spot_img
25 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ভারতীয় প্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থাগুলোর লড়াই

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নতুন রিপোর্টে জলবায়ু বিপর্যয়ের ভয়াবহ পরিস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় প্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে।

আইটিসি, ইওয়াই, ফ্লিপকার্ট, জেপিমর্গান, চেইস, জেনপ্যাক্ট এবং পারসিস্টেন্ট সিস্টেমসসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পরিষেবা কোম্পানি পরিবেশের স্থায়িত্ব বজায়কে তাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নেট-জিরো নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, ডিকার্বনাইজেশন ত্বরান্বিত করা, স্বল্প মাত্রার কার্বন নির্গত হয় এমন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করা, সুরক্ষিত পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ হ্রাস ও অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ব্যবস্থা।

জেনপ্যাক্টের মতো সংস্থাগুলো তাদের সরবরাহকারীদেরকেও এ পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্লিপকার্ট ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০% বৈদ্যুতিক যান নির্মানে মনোনিবেশ করেছে।

পরিবেশের স্থায়িত্বের জন্য গৃহীত এ উদ্যোগগুলো কোম্পানি কর্তৃক সঠিকভাবে পালন এবং সেই সাথে কোম্পানির নিজস্ব স্থায়িত্ব বজায় রাখার মাধ্যমেই উক্ত কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজেদের কর্মদক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন।

কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সাসটেইনেবলিটি সংস্থার প্রধান, এস শিবকুমার বলেন, “কোন ব্যর্থ বাণিজ্যিক সংস্থা সমাজের কোন উপকারেই আসে না। বরং উদ্ভাবন, অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈচিত্র্যময় কাজ করার সক্ষমতা বিশ্বকে নেট শুন্য অর্থনীতিতে পরিণত করার কাজে সাহায্য কর‍তে পারে।”

আইটিসি এর চেয়ারম্যান সঞ্জিব পুরি সাসটেইনেবলিটি ২ (এস ২) ধারার মাধ্যমে ২০২১-২২ সালের ভেতর প্লাস্টিক বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন। তাছাড়াও তিনি স্বল্প মাত্রার কার্বন নির্গমনের পরিকল্পনা করেছেন। যার ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির বৃদ্ধি ঘটবে, শক্তি অপচয় হ্রাস পাবে এবং পুনরায় উৎপাদনযোগ্য কৃষি অনুশীলনের প্রচার প্রসার ঘটবে।

২০২১-২২ সালে, প্রধান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তি অপচয়ের হ্রাস এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনের হার কমাতেও সক্ষম হয়েছে।

ইওয়াই প্রধান জানান, সারা বিশ্বে কার্বন নির্গমন হ্রাসের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ব্যবসায়িক ভ্রমণ হ্রাস, যার ফলে এফ১৯ বেসলাইনের বিপরীতে এফ২৫ এর ৩৫% হ্রাস হয়; অফিসে বিদ্যুতের অপচয় হ্রাস, ১০০% নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, প্রাকৃতিক সমাধান গ্রহণ করা এবং কার্বন নিঃসরিত হয় এমন প্রযুক্তি বর্জন করা এ পরিকল্পনার অংশ।

ইওয়াই ইন্ডিয়ার সিইও, রাজীব মেমানি বলেন, “আমাদের ইওয়াই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ, বনায়ন এবং জল ব্যবস্থাপনার মতো বেশ কিছু উদ্যোগ চালাচ্ছি।”

কোম্পানিটি তার গ্রাহকদেরকে কার্বন নির্গমনহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী এবং উন্নত সেবা প্রদান করছে।

কার্বন নির্গমনের ক্ষেত্রে শিল্পকারখানাগুলো বিরাট বড় ভূমিকা রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষার বিশাল দায়িত্বও তাদের উপরেই বর্তায়।

জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রতিবেদন জানায় যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং তাপমাত্রা অন্ততপক্ষে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে যথেষ্ট নয়। বর্তমানের পরিস্থিতি অনুযায়ী বলা যায়, এ শতাব্দীর শেষদিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২.৪-২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় অনেক শিল্প কারখানাই এগিয়ে আসছে এবং তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

২০৭০ সালের ভেতর কেন্দ্রীয় সরকারের নেট জিরো পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লিপকার্ট, মিনট্রা এবং ক্লিয়ারট্রিপ নিয়ে সংগঠিত ফ্লিপকার্ট গ্রুপ কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ২০৪০ সালের ভেতরেই নেট জিরো পদক্ষেপ পূরণের চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে জেনপ্যাক্ট, শক্তি অপচয় রোধ করে যথাসাধ্য প্রাকৃতিক সমাধানের উপরেই নির্ভর করছে। তারা উন্নত প্রযুক্তির উপরও খরচা করছে যেন জানা যায় কার্বন নির্গমনের হার ঠিক কোন জায়গাটাতে বেশি হচ্ছে এবং এর সঠিক কারণ কি ও সমাধান কি।

জেনপ্যাক্টের সিইও, টাইগার ত্যাগরাজন বলেন, “২০১৬ সালের গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমরা চাই শক্তির অপচয় কমিয়ে শক্তি ব্যবহারের কার্যকারিতাকে ২০ শতাংশে উন্নীত করতে এবং প্রায় ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন করতে।”

জেপিমর্গান চেইস ২০৩০ সালের ভেতরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এবং টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০২১ সালে, কোম্পানিটি নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন এবং টেকসই পরিবেশ নির্মাণে ১০৬ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করে। এটি নিজস্ব কোম্পানির পাশাপাশি অন্যান্য কোম্পানিগুলোকেও আর্থিক ঋণ প্রদান করে তাদের এ পদক্ষেপে শামিল হওয়ার আহ্বান জানায়।

পারসিস্টেন্ট সিস্টেমস এর এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল এন্ড গভর্নেন্সের প্রধান, চিত্রা বাইরেগৌদা বলেন, প্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থার প্রাকৃতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে আছে প্রাকৃতিক শক্তিউৎসগুলোতে বিনিয়োগ, বৃক্ষরোপণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং জলাশয় উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ