spot_img
26 C
Dhaka

৩০শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে বাংলাদেশের উচ্ছ্বাস দেখতে আসবেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক***যৌনপল্লীর গল্প নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রঙবাজার’***কেন ক্ষমা চাইলেন কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলান***বিলুপ্তপ্রায় কুমিরের সন্ধান, পুনর্ভবা নদীর তীরে মানুষের ভিড়***সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনেই হবে সমাবেশ : বিএনপি***পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল টিটিপি ইসলামাবাদের গলার কাঁটা?***পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সম্পর্ক কি শেষের পথে?***শীত মৌসুম, তুষার এবং বরফকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া : ন্যাটো***নানা সুবিধাসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে চাকরির সুযোগ***বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি ও আসনবিন্যাস প্রকাশ

চীনকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান তিব্বতিদের

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: মিলানে অনুষ্ঠিত ৩য় ইউরোপ-তিব্বতীয় সম্প্রদায়ের সাধারণ সভা (ইটিসিজিএম) অক্টোবর ১-২ তারিখ অনুষ্ঠিত হয়। এ সাধারণ সভায়, নয়টিরও বেশি ইউরোপীয় দেশের তিব্বতি সম্প্রদায় এবং সমিতির প্রতিনিধিরা তিব্বতিদের মানবাধিকার এবং সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ইটিসিজিএম-এর এজেন্ডায় তিব্বতি সংস্কৃতি, ভাষা ও পরিচয় রক্ষার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার কথা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিব্বতকে কীভাবে অগ্রসর করা যায় এবং চীন কর্তৃক তিব্বতে মানবাধিকার দমনের বিরুদ্ধে কীভাবে আওয়াজ তোলা যায় এ ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত সকলে তিব্বত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিব্বতে চীনা সরকার কর্তৃক ঔপনিবেশিক ধাঁচের বোর্ডিং স্কুল ব্যবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সভায় একটি প্রস্তাব পাস করা হয়।

চীনের দখলে থাকা তিব্বতের শোচনীয় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে, অংশগ্রহণকারীরা ‘‘মিলানো ঘোষণা’’ নামক একটি ঘোষণা গৃহীত করেন, যার মাধ্যমে উপস্থিতরা তিব্বতের অবনতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের নিজেদের মধ্যে তিব্বতের জন্য সংহতি ও সমর্থন জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

প্রায় এক মিলিয়ন তিব্বতি শিশু যাদের মধ্যে কিছু চার বছরের কম বয়সীও আছে, তাদেরকে পিতামাতার কাছ থেকে জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ‘‘বোর্ডিং স্কুলে’’ পাঠানো হয় যেখানে তাদের চীনা ভাষায় পড়ানো হয় এবং তিব্বতি ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তাদের ‘‘দেশপ্রেমিক শিক্ষা’’ দেওয়া হয়। এর ফলে তিব্বতি সংস্কৃতির পাশাপাশি কয়েক শতাব্দীর প্রাচীন তিব্বতি সভ্যতাও আজ ধ্বংসের পথে।

ইউরোপে অবস্থিত তিব্বতিরা বলেছে যে তারা তিব্বতের সাম্প্রতিক কিছু ভিডিও এবং রিপোর্ট দেখে আতঙ্কিত। এ রিপোর্ট ও ভিডিওগুলো থেকে জানা যায়, জিরো-কোভিড নীতির আড়ালে তিব্বতিদেরকে জোরপূর্বক ‘‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে’’ আটকে রাখা হচ্ছে, এবং এখানে তারা কোভিড পজিটিভ নাকি নেগেটিভ তা দেখা হচ্ছেই না। তাদেরকে বাসি পচা খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে তাদের মৌলিক সকল সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে কিছু তিব্বতি আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হয়েছে। এই সমস্ত ভিডিও মূলত তিব্বতিদের উপর হওয়া সমস্ত অত্যাচার ও নিপীড়নের প্রমাণস্বরূপ।

সভায় উপস্থিত সকলে পুরুষ, মহিলা এবং শিশুসহ ১ মিলিয়নেরও বেশি তিব্বতের গণ ডিএনএ সংগ্রহের রিপোর্ট নিয়েও শঙ্কা জানিয়েছে। চীনা কর্মকর্তারা চীন সরকারের উচ্চ প্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জুন ২০১৬ থেকে জুলাই ২০২২ এর মধ্যে তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে। তাদের এই মানবাধিকারের স্পষ্ট সীমালঙ্ঘন শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের পর্যন্ত তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএনএ সংগ্রহ অভিযান ২০১৯ সালে একটি পুলিশিং প্রচারণার অংশ হিসাবে শুরু হয়েছিল এবং এতে পরিদর্শন, তদন্ত এবং মধ্যস্থতা জড়িত ছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের (টিএআর) অন্তত ৭টি গ্রাম, ২টি জনপদ, ২টি শহর, ২টি বিভাগ এবং একটি এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়া স্থানীয় ডিএনএ ডাটাবেস তৈরির জন্য দুটি সরকারি দরপত্রও পাঠানো হয়েছিল।

যদিও গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (পিআরসি)এর দাবি তিব্বত চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিব্বত বেআইনিভাবে নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ এর নির্বাসিত সরকার। ১৯৫১ সালের আগে তিব্বতে একটি ধর্মতান্ত্রিক সরকার ছিল যার সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রধান ছিলেন দালাই লামা।

চীনে উইঘুর মুসলমানদের নিপীড়নের মতোই, শি জিনপিংয়ের কমিউনিস্ট সরকার অপরাধ সনাক্তকরণের অজুহাতে তাদের সম্মতি ছাড়াই তিব্বতের বাসিন্দাদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করতে বলপ্রয়োগ করছে। প্রতিনিধিরা চীনা সরকারকে তার নিজস্ব সাংবিধানিক বিধান এবং তিব্বতের জনগণের ভাষার অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসন সহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাকে সম্মান ও বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান।

তারা ইউরোপীয় দেশগুলোর জাতীয় সরকার, সংসদ সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবতাবিরোধী অপরাধের কাজ বন্ধ করতে চীনা সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান। ছয় দশক আগে চীনের দখলদারিত্বের পর থেকে তিব্বতের অভ্যন্তরে থাকা তিব্বতিরা চীনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে ক্রমাগত ভুগছে। চীন সরকার তিব্বতিদের তাদের মৌলিক মানবাধিকার এবং নিজেদের মানুষ বলার সহজাত মর্যাদাটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

অ/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ