spot_img
18 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ শি জিনপিং

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: মাত্র কয়েক মাস আগেই, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা একদম অকল্পনীয় ছিল। তিনি তৃতীয় মেয়াদে চীন শাসনে বসেছিলেন, তার মতানুসারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাম্রাজ্য, সেই সাথে শূন্য কোভিড নীতিকে করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পন্থা হিসেবে স্থাপিত করেছিলেন।

কিন্তু ২০২২ সালের শেষদিকে এসে শূন্য কোভিড নীতি জনমনে বিক্ষোভের সৃষ্টি করে। ক্রমবর্ধমান লকডাউন এবং কোয়ারেন্টাইনের ফলে নাগরিকেরা অসন্তুষ্ট হয়ে উঠে। তারপর ডিসেম্বরের শুরুতে, নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে হঠাৎ করেই নীতিটি তুলে নিতে বাধ্য হয় চীনা সরকার। সেইসাথে বাদ দেওয়া হয় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, কোয়ারেন্টাইন এবং বাধ্যতামূলক পরীক্ষা।

কিন্তু সরকারের এ পদক্ষেপের ফলে চীনে করোনা সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। প্রধান শহরগুলোতে ৯০% নাগরিকই করোনা আক্রান্ত। সেই সাথে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন ইতিমধ্যে।

এর ফলে শি সরকার কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। তারা দেশটিকে করোনা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন নি। উপরন্তু হঠাৎ কোভিড নীতি তুলে নেওয়ার ফলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

মাও সেতুংয়ের পর শি-ই চীনের ক্ষমতাধর নেতা। কিন্তু তার এই ক্ষমতা চীনকে ঠিক কোন অবস্থানে নিয়ে যাবে সেটাই এখন দেখবার বিষয়।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক কার্ল মিনজনার বলেছেন, নাটকীয় নীতি পরিবর্তনের ফলে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, শিয়ের ক্ষমতা এবং তার প্রদত্ত নীতিগুলো এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ২০২০-২০২২ পর্যন্ত কেউই এ নীতিগুলোর বিরোধিতা করতে পারেনি।

শি এবং তার কর্মকর্তারা যদিও বুঝতে পেরেছেন যে তারা বিশাল বড় ভুল করে ফেলেছেন কিন্তু তারা কোনও বিবৃতিতেই তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি।

শূন্য কোভিড নীতি তুলে নেওয়ার পর ক্রমবর্ধমান করোনা পরিস্থিতিতে বুঝা যাচ্ছে যে চীনা নাগরিকদের তিন বছরের এত কষ্ট সব বিফলেই গিয়েছে।

প্রকাশ্যে চীনা সরকার এমন আচরণ করছিলেন যে মনে হচ্ছিল এই নীতিটিই সর্বোত্তম, সামঞ্জস্যপূর্ণ, পরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানসম্মত। কিন্তু আদতে এই নীতির ফলে দেশটি একদম সবদিক দিয়েই ভেঙ্গে পড়েছে।

বছরের সবচেয়ে বড় ছুটির আগে শূন্য কোভিড নীতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশটির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

চীনা জনগণদের মধ্যে অসন্তোষ ঠিক কতোটা তা পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অভিযোগ এবং ক্রমাগত বিক্ষোভ ও সরকারবিরোধী কার্যকলাপের মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে চীনা নাগরিকেরা মোটেই সরকারের উপর সন্তুষ্ট নয়।

শি যত বড় নেতাই হন না কেন তার ক্ষমতায় টিকে থাকা মোটেই ভালোবাসা বা প্রশংসার উপর ভিত্তি করে নয়, বরং ভয়ভীতি এবং নিস্ক্রিয় গ্রহণযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

চীনের রাজনৈতিক অভিজাতদের মধ্যেও ২০১৮ সাল থেকে শিয়ের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ দেখা গিয়েছে।

এ ব্যাপারে মিঞ্জনার বলেন, শি শূন্য কোভিড নীতিটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্থাপিত করার পর রাতারাতি এ নীতিটিকে তুলে নিজেরই ক্ষমতার উপর প্রশ্ন তুলেছেন। সেইসাথে চীনের সাথে তাইওয়ানের সংযোগ স্থাপনের শিয়ের চেষ্টা পুরোটাই ভয়ভীতির উপরেই স্থাপিত।

তবে তিনি চীনা রাজনীতিকে এত সুন্দর করে সাজিয়েছেন যে তার ক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলার কোনও মানেই হয় না। হয়তো  তার কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, তবে এ ব্যাপার অস্বীকার করার মতো নয় যে শিয়ের মতো ক্ষমতাধর নেতা চীনে আর একজনও নেই।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ