spot_img
27 C
Dhaka

২৯শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

কুমিল্লার গর্ব মোঘল স্থাপত্যের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ‘শাহ সুজা মসজিদ’

- Advertisement -

ডেস্ক প্রতিবেদন, সুখবর বাংলা: কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী শাহ সুজা মসজিদ মোগল স্থাপত্যের একটি অপূর্ব নির্দশন। ১৬৫৮ সালে এ মসজিদটি নির্মিত হয়। বাদশাহ আওরঙ্গজেবের ভাই শাহজাদা সুজার নাম অনুসারে সুজা মসজিদ নির্মিত হয়েছে। কুমিল্লা মহানগরীর মোগল টুলীতে এর অবস্থান। প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এ মসজিদটি দেখতে মহানগরীর মোগলটুলী এলাকায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ভিড় করেন।

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী এই শাহ সুজা মসজিদটির নির্মাণ ইতিহাস সম্পর্কে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ শ্রী কৈলাশ চন্দ্র সিংহ তার রামমালা গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘গোমতী নদীর তীরে কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলীতে সুজা মসজিদ নামক একটি ইস্টক নির্মিত বৃহৎ মসজিদ অদ্যাপি দৃষ্ট হয়ে থাকে।

এই মসজিদ সম্বন্ধে দু’ প্রকার প্রবাদ শোনা যায় (১) সুজা ত্রিপুরা জয় করে বৃত্তান্ত চিরস্মরণীয় করিবার জন্য এই মসজিদ নির্মাণ করিয়াছিলেন। (২) মহারাজ গোবিন্দ মানিক্য সুজার নাম চিরস্মরণীয় করিবার জন্য বহু অর্থ ব্যয় করিয়া এই মসজিদ নির্মাণ করিয়াছিলেন। দ্বিতীয় প্রবাদ হইতে প্রথমোক্ত প্রবাদ সত্য বলিয়া আমাদের বিশ্বাস হইতেছে।’

শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০) বাংলার সুবাহদার ছিলেন। শাহ সুজা ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় ছেলে।

মসজিদের কেন্দ্রীয় গম্বুজটি পাশের দুটি গম্বুজ থেকে আকারে বড়। আদি মাপ ছিল প্রস্থে ১৬ ফুট ও দৈর্ঘ্যে ৪৭ ফুট। সাম্প্রতিককালে মসজিদের দুই প্রান্তে ২২ ফুট করে দুটি কক্ষ এবং সম্মুখ ভাগে ২৪ ফুট প্রশস্ত একটি বারান্দা নির্মাণ করায় আদি রূপ কিছুটা নষ্ট হয়েছে। মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে একটি সুউচ্চ মিনারও নির্মাণ করা হয়েছে।

এই মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্ট কোণাকার মিনার। এগুলো মসজিদের ছাদের অনেক ওপরে উঠে গেছে। এই মসজিদটি একটি উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ফুল, লতাপাতা, জ্যামিতিক ও পদ্ম নকশায় অলঙ্কৃত মসজিদের প্রবেশপথ, কেবলা প্রাচীর ও গম্বুজ, কলসী চূড়া দ্বারা সুশোভিত গম্বুজের শীর্ষদেশ।

এ মসজিদের নামকরণ, প্রতিষ্ঠাতার নাম ও প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও এ মসজিদ যে পাক ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম মসজিদ সে বিষয়ে কারোর কোনও সন্দেহ নেই। আয়তনের দিক দিয়ে এ মসজিদ খুব বেশি বড় না হলেও এর কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সার্বিক অবয়ব আভিজাত্যের প্রতীক বহন করে।

প্রাচীন এ মসজিদটি দেখতে মহানগরীর মোগলটুলী এলাকায় প্রতিদিনই বহু দূর দুরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। বিশেষ করে জুমা, শবে বরাত, শবে কদরসহ অন্যান্য বিশেষ দিনগুলোয় এখানে মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান।

শাহ সুজা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সফিকুল ইসলাম সিকদার জানান, এটি একটি অতি প্রাচীন মসজিদ। শুধু কুমিল্লায় নয়, সারা দেশের মধ্যে অন্যতম একটি মসজিদ। এখন ১২ শ’র ওপরে মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। আরো বেশি মুসল্লি যাতে নামাজ আদায় করতে পারেন সেই বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এম এইচ/

আরো পড়ুন:

মুগলদের বিরুদ্ধে ঈশা খাঁর লড়াই ও মানসিংহের সাথে ঐতিহাসিক যুদ্ধ

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ