spot_img
28 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২রা অক্টোবর, ২০২২ইং, ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

কুড়িগ্রামে চাষ হচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর সবুজ শৈবাল ‘স্পিরুলিনা’

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুপারফুড খ্যাত নীলাভ সবুজ শৈবাল স্পিরুলিনা। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের আধার হিসেবে ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন এই শৈবাল চাষ করে আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলার কয়েকজন উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই শৈবালের বাণিজ্যিক উৎপাদন করে মুনাফা অর্জন করে আয় করার পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদাও মেটাতে পারবেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রাণকৃষ্ণ গ্রামের এরশাদ হোসেনের বাড়ির উঠানে ৩ শতক জমিতে পলিথিন দিয়ে গ্রিনহাউজ তৈরি করে স্পিরুলিনা চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন ফুলবাড়ী এগ্রো সংগঠনের সাত উদ্যোক্তা-সেলিম রেজা, এরশাদ হোসেন, গোলাম ওয়াদুদ, জাকির সরকার, হাসান বাপ্পী, মাসুদ রানা ও ফাতেমা আক্তার মিতু।

আরও পড়ুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলুদের তুলনা নেই

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল ফয়েজ জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়নে সামুদ্রিক শৈবাল (স্পিরুলিনা) চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন সেলিম রেজা। বাকি ৬ জনকে তিনি নিজেই প্রশিক্ষণ দেন। দুটি জলাধারে ২৪ হাজার লিটার পানিতে স্পিরুলিনা চাষ শুরু করেন এই উদ্যোক্তারা।

ড. আবুল ফয়েজ জামাল উদ্দিন জানান, “স্পিরুলিনা একটি নীলাভ সবুজ শৈবাল। এটি সূর্যালোকের সাহায্যে ক্লোরোফিলের মাধ্যমে দেহের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে। এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের আধার। এতে প্রায় ৪০ ভাগেরও বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়াও আছে প্রচুর ভিটামিন ও আয়রনসহ একাধিক খনিজ।”

কেন আমরা স্পিরুলিনা খাবো? এমন  প্রশ্নে এই গবেষক বলেন, “স্পিরুলিনাকে সুপারফুড বলে। ৪০ ভাগের বেশি প্লান্ট প্রোটিন থাকে এতে। শরীরের জন্য যা যা দরকার- অ্যামাইনো এসিড থেকে শুরু করে ভিটামিন সি, সব ধরনের পুষ্টিই আছে এতে। এজন্য একে কনসেনট্রেটেড ফুডও বলা হয়।”

ব্লু ইকোনমি নামেও পরিচিত শৈবালটি স্বল্প পরিমাণ খেলেই হয়। এতেই শরীরের যাবতীয় পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় বলে জানান এই গবেষক।

ফুলবাড়ীতে স্পিরুলিনার বাণিজ্যিক চাষের উদ্যোক্তাদের একজন জাকির সরকার জানান, “গ্রিনহাউজ তৈরি করে চলতি বছর মার্চে প্রাথমিকভাবে দুটি জলাধারে স্পিরুলিনার মাদার কালচার ছাড়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা। এপ্রিল থেকে এটি হারভেস্ট বা আহরণযোগ্য হয়েছে।”

স্পিরুলিনা পুষ্টিহীনতার পাশাপাশি রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিসসহ হাজারো রোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। এতে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়ামও আছে। দেশের বাজারে স্পিরুলিনার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দেশের নাম করা ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এটি আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশে চাষ হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। এটি উৎপাদন করে মাসে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।” তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ