনারতরী’তে আজ গাইবেন শিল্পী জুয়েল দে

জীবনানন্দ দাশ: কবিতার মাধ্যমে যিনি ফিরে আসেন বারবার

- Advertisement -

সাইদ মাহবুব, সুখবর বাংলা:  “আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন – কতদিন আমিও তোমাকে/ খুঁজি নাকো; – এক নক্ষত্রের নিচে তবু – একই আলো পৃথিবীর পারে/ আমরা দুজনে আছি; পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়,/ প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়,/ হয় নাকি? – বলে সে তাকাল তার সঙ্গিনীর দিকে;”

শনিবার (২২ অক্টোবর) রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের প্রয়াণ দিবস। ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর কলকাতার শম্ভূনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আধুনিক বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ। কবির বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। মা কুসুম কুমারী দাশও ছিলেন কবি। যার রচিত ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’- পঙক্তি দুটি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সাংসারিক কাজের ফাঁকে তিনি কবিতা লিখতেন। জীবনানন্দ দাশ সাহিত্যচর্চা ও কবিতা রচনার প্রেরণা পান মায়ের কাছ থেকেই। জীবনানন্দ ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান; তার ডাকনাম ছিল মিলু।

তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়। অনেকে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি বলে মনে করেন। তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে।

জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনাও প্রকাশ করেছেন।

চারপাশের খুব সাধারণ দৃশ্যপটও তার লেখায় ছিল অসাধারণ। যার কবিতায় রয়েছে শুধুই মুগ্ধতা। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

জীবনানন্দের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬), ‘মহাপৃথিবী’ (১৯৪৪), ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮), ‘রূপসী বাংলা’ (রচনাকাল ১৯৩৪, প্রকাশকাল ১৯৫৭) ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ (১৯৬১)।

উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে: ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩), ‘সুতীর্থ’ (১৯৭৭), ‘জলপাইহাটি’ (১৯৮৫), ‘জীবনপ্রণালী’, ‘বাসমতীর উপ্যাখ্যান’ ইত্যাদি।

তার গল্পের সংখ্যাও প্রায় দুই শতাধিক। ‘কবিতার কথা’ (১৯৫৫) নামে একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থও আছে তাঁর।

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে আট বছরের জীবনানন্দকে ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হন। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন তার বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচনার সূচনা হয়। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন (বর্তমানে মাধ্যমিক বা এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দু’বছর পর ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। অতঃপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করেন।

১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স সহ বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ওই বছরেই ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম কবিতা ছাপা হয়। কবিতার নাম ছিল বর্ষ আবাহন।

১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এম. এ. ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি আইন বিষয়ে পড়া শুরু করলেও অল্পতেই ছেড়ে দেন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জীবনানন্দ কলকাতার সিটি কলেজে শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপনা শুরু করেন। অধ্যাপনা করেছেন বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যার মধ্যে আছে সিটি কলেজ, কলকাতা (১৯২২-১৯২৮), বাগেরহাট কলেজ, খুলনা (১৯২৯); রামযশ কলেজ, দিল্লী (১৯৩০-১৯৩১), ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল (১৯৩৫-১৯৪৮), খড়গপুর কলেজ (১৯৫১-১৯৫২), বড়িশা কলেজ (অধুনা ‘বিবেকানন্দ কলেজ’, কলকাতা) (১৯৫৩) এবং হাওড়া গার্লস কলেজ, কলকাতা (১৯৫৩-১৯৫৪) তার কর্মজীবন আদৌ মসৃণ ছিল না। চাকরি তথা সুস্থির জীবিকার অভাব তাকে আমৃত্যু কষ্ট দিয়েছে।

একটি চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। স্ত্রী লাবণ্য দাশ স্কুলে শিক্ষকতা করে জীবিকার অভাব কিছুটা পুষিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাওড়া গার্লস কলেজ কর্মরত ছিলেন। দুই দফা দীর্ঘ বেকার জীবনে তিনি ইন্সুরেন্স কোম্পানীর এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন এবং প্রধানত গৃহশিক্ষকতা করে সংসার চালিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায়ের চেষ্টাও করেছিলেন বছরখানেক। দারিদ্র্য এবং অনটন ছিল তার কর্মজীবনের ছায়াসঙ্গী।

রোজকার মতো বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। বাড়িতে ফেরার পথে কলকাতার রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে ‘জলখাবার’ ও ‘জুয়েল হাউস’-এর সামনের রাস্তা পেরোতে গিয়ে কি যে হলো তাঁর, তা আজও রহস্য। দিনটি ১৪ অক্টোবর ১৯৫৪। ট্রামের ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল কণ্ঠা, ঊরু এবং পাঁজরের হাড়। গুরুতরভাবে আহত কবিকে নেয়া হয় শম্ভূনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। এখানেই তিনি চিকিৎসক ও সেবিকাদের সকল প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২শে অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে রাত্রি ১১টা ৩৫ মিনিটে মৃত্যু বরন করেন।

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে– এই বাংলায়/হয়তো মানুষ নয়– হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে,/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে / কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়; / হয়তো বা হাঁস হ`ব–কিশোরীর–ঘুঙুর রহিবে লাল পায়, / সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে; / আবার আসিব আমি বাংলায় নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে।’ (আবার আসিব ফিরে/রুপসী বাংলা)

কবি জীবনানন্দ দাশ সশরীরে না এলেও কবিতার মাধ্যমে তিনি আমাদের মাঝে এই বাংলায় ফিরে আসেন বারবার।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ