Thursday, January 20, 2022
Thursday, January 20, 2022
HomeLatest Newsগৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ৭৪ বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ৭৪ বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

danish

তাপস হালদার :

সংগ্রাম, গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৪ বছরে পা দিয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাঙালির স্বাধীকার থেকে  স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রতিটি পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সংগঠনটি। দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন এই দেশ বাঙালিদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে না। তখনই তিনি অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। বঙ্গবন্ধুর পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলা ও বাঙালির অধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট পালনের সময় তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র তরুণ তুর্কি, আপোষহীন নেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার হন। ছাত্রলীগই প্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ১০ দফা দাবিনামা পেশ করে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর জেল-জুলুম নির্যাতনকে উপেক্ষা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও ভাষা আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ছাত্রলীগ।

১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়ে নেপথ্যের কারিগরও ছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ১৯৫৬ সালে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি আদায়, ১৯৫৭ সালের শিক্ষক ধর্মঘট, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনকে বেগবান করতে কাজ করে ছাত্রলীগ।

১৯৬৬ সালে বাংলার মুক্তির সনদ ‘ছয়দফা’কে যুক্ত করে ছাত্রলীগের ১১ দফা সারা দেশে ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপক আড়োলন তৈরি করে। ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুসহ রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতেও ভূষিত করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পরই মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রলীগের সদস্যরা। প্রায় সতের হাজার নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। এত সংখ্যক কর্মীর আত্মত্যাগ আর কোনও সংগঠনের ইতিহাসে নেই।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনেও ছাত্রলীগের উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। জাতির পিতার হাত ধরে বাংলাদেশ যখন প্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বাঙালি জাতির জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। দুই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে জেল-জুলুম, দমন-পীড়ন মোকাবেলা করে বুক চিতিয়ে লড়াই-সংগ্রাম করে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন আন্দোলনে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গড়ে ওঠা অসহযোগ আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভ্যানগার্ডের দায়িত্ব পালন করেছে। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় বন্যার্তদের পাশে রুটি ও স্যালাইন নিয়ে হাজির হয়েছিল ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী।

২০০১-এর নির্বাচনের পর দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন, হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে অনেক নেতাকর্মীর জীবন দিতে হয়েছে, তবুও তারা পিছপা হয়নি। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের নীল নক্সার নির্বাচন প্রতিহত করা, ২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের ‘অবৈধ সরকার’ গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করলে রাজপথে প্রথম প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করে ছাত্রলীগ। এবং দেশরত্ন মুক্তি আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ছাত্রলীগ।

বৈশ্বিক করোনাকালে কৃষক যখন শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছিলেন না তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশে ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া করোনা সংকট মোকাবেলায় দেশের সকল জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটে ‘স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা টীম গঠন; মাস্ক, স্যানিটাইজারের সংকট দেখা দিলে সেগুলো তৈরি করে অসহায় মানুষদের মাঝে বিতরণ, বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ এবং অসহায় ছিন্নমূলদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস।’ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালির প্রতিটি সংকটে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। প্রতিষ্ঠার ৭৪ বছরে বাঙালি জাতির সকল অর্জনের পেছনে রয়েছে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

লেখক: সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা।

ইমেইল: haldertapas80@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments