spot_img
24 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***মায়ানমারের প্রতি কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে চীন***ঐশ্বরিয়া, বিক্রম অভিনীত ‘পোন্নিয়িন সেলভান ২’ আসছে***ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দর কিনে নিল আদানি গ্রুপ***নারীদের উপর বৈষম্য পাকিস্তানকে সাব-সাহারা দলভুক্ত করেছে***গোপালগঞ্জে ৫০ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পেলো স্কুল পোশাক***অনলাইন অধ্যয়নের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিয়েছে চীন***নতুন বাজেট উন্নত ভারতের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে : নরেন্দ্র মোদী***পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণ: গোয়েন্দা প্রধানের অপসারণ দাবি পাকিস্তানিদের***২৬ জনকে চাকরি দেবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান***ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে আনোয়ার গ্রুপ

মাংস বিক্রির জন্য লাইসেন্স নিতে হবে, ফি ১৫ হাজার টাকা

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: মাংস বিক্রির জন্য অনুমতিপত্র (লাইসেন্স) নিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আর এই অনুমতিপত্র নিতে ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে তা এককালীন। কর্তৃপক্ষ বলছে এই ফি সামান্য। তাতে একমত নন মাংস বিক্রেতারা। তারা বলছেন, এই বাড়তি খরচের প্রভাব পড়বে ক্রেতাদের ওপর।

গত ২৮ ডিসেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অফিস আদেশ জারি করেছেন। সেটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আদেশে বলা আছে, শুধু মাংস বিক্রি নয়, জবাইখানা ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য এই অধিদপ্তরের কাছ থেকে অনুমতিপত্র নিতে হবে। এতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে।

কেন এই অনুমতিপত্র?

গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোয় মাংস বিক্রেতারা সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সাধারণত নিবন্ধন করেন না। তবে সিটি করপোরেশন এলাকায় যারা মাংস বিক্রি করেন, তারা করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে থাকেন।

অধিদপ্তর থেকে অনুমতিপত্র নিলেও এই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে বলেছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিনাত সুলতানা।

লাইসেন্স নেওয়ার কারণ জানিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক তালুকদার বলেন, যত্রতত্র পশু জবাই পরিবেশের জন্য ক্ষতির। তা ছাড়া গবাদিপশুর অনেক রোগ আছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির। সেসব রোগবালাই যেন মানবদেহে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য যত্রতত্র পশু জবাই করতে পারবেন না মাংস বিক্রেতারা। কসাইখানায় পশু নিয়ে জবাই দিতে হবে। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে, সেগুলোর পর নিরাপদ জবাইয়ের মাধ্যমে মাংস সরবরাহ করতে হবে।

কতটুকু মাংস উৎপাদন হলো, বিক্রি কতটুকু হলো, কত দামে বিক্রি হলো—এসব বিষয়ও দেখভাল করা হবে জানিয়ে এমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ‘এসব বিষয় নিশ্চিত যেন হয়, তাই আমরা লাইসেন্স দিচ্ছি। আমাদের লাইসেন্স ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবে না।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মাংস বা মাংসজাত পণ্য উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি সপ্তাহে এক টনের নিচে হলে আবেদন ফি এক হাজার, অনুমতিপত্রের ফি ১৫ হাজার ও নবায়ন ফি দেড় হাজার টাকা দিতে হবে।

এক টনের বেশি, কিন্তু আট টনের নিচে হলে আবেদন ফি দুই হাজার, অনুমতিপত্রের ফি ২৫ হাজার ও নবায়ন ফি সাড়ে সাত হাজার টাকা লাগবে। আর আট টন বা তার বেশি হলে আবেদন ফি তিন হাজার, অনুমতিপত্রের ফি ৭০ হাজার ও নবায়ন ফি ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে।

পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১-এর ধারা ৯ এবং পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২১-এর বিধি ১৩(১) মোতাবেক জবাইখানা বা মাংস বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন বা মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পশুচিকিৎসক না হলে জেলা পশু চিকিৎসা কর্মকর্তা নিবন্ধনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন।

যারা মাংস বিক্রি করেন তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ–সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলছে কর্তৃপক্ষ।

তবে সারা দেশে নজরদারি করার মতো জনবল আছে কি না জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘জনবলের কিছু সংকট আছে। সামনে একটি নিয়োগ আছে। সেটা হলে সমস্যা থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘আর যে ফি ধরেছি, তা অতি সামান্য। এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।’

ক্রেতাদের ওপর প্রভাব পড়বে- বলছেন মাংস বিক্রেতারা

মাংস বিক্রেতারা বলছেন, সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে ও নিয়মিত নবায়ন করতে অর্থ খরচ করতে হয়। সেই সঙ্গে পশু কেনা ও জবাইয়ের সময়ও খরচ আছে। এর মধ্যে যদি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে আবার অনুমতিপত্র নিতে এত অর্থ খরচ করতে হয়, তাহলে তো মুশকিল। তা ছাড়া এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ক্রেতাদের ওপর।

কারওয়ান বাজারের কালাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাজী কালাম হাওলাদার বলেন, একটা গরু কিনলে এক হাজার টাকা হাট-বাজারে রেখে দেয়। আবার একটা গরু জবাই করলে ৫০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সের নিবন্ধন ও নবায়ন ফি তো আছেই। এ অবস্থায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর লাইসেন্স দিয়ে এত টাকা রাখা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘মাংসের যে দাম, তাতে এমনিতেই ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আমাকে যদি আরও টাকা দিতে হয়, এর নেতিবাচক প্রভাব বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের ওপরই পড়বে।’

এম এইচ/ আই. কে. জে/

আরও পড়ুন:

কলায় ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ