spot_img
24 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণ: গোয়েন্দা প্রধানের অপসারণ দাবি পাকিস্তানিদের***২৬ জনকে চাকরি দেবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান***ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে আনোয়ার গ্রুপ***ভালো মানুষ আর টাকাওয়ালা পাত্র খুজছেন রাইমা সেন!***বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী***সিডনি প্রবাসী শিল্পী ইলোরা খানের প্রথম মৌলিক গান ‘মুছে ফেলে দাও’ (ভিডিও)***বইমেলায় সাতটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর***বাংলা সাহিত্যের সব বই অনুবাদের চেষ্টা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী***রমজানে শিশু হাফেজদের নিয়ে মেগা রিয়েলিটি শো ‘কুরআনের নূর’***হাথুরুসিংহের ফেরা নিয়ে সাকিবের ‘নো কমেন্টস’

ঘুরে আসুন স্বপ্নের নুহাশ পল্লী

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: প্রকৃতি সবসময় আমাদের টানে। নগরজীবনের হাজার ব্যস্ততার মাঝে মন চায় একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে। আর তাই তো নগরীর আশপাশে যাওয়া যেতে পারে, যা আপনার একঘেঁয়েমি ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে দেবে।

ঠিক এমনই একটি জায়গা ঢাকার সবচেয়ে কাছে ‘নুহাশ পল্লী’। অতি সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন আপনি। প্রিয়জন, পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটির দিনে ঘুরে আসতে পারেন নুহাশ পল্লী থেকে।

প্রায় ৪০ বিঘা জমির উপর স্থাপিত এই নুহাশ পল্লী রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলায় অবস্থিত যা মূলত নুহাশ চলচিত্রের শুটিংস্পট ও একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি গাজীপুর জেলার চান্দিনা চৌরাস্তা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া এলাকার পিরুজালী নামক গ্রামে নানা স্থাপনা, অসংখ্য ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের বাগানসমৃদ্ধ একটি বিনোদন কেন্দ্র। যা জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ছেলে নুহাশের নামে নামকরণ করে একটি স্বপ্নজগৎ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

কী আছে নুহাশ পল্লীতেঃ

মূল রাস্তা থেকে নেমে শালবনের ভেতর দিয়ে একটু এগুলেই সামনে পড়বে হরেক রকমের কুটির শিল্পের তৈজসপত্র ও শিশুদের খেলনার দোকান এবং খাবারের দোকান। এরপর নুহাশ পল্লীর মূল ফটক। মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সবুজ ঘাসে আবৃত বিরাট মাঠ এবং একটি বড় শেফালী গাছ।

এর পাশেই রয়েছে পাকা বসত ঘর/বাংলো (হুমায়ূন আহমেদ এর প্রিয় বাসভবন হোয়াইট হাউজ), যার সামনে দেখা মিলবে চিন্তিত হুমায়ুন আহমেদের ম্যূরাল।

মূল ফটকের ডান পাশেই দাঁড়িয়ে আছে হুমায়ুন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন ও তাঁর ছেলে নুহাশের ভাস্কর্য (মা ও ছেলের ভাস্কর্য)। এখানেই আছে বিশ্রাম নেয়ার মতো একটি ছাউনি এবং অর্গানিক ফর্মে ডিজাইন করা ডিম্বাকৃতির একটি সুইমিংপুল।

এরপর একটু সামনে এগুলেই হাতের ডান পাশে রয়েছে বিভিন্ন গাছের বড় উদ্যান। উদ্যানের পূর্বদিকের খেজুর বাগানের পাশে ‘বৃষ্টিবিলাস’ নামে একটি অত্যাধুনিক ঘর রয়েছে। এর ছাদ টিনের তৈরি।

এখানে বসে থেকে বৃষ্টির শব্দ শুনতেই এ আয়োজন। এছাড়া নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য বৃষ্টি বিলাস থেকে একটু দূরেই দিঘির পাড়ে রয়েছে ‘ভূতবিলাস’ নামে আরেকটি দুই কক্ষবিশিষ্ট আধুনিক বাংলো।

নুহাশ পল্লীর অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো প্রাচীন আদলে নির্মিত আধুনিক দুটি ঘাট বাঁধানো বৃহৎ আকারের ‘লীলাবতী দীঘি’। এ দীঘির চারপাশের পাড়জুড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে।

দিঘির মাঝখানে একটি দ্বীপ আছে, যেখানে কয়েকটি নারিকেল গাছ থাকায় দ্বীপের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করে তুলেছে। এখানে যেতে ভূত বিলাসের পাশ দিয়েই একটি বাঁশ ও কাঠের সাকো তৈরি করা হয়েছে। যদিও সাকোটি এখন একটু নড়বড়ে হয়ে গেছে।

নুহাশ পল্লীতে রয়েছে প্রায় আড়াইশ প্রজাতির গাছ, ঔষধি গাছের বাগান, হুমায়ুন আহমেদের কটেজ, ট্রিহাউজ, কাদামাটি ও টিন দিয়ে তৈরি করা শুটিং স্টুডিও এবং দাবা খেলা ও নামাজ পড়ার কক্ষ।

বৃষ্টি বিলাসের সামনের দিকে সবুজ মাঠের মাঝ বরাবর একটি বড় গাছের উপর কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট দুটি কুটির, যেগুলোতে উঠার জন্য রয়েছে বিভিন্ন রঙে রাঙ্গা সিড়ি।

নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের আবক্ষ মূর্তি ও সমাধিস্থলসহ শীতল পানির সরোবরে পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রূপবতী মৎসকন্যা। এর পাশে একটি বিরাট রাক্ষসের মূর্তিও রয়েছে।

আরো আছে কংক্রিট দিয়ে তৈরি ডাইনোসরের মতো প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুকীর্তি, দাবার গুটির প্রতিকৃতি, হরেকরকম কবুতর ও ঘর, মাটির তৈরি ঘর ও পানির কূয়া, পদ্মপুকুর, বসার জন্য ছাউনি, কংক্রিটের তৈরি বিশাল ব্যাঙের ছাতা, দোলনা, মাটির প্রাচীর এবং ট্রি হাউজসহ নানা রকম দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপত্য এবং শালবন, অর্কিড বাগানসহ মোট তিনটি বাংলো।

নুহাশ পল্লী যাবেন কিভাবে?

বাংলাদেশের যেখান থেকেই যেতে চান না কেন, প্রথমে আপনি গাজীপুরের চান্দিনা চৌরাস্তায় গিয়ে নামতে পারেন। আর ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা বা শেরপুর ওইদিক থেকে আসলে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নামবেন। যদি চৌরাস্তায় নামেন তাহলে ওখান থেকে বিভিন্ন মিনিবাসে চড়ে ২০-৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে হোতাপাড়া যেতে হবে।

তবে সিএনজি দিয়েও যেতে পারেন। এরপর হোতাপাড়া থেকে সিএনজি বা লেগুনা বা অটো রিক্সায় নুহাশ পল্লীতে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিজনের ভাড়া পড়বে ৩০-৪০ টাকা করে। আর অটোরিকশা বা সিএনজি রিজার্ভ করে নিলে ১৫০-২০০ টাকা খরচ হবে।

টিকেটের মূল্য এবং সময়সূচীঃ

নুহাশ পল্লী কোনও সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়াই সারা বছরই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে ১২ বছরের উপরে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

তবে বছরের ২ দিন অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর (হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন) এবং ১৯ জুলাই (মৃত্যুবার্ষিকী) নুহাশ পল্লী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে, তখন টিকিট ছাড়াই যেকেউ প্রবেশ করতে পারে।

এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, নুহাশ পল্লী বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাসের আগ পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন খোলা থাকে। কিন্তু নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পিকনিকের জন্য ভাড়া দেয়া হয়।

প্রতিদিন পিকনিকের জন্য একটি গ্রুপে সর্বোচ্চ ৩০০ জন আসতে পারবে। সরকারি ছুটির দিনে পিকনিকের জন্য গুনতে হবে ৬০ হাজার টাকা, আর অন্যদিন ৫০ হাজার টাকা (এবার এর পরিমাণ আরো বেড়ে থাকতে পারে)।

তবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি ছুটির দিনে পিকনিকের জন্য ভাড়া পড়বে ৫০ হাজার টাকা, অন্যদিনগুলোতে পড়বে ৪০ হাজার টাকা (এবার এর পরিমাণ আরো বেড়ে থাকতে পারে)।

থাকার ব্যবস্থাঃ

নুহাশ পল্লীতে রাত্রি যাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বৃষ্টি বিলাস নামের বাংলোতে নুহাশ পল্লী খোলা থাকাকালীন দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ভূত বিলাস নামক বাংলোতে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে সময় কাটানো যায়।

এসি/ আই. কে. জে/

আরো পড়ুন:

ই-পাসপোর্ট : আবেদন করার নিয়ম, কী কী লাগবে ও খরচ কেমন

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ