spot_img
27 C
Dhaka

২৬শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***বিজয়ের মাসে ২টি প্রদর্শনী নিয়ে আসছে বাতিঘরের নাটক ‘ঊর্ণাজাল’***মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি চুমকি, সাঃ সম্পাদক শবনম***সরকার নারীদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে : মহিলা আ. লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা***তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : কুমিল্লায় মির্জা ফখরুল***দেশে আর ইভিএমে ভোট হতে দেওয়া হবে না : রুমিন ফারহানা***রংপুর সিটি নির্বাচনে অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হবে : নির্বাচন কমিশনার***সৌদি আরবে চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মাননা পাচ্ছেন শাহরুখ খান***ভূমি অফিসে সরাসরি ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল***আজ মাঠে নামলেই ম্যারাডোনার যে রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন মেসি***স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে শেখ রাসেল

সময় এবং জনগণ দুই-ই এখন ইমরান খানের পক্ষে

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: ইমরান খান, আইএসআই এর মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসিরকে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তবে পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা, আইএসপিআর এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইমরান খানকে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে নিষেধ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়া পাকিস্তানে সেনাবাহিনী আবার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করছে। তারা নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে হয়তো কিছুদিনের জন্য চুপ থেকে পাকিস্তানের নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সমর্থন জানাবে। বর্তমান সরকারের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন হয়তো এতো লাভজনক হবে না তবে ইমরান খানের জন্য তা অত্যন্ত সুবিধার হয়ে দাঁড়াবে, কারণ পাকিস্তানের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি একজন পিটিআই নেতা।

সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া পাকিস্তানের বাইরে সুখে শান্তিতে বসবাসরত জেনারেলদের মতোই পাকিস্তানের বাইরে চলে যাবেন সুখে বসবার করার উদ্দেশ্যে। জেনারেল জিয়াউল হকের মৃত্যু জেনারেলদের সামনে দুইটি পথ খুলে দিয়েছে। হয় তারা সামরিক শাসন জারি করবে নতুবা নির্বাচনের ব্যবস্থা করে গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে শাসনভার অর্পণ করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক শাসন জারি করতে গেলে জনগণের রোষাণলে পড়তে হবে তাদের। তাই তাদের কাছে মূলত দ্বিতীয় পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় নেই। যদিও জেনারেলরা এখন পর্যন্ত দেশের শাসনভার রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দিতে পুরোপুরি রাজি নয়।

গত সাত দশক ধরে জোট তৈরি ও ভেঙ্গে দেওয়া পাকিস্তানের দলীয় রাজনীতির এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এদেশে অনেক রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে এবং সেই সাথে ভেঙ্গেও গিয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি হলো ১৯৬৪ সালের সম্মিলিত বিরোধী দল (সিওপি), ১৯৬৮ সালের গণতান্ত্রিক কর্ম কমিটি (ডিএসি), ১৯৭৭ সালের পাকিস্তান ন্যাশনাল এলায়েন্স (পিএনএ), ১৯৮৩ সালের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন (এমআরডি) এবং ২০০২ সালের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন জোট (এআরডি)।

জিয়ার সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৮১ সালে ১১টি রাজনৈতিক দল প্রথম সংগঠিত বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন (এমআরডি) নামক জোট গঠন করে। তবে জেনারেল জিয়া পূর্ববর্তী সামরিক শাসকদের তুলনায় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে আরো প্রসারিত করে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের সামরিক শাসন চালিয়ে যান।

জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৬৪ সালে পাঁচটি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল এই সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দল (সিওপি) নামক জোট গঠন করে।

সুপ্রিম কমান্ডার এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, জেনারেল আইয়ুব খান, সিনিয়র আমলা আজিজ আহমেদ এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল মজিদ মালিকের সাহায্যে ৮ অক্টোবর, ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সংবিধান বাতিল করে দেশে সামরিক শাসন আইন জারি করেন।

১৯৬৭ সালে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাঁচটি বিরোধী দল একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি গণতান্ত্রিক আন্দোলন নামে একটি দল গঠন করে। এ জোটের নেতৃত্বে ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ নবাবজাদা নাসরুল্লাহ খান। পরবর্তীতে এ দলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গণতান্ত্রিক কর্ম কমিটি (ডিএসি)।

২৫ মার্চ, ১৯৬৯ সালে আবার সামরিক শাসনে আসেন জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান। যেহেতু ১৯৬২ সালের সংবিধান বাতিল করা হয়েছিল, তিনি এসে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন, যেন একটি নতুন সংবিধান তৈরি হয়। তিনি ডিএসি সহ অন্যান্য মূলধারার রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ আলোচনাও করেন।

সেই সময় আইয়ুব সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রধান বিরোধী হিসেবে অবতীর্ণ হন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে ভুট্টোর পিপিপি দল পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে। সামরিক বাহিনি তখন ভুট্টোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ভুট্টো সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতা ছিল নতুন ফেডারেল সংবিধান তৈরি। তবে ১৯৭৩ সালের সংবিধান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রণীত পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে ভুট্টো পিএনএ-এর সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করেন।

তবে ১৯৭৭ সালের ৫ জুলাই, সেনাবাহিনী ভুট্টো সরকারকেও উৎখাত করে। সেনাপ্রধান জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউল হক প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবশেষে পিএনএ আন্দোলনের সমাপ্তিও পূর্বের ন্যায় সামরিক দখলের মাধ্যমেই হয়।

সামরিক বাহিনী আবার নেতৃত্বে আসার পর জোটের কিছু সদস্যও জেনারেল জিয়ার সামরিক সরকারে যোগদান করে। এ সরকার সংবিধানকে স্থগিত করে ভুট্টো ও অন্যান্য পিপিপি নেতাদের গ্রেফতার করে।

যদিও জিয়া ৯০ দিনের ভেতর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তবে তিনি জানতেন যে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে এর ফলাফল তাদের বিপক্ষেই যাবে। তাই আদতে তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেন নি। জেনারেল জিয়া এক কঠোর শাসন স্থাপন করেন। ১৯৭৯ সালে এ সামরিক সরকার পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করে, যা আজও পাকিস্তানের ইতিহাসে ঘৃণ্য এক হত্যাকাণ্ড বলে বিবেচিত।

অবশেষে পিপিপি এবং পিএমএল-এনকে সাথে নিয়ে জেনারেল মোশাররফ তার শাসনক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টা করেন। এ দুইটি দলই ২০০২ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়। পিএমএল-এন মোশাররফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-কায়েদ (পিএমএল-কিউ) নামক সামরিক দলের বিরুদ্ধে হেরে যায়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে পিপিপি ও পিএমএল-এন এ দুইটি দল সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার জোট (এআরডি) গঠন করে। তবে এ জোট প্রকৃতপক্ষে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে কোন কাজই করতে পারেনি।

তবে আবার এমন রাজনৈতিক দলকেও দেখা যায় যারা শুধুমাত্র জনগণের আক্রোশের মুখেই ভেঙ্গে গিয়েছে।

যাই হোক, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটা বলাই যায় এখন সময় এবং জনগণ দুই-ই ইমরান খানের পক্ষে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ