spot_img
25 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

চীনের অনাগ্রহের কারণে আইএমএফের বিরাট সুযোগ হারাতে পারে শ্রীলঙ্কা

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: চীন, শ্রীলঙ্কার সাথে ঋণ পুনর্গঠনে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ সুরক্ষিত করার জন্য ডিসেম্বরের যে সময়সীমা ছিল তা হয়তো হারাতে পারে বলে ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

শ্রীলঙ্কা যদি ডিসেম্বরের এই সময়সীমাটিকে কাজে না লাগাতে পারে তবে দেশটিকে আইএমএফ থেকে ২৯ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ নেওয়ার জন্য ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, আইএমএফ কর্মী এবং শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৯ কোটি মার্কিন ডলারের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এর অধীনে ৪৮ মাসের ব্যবস্থাসহ শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক নীতিগুলিকে সমর্থন করার জন্য একটি কর্মী-স্তরের চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এ চুক্তিতে বলা হয়, ঋণের স্থায়িত্ব ও অর্থায়নের ফাঁক ফোকড়গুলোকে নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য শ্রীলঙ্কার ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ ত্রাণ ও বহুপাক্ষিক অংশীদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হবে।

তবে আইএমএফ ঋণ সুবিধা দেওয়ার সময় বলেছিল, শ্রীলঙ্কার সরকারী পাওনাদারদের কাছ থেকে ঋণের স্থায়িত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা এবং আইএমএফ শ্রীলঙ্কাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত ঋণদাতাদের সাথে একটি সহযোগিতামূলক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ব্যাপারে শ্রীলঙ্কায় জাপানের রাষ্ট্রদূত, হিডেকি মিজুকোশি বলেছেন, ঋণ পুনর্গঠন আলোচনা প্রক্রিয়ার সমর্থনে জাপান শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছে যাতে শ্রীলঙ্কা আইএমএফের সাথে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে৷

সেই অনুযায়ী, ভারত ও জাপান ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে চীন এখনো শ্রীলঙ্কাকে কোন রকম সাহায্য সহযোগিতাই করছে না।

২০২১ সালের শেষে শ্রীলঙ্কার মোট ঋণ ছিল ৩৬০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চীনের কাছে শ্রীলঙ্কার ৭১ কোটি মার্কিন ডলার বা ঋণের ২০ শতাংশ পাওনা রয়েছে। মোট সরকারী ঋণ, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে যা জিডিপির ১১৫.৩ শতাংশ ছিল, তা এখন ২০২২ সালের জুনের শেষের দিকে এসে জিডিপির ১৪৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

আইএমএফ শ্রীলঙ্কাকে অর্থায়ন ঋণ মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হওয়ার আগেই জানিয়েছিল যে দেশটিকে ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে চীনের সাথে আলোচনা শুরু করতে হবে।

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন রয়টার্সকে বলেছেন, “চীন একটি বড় ঋণদাতা রাষ্ট্র। তাই শ্রীলঙ্কাকে ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে তার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকতে হবে।”

তবে চীনের অসহযোগিতার কারণে যদি শ্রীলঙ্কা ডিসেম্বরের এ সুযোগ টি না পায় তবে দেশটিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

৩১ অক্টোবর, ২০২২-এ, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমসিংহ বলেন যে ঋণ পাওয়া ও ঋণ দাতাদের সাথে আলোচনা করা একটি অত্যন্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, “আইএমএফের কাছে ডিসেম্বরে যেতে হলে আমাদের নভেম্বরের ভেতরেই সকল ঋণদাতা রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে আসতে হবে৷ তবে এ ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে কারণ চীন এখন ২০তম কংগ্রেস নিয়ে ব্যস্ত। তাই মনে হয় না আমরা ডিসেম্বরের ভেতর কিছু করতে সক্ষম হব।”

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট, অব্যবস্থাপনা, দুর্বল আর্থিক শৃঙ্খলা, রাজাপাকসে সরকারের কথিত দুর্নীতির ফলে বেইজিং যে ঋণগ্রস্ত হয়েছে তা থেকে আগামী পাঁচ বছরেও দেশটির উত্তরণের পথ নেই।

তাছাড়া বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে চীন শ্রীলঙ্কাকে এক বড় প্রকল্পে যুক্ত করে, যার ফলে দেশের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। তাই শ্রীলঙ্কার এ অবস্থার জন্য অনেকেই চীনকে দোষারোপ করছে, যদিও চীন এ সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছে।

শ্রীলঙ্কা বড়সর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে এ বছরের ১২ এপ্রিল থেকে সমস্ত বিদেশি ঋণ পরিশোধ স্থগিত করে দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন যে আইএমএফ ঋণ বিতরণের সময় মূলত চীনের দ্বিপাক্ষিক এবং বাণিজ্যিক ঋণ পুনর্গঠন পদ্ধতির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

শ্রীলঙ্কার অর্থ প্রতিমন্ত্রী শেহান সেমাসিংহে বলেছেন, দেশটি তার প্রধান দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতা চীন, জাপান এবং ভারতের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনা করেছে।

তিনটি দ্বিপাক্ষিক দাতার মধ্যে, শুধুমাত্র চীন ঋণ পুনর্গঠনের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি বিক্রমাসিংহে, মিশরে কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে দেখা করেছিলেন। তিনি চীন ও জাপানকে ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ আলোচনা শেষ করার আহ্বান জানান।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বেসামরিক সংস্থা কলম্বোতে চীনা দূতাবাস পরিদর্শন করেছে যাতে শ্রীলঙ্কার ঋণ পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য চীনকে অনুরোধ করা যায়। তবে, কলম্বোতে চীনা দূতাবাস বেসামরিক সংস্থাগুলির চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকার জানিয়েছে বলে জানা যায়।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ