spot_img
25 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

এত বছর পর চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা স্থাপনের চেষ্টা!

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শি জিনপিং-এর বৈদেশিক নীতির প্রভাব যতটা পড়েছে তা আর কোথাও পড়েনি।

এতে বেইজিংয়ের ক্ষমতা যতটা বেড়েছে ততটাই বেড়েছে ওয়াশিংটনের উদ্বিগ্নতা। এত বছর পর এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারো এই অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে।

২০১৭ সালের পর, এই সপ্তাহে প্রথম মার্কিন নেতা হিসেবে জো বাইডেন কম্বোডিয়ায় দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার জোট বা আসিয়ানের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। যদিও তিনি গত বছর এ সম্মেলনে সশরীরে যোগ দিতে পারেন নি, তবে ভারচুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এরপর তার ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণের কথা আছে, যেখানে জি-২০ সম্মেলনের আগে তিনি চীনের নেতা শি জিনপিং এর সাথে বৈঠকে বসবেন।

তবে ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নোংরা কূটনৈতিক রাজনীতি অনুসরণ করছে।

আসিয়ান একসময় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হতো। তবে বর্তমানে এটি বিশ্বে নিজেকে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আছে। এটি শান্তি ও নিরাপত্তার অঞ্চল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে এর ১০ সদস্য রাষ্ট্র, একে অপরের সাথে সমালোচনা বা বিবাদে জড়ায় না বরং তারা ঐকমত্য চায়।

যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের মোটামুটি সব বাণিজ্যক্ষেত্রেই নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছিল, সে সময়ে আসিয়ানের কার্যক্রমও মনে রাখার মতো ছিল। কিন্তু ২০০০ এর শুরুর দিকে চীন এসে বিশ্ববাজারে নিজের প্রভাব বিস্তার করা শুরু করে।

চীনের প্রাক্তন নেতা দেং জিয়াওপিং বিশ্বাস করতেন, নিজেদের শক্তি সম্পর্কে অন্যান্যদের জ্ঞাত করা উচিত নয়। বরং সময়ের সদ্ব্যবহার করে নিজেদের শক্তিকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করাটাই উচিত। তবে দশ বছর ধরে শি-এর শাসনকালে চীনের ক্ষমতা এখন আর গোপন নেই।

গত দশকে, দক্ষিণ চীন সাগরে রিফ দ্বীপপুঞ্জে চীনের দখলদারিত্ব এবং সামরিক উন্নয়নের ফলে এ দেশ অন্যান্য দাবিদারদের সাথে, বিশেষ করে ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনের সাথে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। চীনকে এসব বিতর্কিত এলাকায় নির্দিষ্ট আচরণবিধি পালনের জন্য আসিয়ান বারবার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু চীন সে কথা শুনে নি। বেইজিং প্রায় ২০ বছর ধরে সমস্ত আলোচনা স্থগিত রেখেছে। ২০১৬ সালে এ দেশ আন্তজার্তিক আদালতের দাবিগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে আদালতের রায়কেও খারিজ করেছে।

মেকং নদীতে বৃহৎ আকারের বাঁধের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলোকেও এড়িয়ে গেছে এ দেশ।

তবে আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্র এ ব্যাপারে চীনকে প্রশ্ন করতে সাহস পায়নি। মূলত চীন অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক দিয়ে এতো শক্তিশালী যে কোন দেশই প্রকাশ্যে এ দেশের বিরোধিতা করার সাহস পায় না।

এমনকি যে ভিয়েতনাম ৪৩ বছর পূর্বে চীনের সাথে যুদ্ধ জড়িয়েছিল এবং যে দেশে চীন বিরোধী মনোভাব প্রখর, সে দেশও চীনের সাথে দীর্ঘ সীমানা ভাগ করছে এবং চীন ভিয়েতনামের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

অন্যদিকে চীন কার্যকরভাবে আসিয়ানের ঐক্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটি লাওস এবং কম্বোডিয়ার মতো ছোট দেশগুলোকে বেছে নিয়েছে যারা বাণিজ্যিকভাবে চীনের উপর নির্ভরশীল।

যদিও চীনের ন্যুনতম অসতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধার কারণ হয়ে উঠতে পারে, তবে সত্যি এটাই দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তুষ্ট।

মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যস্ত এ দেশকে এশিয়ান দেশগুলো আর বিশ্বাস করতে পারছে না। ১৯৯৭ সালে এশিয়ান আর্থিক বিপর্যয় ঘটলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলটিকে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য করে। তারপর জর্জ বুশ থেকে শুরু করে ওবামা এবং এমনকি ট্রাম্প পর্যন্ত এশিয়ার বাণিজ্যকে হেয় করে গেছেন।

অন্যদিকে জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোয়াড জোটও আসিয়ানকে দুর্বল করে দিয়েছে। চীনকে মোকাবেলা করার যুক্তরাষ্ট্রের এ ইচ্ছা এশিয়ার দেশগুলোকে ভীত করেছে কারণ দুই পরাশক্তির এ দ্বন্দ্বে তাদেরকেই অনেক কিছু হারাতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো মানতেও আর ইচ্ছুক নয়- যার ফলে বাণিজ্য নির্ভর দেশগুলো বিপদে পড়েছে।

বৃহত্তম আসিয়ান রাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া রাষ্ট্রপতি জোকো উইডোডোরের অধীনে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ, ঋণ এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার প্রার্থনা করেছে।

আসিয়ান এখন চীনের বিপরীতে যথাসম্ভব অন্যান্য রাষ্ট্রকে যুক্ত করবে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে মিত্ররাষ্ট্র বানিয়েছে, চীনের সাথে তার এ সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তবে সমস্ত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলোই মেনে নিয়েছে যে চীন এই অঞ্চলের প্রভাবশালী রাষ্ট্র এবং এর স্বার্থ রক্ষার জন্য এ দেশ সবকিছু করতে রাজি।

তবে বাইডেনের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায় যে চীনের সাথে সবকিছু ঠিক করার সময় কি সত্যিই পেরিয়ে গেছে?

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ