spot_img
21 C
Dhaka

৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৪শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

কোন সময় ঘুমালে জীবনের বরকত কমে যায়?

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: সারাদিনের ক্লান্তি-শ্রান্তিতে বিপর্যস্ত হয়ে রাতে ঘুমানোর মাধ্যমে আবার উদ্যমতা ফিরে আসে। ঘুম থেকে জেগে নবোদ্যমে নতুন দিন শুরু করা যায়। ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করে, মনে প্রশান্তি আনে এবং কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে।

মহান আল্লাহ বান্দার আরাম ও শান্তির জন্য ঘুমের মত নেয়ামত দান করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম, করেছি রাতকে আবরণ।’-(সুরা : নাবা, আয়াত : ৯-১০)

ঘুম থেকে জেগে ফজরের নামাজের মাধ্যমে দিন শুরু হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সকালকে এই উম্মতের জন্য বরকতময় করার দোয়া করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উন্মাতের ভোরবেলাতে তাদেরকে বরকত ও প্রাচুর্য দান করুন।’-(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১২১২)

সুতরাং সকালে কাজ শুরু করলে বরকত পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই ফজরের পরে ঘুমিয়ে থাকেন। কেউ আবার ফজর নামাজই পড়েন না। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদিসে এশার পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে বলেছেন।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং নামাজের পর অহেতুক গল্প-গুজব করাকে খুব অপছন্দ করতেন। -সহিহ বোখারি: ৫১৪

তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অনেকগুলো উপরকারিতা রয়েছে। এর অন্যতম হলো, ফজর নামাজের জন্য খুব সহজে পূর্ণ শক্তি ও চাঞ্চল্যতার সঙ্গে জাগ্রত হওয়া যায়। শরীরে আরামবোধ হয়, কেননা দিনের ঘুম রাত্রের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।

পূর্ববর্তী আলেমরা ফজরের পর ঘুমানোকে মাকরুহ মনে করতেন। হজরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ.) বলেন, যুবাইর (রা.) তার সন্তানদের ভোরবেলা ঘুমানোর ব্যাপারে নিষেধ করতেন।

হজরত উরওয়া (রহ.) বলেন, ‘আমি যখন কারও সম্পর্কে শুনি, সে ভোরবেলা ঘুমায় তখন তার প্রতি আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।’ -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৫/২২২

সকাল বেলা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রিজিক বন্টন করা হয় তাই এই সময় ঘুমিয়ে থাকলে আল্লাহ তায়ালার বন্টন থেকে বঞ্চিত থেকে যেতে হয়।

এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) তার এক সন্তানকে ভোরবেলা ঘুমাতে দেখে বলেছিলেন, ‘ওঠো! তুমি কি এমন সময়ে ঘুমিয়ে আছ, যখন রিজিক বণ্টন করা হচ্ছে?’ -যাদুল মায়াদ: ৪/২৪১
সকালের ঘুমের ব্যাপারে সতর্ক করে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘তোমরা সকালের ঘুম থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা তা জ্বরের প্রকোপ বাড়ায়, যৌন ক্ষমতা কমায় এবং শারীরের সজীবতা নষ্ট করে। ’ (আন-নিহায়াতু ফি গারিবিল আহাদিস)

এম এইচ/

আরও পড়ুন:

ইসলামে সোনা-রুপার পাত্র এবং রেশমী কাপড় ব্যবহার নিষিদ্ধ, কিন্তু কেন?

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ