spot_img
29 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

কোহিনুর বসানো মুকুট উঠছে কার মাথায়?

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: চলতি বছরের শুরুতেই রানি এলিজাবেথ ঘোষণা করেছিলেন, তার অবর্তমানে ‘কুইন কনসর্ট’ হবেন যুবরাজ চার্লসের স্ত্রী, ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলা। চার্লসের রাজা হিসেবে অভিষেকের সময় ক্যামিলার মাথায় উঠবে সেই কোহিনুর বসানো মুকুট।

বিশ্ববিখ্যাত কোহিনুর এখন টাওয়ার অব লন্ডনের সংগ্রহশালায় রাখা আছে। কোহিনুরের পাশাপাশি অনেক হীরে সেখানে দেখতে পান দর্শকরা। কিন্তু ইতিহাস ও সৌন্দর্য মিশিয়ে কোহিনুরের আবেদন আলাদা।

রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর পর রাজা হয়েছেন চার্লস। এরপর থেকেই জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে কোহিনুর বসানো মুকুট নিয়ে। সদ্যপ্রয়াত রানি এলিজাবেথের বাবা ষষ্ঠ জর্জের অভিষেকের সময় তৈরি করা হয়েছিল প্ল্যাটিনামের রাজমুকুট। তাতে বসানো হয় কোহিনুর। দ্বিতীয় এলিজাবেথের মা প্রথম এলিজাবেথ সেই মুকুট পরেন। ডেইলি মেইলের খবর বলছে, এবার চার্লসের স্ত্রী ক্যামিলার মাথায় উঠবে কোহিনুরসহ সেই মুকুট। চার্লসের রাজ্যাভিষেকের সময় সেই মুকুট পরবেন তিনি।

কোহিনুর এখন ১০৫ দশমিক ৬ ক্যারেটের হীরে। ভারতে পাওয়া গিয়েছিল এই মহামূল্যবান হীরে। যার ওজন ২১ দশমিক ৬ গ্রাম। ১৩১০ সালে কাকোতীয় বংশের সঙ্গে বরঙ্গলের যুদ্ধে এই হীরে দখল করেন দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি। পরে তা হাতবদল হয়ে আসে মুঘল দরবারে। ‘বাবরনামা’য় উল্লেখ রয়েছে, ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের যুদ্ধে তা বাবরের দখলে আসে।

সপ্তদশ শতকে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের দরবারে ময়ূর সিংহাসনে শোভা পেত কোহিনুর। পার্সি ভাষায় ‘কোহিনুর’ শব্দের অর্থ ‘আলোর পর্বত’ (মাউন্টেন অব লাইট)। ১৭৩২ সালে নাদির শাহ মুঘল সাম্রাজ্য আক্রমণ ও দিল্লি লুণ্ঠন করে ময়ূর সিংহাসনের সঙ্গে কোহিনুর হিরেটিকেও নিয়ে যান ইরানে। পরে দেহরক্ষীদের দ্বারা নিহত হন নাদির শাহ।

নাদির শাহের পর আহমদ শাহ দুররানি কোহিনুর হস্তগত করেন। কিন্তু কোনও কোনও ঐতিহাসিকের মতে, নাদির শাহের নাতি নিজেই দুররানিকে এই হীরেটি উপহার দিয়েছিলেন। ১৮১৩ সালে দুররানি পাঞ্জাবের সিংহাসন হারালে তা ‘শের-ই-পাঞ্জাব’ মহারাজা রঞ্জিত সিংহের হাতে আসে। শোনা যায়, তিনি এই বহুমূল্য হীরে তার পাগড়িতে আটকে রাখতেন।

রঞ্জিত সিংহের পর এই হীরের মালিকানা লাভ করেন নাবালক মহারাজা দলীপ সিংহ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পাঞ্জাবে তাদের ঘাঁটি গড়লে শুরু হয় কোহিনুরের পরবর্তী অধ্যায়। ১৮৪৯ সালে লর্ড ডালহৌসি ও মহারাজ দলীপ সিংহের মধ্যে লাহৌর চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির শর্তানুসারে ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়াকে কোহিনুর হীরে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন লাহৌরের মহারাজ।

শোনা যায়, ইংল্যান্ডের বাকিংহাম প্রাসাদে দলীপ সিংহের কাছ থেকে ব্যক্তিগত অনুরোধের মাধ্যমে এই কোহিনুর হীরে আবার উপহার হিসেবে নিয়েছিলেন রানি ভিক্টোরিয়া।

শতকের পর শতক পার হতে হতে কোহিনুর সাক্ষী থেকেছে বহু ঐতিহাসিক ঘটনার। বহু ঐতিহাসিক যুদ্ধকে চাক্ষুষ করেছে এই মূল্যবান হীরে। দেখেছে রাজদরবারের জটিল কূটনীতি, সিংহাসন বদলও। এই কোহিনুরকে ঘিরে রয়েছে বহু বিতর্ক, চলেছে মামলাও।

এই হীরে ফেরত পাওয়া নিয়ে কিছুদিন আগেও সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। মামলাটি করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। তার দাবি ছিল, ব্রিটিশরা বেআইনিভাবে এই হীরে অধিকার করেছিল। তাই এখন তা ফেরত দেয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টকে এই ব্যাপারে সরকারকে নির্দেশ দেয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ আদালত সেই নির্দেশ দেয়নি।

২০১৯ সালে পাকিস্তানও এই হিরে ফেরত চেয়ে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছিল ইংল্যান্ডের কাছে।

আরো পড়ুন:

কী হয়েছিলো ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের?

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ