spot_img
21 C
Dhaka

৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

চীনা পাচারকারীদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিপাইন

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: চীন থেকে উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক চোরাচালানে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিপাইনের সবজি চাষীদের দুর্দশার বিষয়ে, কৃষকদের সমবায় নেতার কাছ থেকে সমগ্র পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার জন্য উদগ্রীব ছিল সরকার।

কিন্তু চোরাচালানের ব্যাপারে একসময়ের সোচ্চার প্রতিপক্ষ এলানসা এগ্রিকালতুরার সহ-প্রতিষ্ঠাতা, আর্নেস্টো অর্ডোনেজ, যিনি কৃষক ও জেলেদের ৩২টি ফেডারেশন নিয়ে দেশব্যাপী জোট গঠন করেছিলেন, তিনিও এখন হত্যার হুমকিতে ভয় পেয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি জানান যে, তাকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ফিলিপাইনে খাবারের দাম সম্প্রতি আকাশচুম্বী হয়েছে, পেঁয়াজ এখন ৭২০ পেসো (১৩ মার্কিন ডলার) প্রতি কিলোগ্রামে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের এপ্রিলে মাত্র ৬০ পেসোতে বিক্রি হচ্ছিল। পাচারকারীরা জনগণের হতাশার সুযোগ নিচ্ছে।

টাইফুন, কীটপতঙ্গের উপদ্রব, এবং উচ্চ সার ও জ্বালানী খরচের সংমিশ্রণে বর্তমানে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যে ঘাটতি ব্যবসায়ীদের মজুদকারী সরবরাহ এবং কৃষকদের গত বছরের ফসল সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবের কারণে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফিলিপাইনের শুল্ক ব্যুরো সম্প্রতি চীন থেকে পাচার করা ১৫৩০ লাখ পেসো (২৮ লাখ মার্কিন ডলার) মূল্যের লাল এবং সাদা পেঁয়াজ জব্দ করেছে।

কংগ্রেসের প্রতিনিধি ও চোরাচালান বিরোধী তদারকি কমিটির প্রধান, জোয়ে সালসেদা, এর আগে বলেছিলেন যে, তিনি চীনা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন এবং কৃষি পর্যায় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন।

তিনি জানান, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এ ব্যাপারে মূল অপরাধীরা চীনা এবং তাদের সহযোগী। তবে অপরাধীদের মূল কেন্দ্রে যেতে পারলে এ অপরাধের অবসান ঘটানো সম্ভব।

ফেডারেশন অফ ফ্রি ফার্মার্স (এফএফএফ) এর জাতীয় ব্যবস্থাপক রাউল মন্টেমেয়র বলেছেন, চোরাচালান একটি লাভজনক ব্যবসা যা শুধুমাত্র কয়েকজনকে উপকৃত করেছে। এতে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী উপকৃত হলেও কৃষক কিংবা ভোক্তারা লাভবান হন না।

তাইপেই-ভিত্তিক ফুড অ্যান্ড ফার্টিলাইজার টেকনোলজি সেন্টারের ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৯৮৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১৯.৬ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চাল, ৪৪৮০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পরিশোধিত চিনি, ৪২৮০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের গরুর মাংস এবং ২৯৫০ লাখ ডলারের পেঁয়াজ ফিলিপাইন থেকে পাচার করা হয়।

জাতিসংঘের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুসারে, ফিলিপাইনে চীনের কৃষি ও মাছ, ফল এবং বাদাম রপ্তানির পরিমাণ ৬৮ কোটি পেসো। যাইহোক, পিএসএ শুধুমাত্র ২০২১ সালে চীন সহ সমস্ত দেশ থেকে ৭৭৩৬ লাখ পেসো (১৪০ লাখ মার্কিন ডলার) কৃষি আমদানি রেকর্ড করেছে।

অনেক বছর ধরেই ফিলিপাইনে চোরাচালান একটি বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখান থেকে চোরাচালান দুই উপায়ে পরিচালিত হয়। এক, সরাসরি চোরাচালান, যেখানে পণ্য শুল্ক পরিশোধ না করেই দেশে লুকিয়ে রাখা হয় এবং দুই, প্রযুক্তিগত চোরাচালান।

এফএফএফ ২০১৯ সাল থেকে, আমদানিকৃত চালের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, রদ্রিগো দুতার্তে চাল আমদানির পরিমাণগত বিধিনিষেধ সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাল শুল্ক আইন অনুমোদন করেন এবং পরিবর্তে বিভিন্ন শুল্ক আরোপ করেন।

গত বছর, বেঙ্গুয়েটের উচ্চভূমি প্রদেশের কৃষকেরা চীন থেকে গাজরের ব্যাপক চোরাচালান বন্ধ করতে এবং কোরিয়ান স্ট্রবেরিকে অধিক মূল্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সিনেটরদের কাছে অনুরোধ করেন।

কৃষকরা জানায়, গ্রাহকেরা দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে চীনা গাজর পছন্দ করে। ফলে বেশিরভাগ বেঙ্গুয়েট গাজর ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে লাখ লাখ পেসো লোকসান হয়।

কর্তৃপক্ষের কাছে অন্তত ২০ জন অভিযুক্ত চোরাচালানকারী এবং তাদের উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারীদের তালিকা রয়েছে, যাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত করা হয়নি। এ ব্যাপারে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র-এর কাছে তালিকাটি হস্তান্তর করা হয়েছিল, যিনি চোরাচালানকারীদের রক্ষা করার জন্য অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়েছিলেন।

উল্লেখযোগ্য এ নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেভিডসন বঙ্গায়ন, যিনি ২০১৮ সালে চাল বাণিজ্যের একচেটিয়া আধিপত্যের জন্য অভিযুক্ত হন কিন্তু পরে জামিনে মুক্তি পান।

জড়িত রাজ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলেন নাভোটাস সিটির মেয়র টোবি তিয়াংকো, তৎকালীন কাস্টমস কমিশনার রে গুয়েরেরো এবং তার দুইজন ডেপুটি এবং তৎকালীন কৃষি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি এরিয়েল কায়ানান।

রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের আগে, মার্কোস জুনিয়র প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি সব চোরাচালানকারীদেরকে গ্রেফতার করবেন। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ে, সিনেটররা তাকে চোরাচালানকারীদের তালিকা দিলেও চোরাচালান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মার্কোস জুনিয়ারের বড় বোন, সিনেটর ইমি মার্কোস, আগে বলেছিলেন যে চোরাচালানকারীরা পরিচিত, কিন্তু ২০১৬ সালের আইন চোরাচালানকে অর্থনৈতিক নাশকতার অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সত্ত্বেও চোরাচালানকারীদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে এদেশে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়।

২০০২ সালে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগাল-অ্যারোয়ো অ্যান্টি স্মাগলিং ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেন্টার তৈরি করেন। তিনি অর্ডোনেজকে তার বেসরকারী খাতের প্রতিনিধি হিসাবে নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, এ জোট সফলভাবে চোরাচালানের পরিমাণ ২৫ শতাংশ কমিয়ে এনেছে কারণ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল এবং সরাসরি অ্যারোয়োকে সমস্ত তথ্য প্রেরণ করা হয়েছিল।

দুই বছর পর, অর্ডোনেজ জানান যে, কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ছেলে এ বিষয়ে জড়িত থাকার ফলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়াকালীন সময়ে জোটটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তী প্রশাসন কম শক্তিশালী চোরাচালান বিরোধী কমিটি গঠন করে ৩১ শতাংশ চোরাচালান কমাতে সক্ষম হয়।

তবে যখন দুতের্তে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন চোরাচালান বিরোধী কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

মন্টেমেয়র বলেন, কৃষি বিভাগের সাম্প্রতিক পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদনটিও ত্রুটিযুক্ত, কারণ এতে স্থানীয় কৃষকদের দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আই. কে. জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ