spot_img
31 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৭ই অক্টোবর, ২০২২ইং, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: আধুনিক যুগের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষায় জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও আর্থিক অনুদান বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যুগে কী কী প্রয়োজন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছে সরকার।

আরোও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা

“আমরা মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় করেছি, আমরা সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। অর্থাৎ সাবজেক্টগুলো আমরা দেখে দেখে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যে এলাকায় যে ধরনের শিক্ষার খুব বেশি গুরুত্ব, আমরা সেভাবেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করে দিচ্ছি। দিচ্ছি এজন্য যে, সকলেই যেন শিক্ষাটা যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ শিক্ষা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। এটা শুধু দেশে না বিদেশেও। আর আমাদের দেশে এজন্যই প্রয়োজন- আমি একশটা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছি। সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখানে অনেক কারিগরি লোক লাগবে। দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে। কাজেই সেই দক্ষ জনশক্তি আমরা সৃষ্টি করতে চাই। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা ব্যাপক অবদানও রাখতে পারবে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরার পাশপাশি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমি, আমার ছোট বোন (শেখ রেহানা) আমরা পৈত্রিক যেই সম্পত্তি বা যা টাকা পয়সা পেয়েছিলাম সেটা দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করি। এই ফান্ডে আমাদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে যে আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে বৃ্ত্তি দিয়ে থাকি। একেবারে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত। সেখানে প্রায় ১৪শ থেকে ১৫শ শিক্ষার্থীকে আমরা বৃত্তি দিই।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা হলে তখন এ তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে সেটা আবার চালু করা হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে ব্যক্তিগতভাবে এই ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে শিক্ষা সহায়তা দিয়ে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রসারে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্ডে অর্থ বরাদ্দ দেবেন বা নিজ নিজ এলাকা বা নিজ নিজ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় যে যেখানে পড়াশোনা করেছেন সেগুলোর উন্নয়নে সবাই মনোযোগী হবেন। যেখান থেকে লেখাপড়া শিখে আজকে বিত্তশালী হয়েছেন, সেই জায়গাগুলোর প্রতি যদি সবাই যত্নবান হয়, তাহলে আমার মনে হয় কোনো অসুবিধা হবে না।
আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই এই বাংলাদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ করতে হলে অবশ্যই শিক্ষা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতার যেই চিন্তা, আদর্শ, সেটা নিয়েই আমরা চলি। শিক্ষার খরচটাকে আমরা খরচ মনে করি না। এটা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ।
উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যে স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেয়েছে, তা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ধরে রাখার জন্যই দরকার শিক্ষার প্রসার এবং উপযুক্ত দক্ষ কারিগর এবং নাগরিক। সেই দক্ষ ও উপযুক্ত নাগরিক আমরা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় স্নাতক পর্যায়ের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বাবদ ৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা; ভর্তি সহায়তা বাবদ ১২৩ জন শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং দুর্ঘটনায় আহতদের আর্থিক অনুদান বাবদ ৪ জন শিক্ষার্থীকে ২ লাখ টাকাসহ মোট ৮৭ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ টাকা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সরকারপ্রধান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসরীন আফরোজসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলা, সুনামগঞ্জের বিশম্বরপুর উপজেলা, বান্দরবান সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন প্রধানমন্ত্রী।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ