spot_img
29 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

এশিয়া কাপ ফাইনাল: সেরার মুকুট পুনরুদ্ধারে নামছে পাকিস্তান- শ্রীলঙ্কা

- Advertisement -

ক্রীড়া ডেস্ক, সুখবর বাংলা: মাত্র দুই দিন আগে এই এশিয়া কাপেই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। তাতে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। পাঁচ উইকেটের সেই হারের রেশ তো নিশ্চয়ই এখনো তাজাই থাকার কথা পাকিস্তান দলে। আজ ফাইনাল ম্যাচে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা কি প্রতিশোধ নিতে পারবে, নাকি টানা জয় তুলে নিয়ে এশিয়া-সেরার মুকুট আবার মাথায় তুলবে শ্রীলঙ্কা?

এবারের এশিয়া কাপে ফেবারিটের তালিকায় ছিল না শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই তারা হেরে যায় আফগানদের কাছে। সেই লঙ্কানরাই কিনা এবার এশিয়া কাপের ফাইনালে। যাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। যারা প্রথম ম্যাচে হেরেছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে।

দুবাই ইন্টারন‍্যাশনাল স্টেডিয়ামে রোববার ফাইনালে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়।এবারের আসর হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। তবে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আর্থিক সঙ্কটের জন‍্য টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। কঠিন সময়ে দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটানোর মতোই ক্রিকেট খেলছেন কুসল মেন্ডিস, মাহিশ থিকসানারা।

শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার রানের ছন্দে আছে। কুশল, নিশাঙ্কা নিয়মিতই রান করছেন। মিডল অর্ডারে শানাকা, রাজাপক্ষেও প্রয়োজনীয় কাজটা করতে পারছেন। বোলিংয়ে স্পিনাররাই মূল শক্তি। হাসারাঙ্গা, থিকশানার সঙ্গে পেসাররা জ্বলে উঠলে লঙ্কানদের থামানো কঠিন হবে।

পরিসংখ্যান অবশ্য পাকিস্তানের পক্ষেই কথা বলছে। টি-২০ তে দুই দলের ২২ ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ১৩টি, শ্রীলঙ্কার ৯টি। তবে এশিয়া কাপে স্কোরলাইনটা ১-১। সব ফরম্যাট মিলে এই টুর্নামেন্টে দুই দল ১৬ ম্যাচ খেলেছে। যার মধ্যে ১১ ম্যাচ জিতে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের জয় ৫টি।

উপমহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার শিরোপার দেখা পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। আবার ফাইনাল খেলেছে যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। এশিয়া কাপের প্রথম তিন আসরেই ফাইনাল খেলেছে লঙ্কানরা। প্রথম ও তৃতীয়বার ভারতের কাছে হেরে যায় তারা। ১৯৮৬ সালের এশিয়া কাপে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। এরপর ১৯৯৭, ২০০৪, ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও ট্রফি জেতে তারা।

এদিকে ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার চেয়ে খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলেছে মোট চারবার। এর মধ্যে দুবার শিরোপা জিতেছে, অন্য দুবার হেরেছে দলটি। ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। এরপর ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসে দ্বিতীয় ট্রফি।

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে এখন পর্যন্ত মোট তিনবার দেখা হয়েছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার। এতে সফলতার হারের পাল্লা ভারী শ্রীলঙ্কার। ফাইনালে পরস্পরের মোকাবিলায় দুবার জিতেছে লঙ্কানরা। অন্যদিকে একবার জিততে পেরেছে পাকিস্তান।

ফাইনালের আগের দিন কোনো দলেরই অনুশীলন ছিল না। ছিল না সংবাদ সম্মেলনও। শিরোপার লড়াইয়ে নিয়ে দুই দলের ভাবনা তাই খুব একটা জানা যায়নি। লঙ্কান অধিনায়ক শানাকা সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে উন্মুখ হয়ে আছেন তারা।

“দল হিসেবে আমরা ফাইনালে খেলতে খুবই রোমাঞ্চিত। পাকিস্তান খুব ভালো একটি দল। টুর্নামেন্টের সব ম‍্যাচই ছিল নখ কামড়ানো উত্তেজনার। আমরা ফাইনালের জন‍্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছি। পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, এটা আমাদের সেরা এশিয়া কাপের একটি। আমরা ফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছি।”

ব্যাট হাতে আসর খুব একটা ভালো কাটছে না বাবর আজমের। টানা ব‍্যর্থতায় হারিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ব‍্যাটসম‍্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান। তবে অধিনায়ক হিসেবে উপভোগ করছেন দারুণ।

“অধিনায়ক হিসেবে কোনো দলকে ফাইনালে নেতৃত্ব দেওয়া রোমাঞ্চকর। আমরা এখন ট্রফি জয়ের লক্ষ‍্য পূরণ থেকে কেবল এক ধাপ দূরে। সব অধিনায়ক আর দলই শিরোপা জিততে চায়। দল হিসেবে আমাদের লক্ষ‍্য, ভালো করা এবং শিরোপা জেতা।”

“আসরে পেছন ফিরে তাকালে দেখি, আমরা কিছু দারুণ ম‍্যাচ খেলেছি, কিছু দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছিল। আমরা অসাধারণ কিছু পারফরম‍্যান্স করেছি এবং ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় আলো ছড়িয়েছে এবং ম‍্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছে।”

দুই দলেই আছে ম‍্যাচের ভাগ‍্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়। সামর্থ‍্যের ঝলক এই টুর্নামেন্টে দেখিয়েছেনও তারা। তবে অন‍্য সব ম‍্যাচের মতো ফাইনালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে টস। গত কিছু দিনে হংকং ও স্কটল‍্যান্ড ছাড়া আর সব দলই এই মাঠে জিতেছে রান তাড়া করে।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ: বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), ফাখর জামান, ইফতিখার আহমেদ, খুশদিল শাহ, শাদাব খান, আসিফ আলি, মোহাম্মদ নওয়াজ, নাসিম শাহ হারিস রউফ এবং মোহাম্মদ হাসনাইন।

শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য একাদশ: পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক), ধনঞ্জয় ডি সিলভা, দানুসকা গুনাথিলাকা, ভানুকা রাপাকসে, দাসুন সাকা (অধিনায়ক), ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা, চামিকা করুনারত্নে, মহেশ থিকসানা, প্রমোদ মাদুশান, দিলশান মধুশঙ্কা।

আরও পড়ুন:

টিভিতে দেখুন আজকের খেলা

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ