spot_img
27 C
Dhaka

২৯শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল টিটিপি ইসলামাবাদের গলার কাঁটা?***পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সম্পর্ক কি শেষের পথে?***শীত মৌসুম, তুষার এবং বরফকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া : ন্যাটো***নানা সুবিধাসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে চাকরির সুযোগ***বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি ও আসনবিন্যাস প্রকাশ***পৃথিবীর কিছু অবিশ্বাস্য সৃষ্টি, যা আপনার কাছে খুবই আশ্চর্যজনক লাগবে***পাকিস্তান সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল মুনির***মহেশখালীতে ধরা পড়া ৮ কালো পোয়ার দাম ২৫ লাখ টাকা!***বিএনপিকে ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি***গোবিন্দগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বামী কেন আসামি?

কবীর সুমন: গানওয়ালা এক নাগরিক কবিয়াল

- Advertisement -

সাইদ মাহবুব, সুখবর বাংলা: ১৯৯২ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবামের জন্য ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশেও তুমুল আলোচিত হয়েছেন কবীর সুমন। আধুনিক বাংলা গানকে নতুন মাত্রা দেওয়া অ্যালবামটি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে সময় লাগেনি। এরপর একে একে বসে আঁকো, ইচ্ছে হলো, গানওয়ালা, ঘুমাও বাউন্ডুলে—সুমন চট্টোপাধ্যায় হয়ে ওঠেন বাংলা গানের নতুন কান্ডারি। তাঁর গানের কথায় উঠে আসে দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা। সংবাদপত্রের পাতা থেকে খবর তুলে এনে গান বাঁধতেন সুমন। গানের কথায় নানা ধরনের নিরীক্ষা চালিয়েছেন। ‘গড়িয়াহাটার মোড়, মিনি মিনি বাস বাস’ এভাবে বহুবচনের ব্যবহারের কথা আর কে ভেবেছে। নব্বই দশকের কলকাতায় সুমনের গানের আসর মানে কেবল গান নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। সুমনের গান শুনতে গিয়েই আলাপ, পরিচয়, বন্ধুত্ব হয়ে গেছে কতজনের, সে খবর কে রেখেছেন। সম্ভবত সে কথা মাথায় রেখেই কবি লিখেছিলেন, ‘দেখা হবে সুমনে সুমনে’।

কবীর সুমন ১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ ভারতের উড়িষ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সুধীন্দ্রনাথ এবং মা উমা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পূর্ব নাম সুমন চট্টোপাধ্যায়। তিনি খুব অল্প বয়সেই বাবার তত্ত্বাবধানে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন। আচার্য কালীপদ দাস ও চিন্ময় লাহিড়ী তাকে খেয়াল শিখিয়েছিলেন।

তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক পাশ করেন এবং ফরাসি ভাষা ও জার্মান ভাষায় ডিপ্লোমা করেন। ১৯৬৮ সালের দিকে হিমাংশু দত্ত রচনাবলি শেখার সময় তিনি অনুভব করেছিলেন যে তাদের রচনা শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা গীতিগতভাবে সমসাময়িক সময়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না।

কবীর সুমনের প্রথম স্টুডিও রেকর্ডিং ছিল ১৯৭২ সালে। এটি হিন্দুস্থান রেকর্ডস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। তার দ্বিতীয় একক ভিনাইল রেকর্ড একই লেবেল থেকে ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই দুটি রেকর্ডই বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে পদত্যাগ করার পর ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়াতে একজন কেরানি পদে যোগ দেন। কবীর সুমন ১৯৭৩ সালে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মৌলিক বিষয়গুলি শেখানোর জন্য সাময়িকভাবে ফ্রান্সে স্থানান্তরিত হন।

কবীর সুমন ১২ মে ১৯৭৫ সালে পশ্চিম জার্মানিতে যান। ১৯৭৫ সালের শেষের দিকে, ভয়েস অফ জার্মানি কোলনে একটি বাংলা বিভাগ খোলেন এবং তিনি সেখানে চাকরির জন্য আবেদন করেন। তারা তাকে কিছু অনুবাদের কাজ দেয় এবং তিনি ধীরে ধীরে ভয়েস অফ জার্মানির বাংলা বিভাগের একজন নিয়মিত ফ্রিল্যান্সার হয়ে ওঠেন। ১৯৭৯ সালের মে মাসে তিনি কলকাতায় ফিরে রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার এবং ম্যাক্স মুলার ভবনে জার্মান ভাষার শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

১৯৮০ সালে তিনি খণ্ডকালীন বাংলা দৈনিক আজকাল-এ কাজ শুরু করেন। তিনি এই সময়ে মানব মিত্র ছদ্মনামে “দেশ” পত্রিকা এবং ‘সীমান্ত’ পত্রিকায়ও লেখালেখি শুরু করেন। এই সময়, তাদের ব্যান্ড দলটি ব্যর্থ হলে সদস্যরা খুব তাড়াতাড়ি আলাদা হয়ে যায়। তখন তিনি কিছু অভিজ্ঞ সদস্য এবং কিছু নতুন সদস্য নিয়ে: নাগরিক ‘‘অন্য কথা অন্য গান’’ নামে একটি নতুন ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময় কবীর সুমন তার প্রথম গান ‘‘এ কেন আকাশ দেখলে তুমি’’ প্রকাশ করেন (১৯৭৫ সালে লেখা)। এ্রর কিছুদিন পর ভয়েস অফ আমেরিকায় কাজ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

১৯৮৫ সালের প্রথম দিকে সুমন কলকাতায় ফিরে আসেন। তিনি একটি সম্পূর্ণ রেকর্ডিং স্টুডিওর জন্য অনেক যন্ত্র কিনেছিলেন, যা জাহাজে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। কলকাতায় ফিরে আসার পর, তিনি কিছু নতুন কণ্ঠশিল্পী এবং যন্ত্রশিল্পীদের সাথে আবার ‘নাগরিক’-এ যোগ দেন।

১৯৮৬ সালে “নাগরিক” দল এর দুদুল্যমান অবস্থায় তিনি রচনা করেন “ হারিয়ে যেওনা” এবং “ তোমাকে চাই।” কিন্তু  অ্যালবাম দুটি প্রকাশ পায় ১৯৯২ সালে। মুলত “তোমাকে চাই” অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি বাংলা গানে এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেন।

২০০০ সালে বাংলাদেশের কিংবদন্তি গায়িকা সাবিনা ইয়াসমীনকে বিয়ে করার জন্য  ধর্মান্তরিত হয়ে  নাম  রাখেন কবীর সুমন।

জন্মসূত্রে হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম গ্রহণ করায় তিনি সুমন চট্টোপাধ্যায় থেকে তার নাম পরিবর্তন করে কবীর সুমন রাখায়, ব্যাখ্যা হিসেবে দাবি করেছিলেন যে তার এই পদক্ষেপটি বজরং দলের একজন প্রাক্তন সদস্য দ্বারা খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গ্রাহাম স্টেইনসকে হত্যার বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ।

কবীর সুমন জীবনমুখি গান গেয়ে যেমনি সুনাম কুড়িয়েছেন তেমনি তাঁর গানে সাধারণ মানুষের কথা তুলে এনে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন।

কবীর সুমন একজন একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার, বেতার সাংবাদিক, গদ্যকার। তাঁর অ্যালবাম সংখ্যা পনের। এছাড়াও তিনি একজন রাজনীতিবিদ। ২০০৯ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।

তিনি সংগীতে অবদানের জন্য অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন ।

গান এমন করে কেউ বাঁধতে পারে? সে কথা সুমনকে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না। কারণ তিনি এক অবাক বিস্ময়। বাংলা গানকে একেবারে নতুন ধারার বইয়ে দেওয়ার জাদুরকাঠি তাঁর হাতে ছিল লুকানো। এত বছর পেরিয়ে গেলও গিটারের তার বেঁধে সুমন আজও চলেছেন, তানপুরার তারে বেঁধে নিয়েছেন সুর, তিনি কবি, তিনি গায়ক।

আরো পড়ুন:

শিল্পকলায় বাতিঘর নিয়ে আসছে ‘হিমুর কল্পিত ডায়েরি’র ১২ তম প্রদর্শনী

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ