spot_img
20 C
Dhaka

৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

কেন রোলেক্সের ঘড়ি এতো দামি ?

- Advertisement -

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক, সুখবর বাংলা: হাতঘড়ি যারা ব্যবহার করেন, তাদের পছন্দ তালিকার শীর্ষে রয়েছে রোলেক্স কোম্পানির ঘড়ি। এ ঘড়ি দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ঘড়ির একটি। কাউকে সবচেয়ে দামি ঘড়ির ব্র্যান্ড কোনটি জিজ্ঞাসা করলে অধিকাংশই এক কথায় বলবেন রোলেক্সের কথা। উত্তরে খুব বেশি ভুল নেই। কারণ সবচেয়ে অভিজাত ১০টি ব্র্যান্ডের তালিকায় অবশ্যই রোলেক্সের নাম থাকবে।

১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সুইস এই কোম্পানি টেনিস, গলফের মতো অভিজাত খেলার সাথে নিজেদের নাম সম্পূরক করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের রোলেক্স ঘড়ি ব্যবহার তাদের ব্র্যান্ডের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণে।

বর্তমানে স্মার্টফোন আর মোবাইলের যুগে সময়ের হিসাব রাখার জন্য ঘড়ির প্রয়োজনীয়তা খুবই সামান্য। তবুও ফরমাল লুক তৈরি করতে ঘড়ির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে ঘড়ি সময়ের হিসাব রাখার যন্ত্রের চাইতে আভিজাত্য, শখ এবং ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেই অধিক পরিচিত।

মাত্র কয়েকশো টাকা থেকে শুরু করে ঘড়ির দাম হতে পারে আমার-আপনার কল্পনারও বাইরে। এই বিষয়ে সামান্যতম আগ্রহী মানুষের মনেও প্রশ্ন আসতে বাধ্য – কেন একটি ঘড়ির দাম এমন অবিশ্বাস্য রকমের বেশি?

দামি ও মানসম্পন্ন ঘড়ির বিখ্যাত একটি ব্র্যান্ড হচ্ছে, রোলেক্স। মূলত অভিজাতদের জন্যই ঘড়ি তৈরি করে রোলেক্স। এ ঘড়ির কদর রয়েছে বিশ্বব্যাপী। নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গুণগতমান নিশ্চিত হওয়ার পরই বাজারে ঘড়ি ছাড়ে রোলেক্স। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রতিটি ঘড়ির এক বছর সময় লাগে।

ভিনটেজ রোলেক্স ঘড়ির একটির দাম প্রায় ১৫ কোটি টাকা। রোলেক্স সাবমেরিনার মডেলের সবচেয়ে কম দামে যে ঘড়িটি পাওয়া যায়, তার দামও ৫ হাজার ডলার বা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

রোলেক্স কোম্পানির ঘড়ির এতবেশি দাম হওয়ার কারণ হলো- এই ঘড়ি বানাতে সময় লাগে এক বছর।

প্রতিটি ঘড়ির ওপর নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পরেই একটি ঘড়ি বাজারে ছাড়া হয়। আর বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর রোলেক্স বেশ লম্বা সময় ধরে ব্যবহারকারীদের ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকে।

রোলেক্স ঘড়ি হাতে পরলে খুলে যাবে কিনা তা বিক্রির আগে পরীক্ষা করা হয় অসংখ্যবার।

নির্মাতারা জানান, একটি রোলেক্স ঘড়ি পাঁচ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় অনায়াসে। আর যদি খুব যত্নসহকারে ব্যবহার করা হয়, তবে ১০০ বছরেও এ ঘড়ির কিছুই হবে না।

তবে ব্র্যান্ডটির নাম কীভাবে ‘রোলেক্স’ হলো, সে ব্যাপারে হয়তো অনেকেরই জানা নেই। চলুন এ ব্যাপারে আজ জেনে নেওয়া যাক।

রোলেক্সের ওয়েবসাইটের সূত্রমতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা হ্যানস উইলসড্রফ তার নতুন ব্র্যান্ডের ঘড়ির জন্য এমন একটি সংক্ষিপ্ত নাম রাখতে চেয়েছিলেন, যা যেকোনো ভাষায় সহজে উচ্চারণ করার পাশাপাশি মনে রাখাটাও সহজ হবে। এ ছাড়া নামটি ঘড়ির ওপর ভালো মানাবে। ইংরেজি বড় অক্ষরের হবে ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে আরো বলা হয়েছে- উইলসড্রফ বলেন, ‘আমি ইংরেজি অক্ষরগুলো নানাভাবে সাজানোর চেষ্টা করি। এই চেষ্টা আমাকে কয়েকশত নাম দিয়েছে কিন্তু তাদের কোনোটিই সঠিক মনে হয়নি। একদিন সকালে লন্ডনের সিটি অব চ্যাপসাইডের পাশে ঘোড়া-টানা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় আমার কানে ফিসফিস আওয়াজে শুনতে পাই-রোলেক্স।’

অর্থাৎ উইলসড্রফের কানের কাছে গায়েবি আওয়াজে কারো বলে দেওয়া নামই হচ্ছে, “রোলেক্স”।

১৯০৫ সালে লন্ডনে ২৫ বছর বয়সি উইলসড্রফ তার শ্যালকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঘড়ি তৈরির কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর ১৯১৯ সালের দিকে রোলেক্স তাদের কারখানাটি স্থানান্তর করে নেন সুইজারল্যান্ডে। বর্তমানে এর সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।

বিশ্বে রোলেক্স প্রথম বাজারে এনেছিল পানিরোধক ঘড়ি। সর্বপ্রথম দিন ও তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করার প্রযুক্তিও ঘড়িতে সংযোজন করে এই রোলেক্স। অতীতকাল থেকেই নানা সুযোগ-সুবিধা ও নিখুঁত নির্মাণশৈলির কারণে রোলেক্সের ঘড়িগুলো আভিজাত্য আর বিলাসিতার পরিচায়ক। আজকের দিনেও রোলেক্সের ঘড়ি অন্যান্য ঘড়ির তুলনায় অনেক দামি।

এম এইচ/

আরও পড়ুন:

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সুইচ করতে নতুন ফিচার আনছে মেটা

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ