spot_img
22 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

জি-২০ নেতৃত্বে ভারতকে নানা প্রতিকূলতা জয় করতে হবে

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: সার্বভৌমত্বকে তুলনা করা চলে দ্বিধারী তলোয়ারের সাথে, অন্যদিকে নেতৃত্ব বিশাল এক দায়িত্ব। এই দুই তত্ত্বকেই কাজে লাগিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্ব দিবেন বিশ্বের বিশটি দেশের, বা একত্রে বলতে গেলে জি-২০ এর। এই বিশটি দেশ একে অপরের থেকে একদম আলাদা, তাদের চিন্তাধারা আলাদা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও আলাদা, তাই এদের নেতৃত্ব দেওয়া অবশ্যই বিরাট এক দায়িত্ব।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বক্তব্য প্রদানকালে নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানান, যা অবশ্যই তার কূটনীতিক বুদ্ধিমত্তাকে নির্দেশ করছে। দুই মাস আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথেও সাক্ষাৎ করে তিনি তাকে এই আহ্বান জানান।

এই বছরটি ভারতের কূটনৈতিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর ছিল। ২০০৬ সালে তৎকালীন আমেরিকান রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটায়।

তবে এই বছর, মস্কোর সৈন্যরা ইউক্রেনে হামলা করার সাথে সাথে অনেক রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে গেছে। জাতিসংঘে রাশিয়া, ইউক্রেনের ব্যাপারে ভোটের ক্ষেত্রে ভারত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মোদি ইউক্রেনকে সাহায্য করতে সম্মত হয়েছেন। এতে এখানে অযথাই ভারত মধ্যস্থতাকারী হতে চাচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

আবার অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত তেল কিনে নিচ্ছে, এ ব্যাপারটিও সবার নজর এড়ায়নি। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

আপাতদৃষ্টিতে দেখতে লাগছে দুই দেশই আসলে এক লুকোচুরি খেলায় লিপ্ত হয়েছে। চীন এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে এখানে ব্যবহার করতে পারে। তবে ভারতেরও এ জিনিস বুঝা উচিত যে রাশিয়া এবং চীন অনেক সময়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছে।

তবে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবে না। কারণ এ দুই রাষ্ট্রই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাদের চিন্তাধারা মুক্ত ও স্বাধীন। গত কয়েক দশক ধরেই তাদের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কও দৃঢ় হয়ে উঠেছে। কিন্তু পুতিনের জন্য তাদের এ সম্পর্কেও চিড় ধরেছে। তবে মনে হয় না যে, এসময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য বা জাপানও ভারতকে এমন কোনও সাহায্য করতে পারবে যার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

জি-২০ সম্মেলনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নানা তর্ক বিতর্ক হতে পারে বলে অনেকেরই ধারণা। কারণ এখানে তাইওয়ান এবং উত্তর কোরিয়ার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে। তবে সম্প্রতি এ দুই দেশের প্রেসিডেন্ট, শি জিনপিং এবং জো বাইডেন পরস্পরের সাথে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হবেন বলে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

তাই ভারতের এ জিনিস বুঝা উচিত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীনের সাথে খারাপ সম্পর্ক ও পাকিস্তানের সাথে ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর ভারতের সাথে তার সম্পর্ক শুধুমাত্র কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।

মোদী তার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতীক পদ্মকে জি-২০ এর লোগো হিসেবে ব্যবহার করার ফলে তার অনুগামীদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অন্যদিকে তিনি নিজেকে বিশ্বগুরু হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হলো, শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো একটি সর্বোচ্চ শক্তি। তবে চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হলে এর মূল্য চুকাতে হবে ভারতকেই। দুই বছর আগে লাদাঘ অঞ্চলে সীমান্ত সংঘর্ষে ভারত ২০ জন সৈন্যকে হারায়, এ স্মৃতি তার কখনোই ভুলা উচিত নয়।

তবে অনেকেরই পরামর্শ হলো, রাশিয়া ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মোদি আলাদা কোনও সম্মেলনের ব্যবস্থা করতে পারেন। এই জি-২০ সম্মেলনে তার উচিত কোভিড-১৯ মহামারীর পর বৈশ্বিক মন্দা কিভাবে মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা।

ভারতকে জি-২০ নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অবশ্যই অনেক প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হবে। কারণ এ দেশটিই এমন একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে নিজেদের অভ্যন্তরীণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।

বালিতে মোদী ভারতের শক্তি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে রাশিয়া থেকে কেন তারা তেল কিনছেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। তবে মোদীকে সত্যিকারের বিশ্বগুরু হয়ে উঠতে গেলে নিজেদের স্বার্থের চিন্তা ভুলে বিশ্বের স্বার্থ নিয়ে ভাবতে হবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ