spot_img
27 C
Dhaka

২৯শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল টিটিপি ইসলামাবাদের গলার কাঁটা?***পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সম্পর্ক কি শেষের পথে?***শীত মৌসুম, তুষার এবং বরফকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া : ন্যাটো***নানা সুবিধাসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে চাকরির সুযোগ***বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি ও আসনবিন্যাস প্রকাশ***পৃথিবীর কিছু অবিশ্বাস্য সৃষ্টি, যা আপনার কাছে খুবই আশ্চর্যজনক লাগবে***পাকিস্তান সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল মুনির***মহেশখালীতে ধরা পড়া ৮ কালো পোয়ার দাম ২৫ লাখ টাকা!***বিএনপিকে ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি***গোবিন্দগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বামী কেন আসামি?

এখনি তুলে নেওয়া হচ্ছে না চীনের শূন্য কোভিড নীতি

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: আদতে দীর্ঘস্থায়ী শূন্য কোভিড নীতি জনগণের হতাশা বাড়াচ্ছে। তবুও এ নীতিতে চীন এখনো অটল রয়েছে। যে জনগণের জীবন রক্ষার্থে চীনা সরকার এ নীতি গ্রহণ করেছিল সে জনগণই করছে এর তুমুল বিরোধিতা।

চীন এ নীতি তুলে নিচ্ছে এমন গুজব ছড়ালে চীনা স্টকগুলি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তবে গত শনিবার চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা একটি সম্মেলনে জানান, তারা এখনো এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেন নি। শূন্য কোভিড নীতি এখনো চলমান এবং তা কবে নাগাদ তুলা হবে সে ব্যাপারেও কিছু জানানো হয় নি।

তবে এ পদক্ষেপের ফলে দেশে সংক্রমণ এবং মৃত্যুহারের সংখ্যা কমেছে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ এক কর্মকর্তা হু জিয়াং বলেন, “সংক্রমণ এবং মৃত্যুহারের নিম্নগতি প্রমাণ করছে যে আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো একদম সঠিক। দেশের নাগরিকদের সুরক্ষাই এ ব্যাপারে সবার আগে থাকবে এবং এর জন্য যা যা করা দরকার আমরা করব। রোগ যেন আরো ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য তিনি কিছুদিনের জন্য বাইরের দেশ থেকে আমদানি বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেন।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের জন্য চীনা সরকারকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব তারা জনগণ এবং বহির্বিশ্বকে এ গুজব সম্পর্কে অবগত করান। শূন্য কোভিড নীতি চলবে এমন ঘোষণা আসার পর থেকে অবশ্য চীনা নাগরিকেরা একটু হতাশ। মাসের পর মাস কোয়ারান্টাইন, গণপরীক্ষা এবং কঠোর লকডাউনে তারা বিরক্ত।

শূন্য কোভিড নীতির উপর ভিত্তি করে শি জিনপিং তার তৃতীয় মেয়াদের শাসন শুরু করেছেন। তবে এ কয়েক সপ্তাহে জনগণের হতাশা এবং অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত শুক্রবার, মঙ্গোলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলের রাজধানী হোহোতে একটি বিল্ডিং এর ১২ তলা থেকে পড়ে মারা যান ৫৫ বছর বয়সী এক মহিলা। এ ব্যাপারে দুইটি মামলা হওয়ার পর বিল্ডিং- টি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।

বিল্ডিং- এর প্রবেশপথ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অডিওতে শুনা যায়, মহিলাটির মেয়ে ব্যারিকেড তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে যাতে করে সে তার মায়ের কাছে যেতে পারে।

অন্য একটি ভিডিওবার্তায় দেখা যায়, মেয়েটি তার মায়ের নিথর দেহের পাশে বসে কাঁদছে।

এতে দেশজুড়ে হৈচৈ শুরু হলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানান, মহিলাটি তার ২৯ বছর বয়সী মেয়ের সাথে থাকতেন। তিনি বেশ কয়েকদিন যাবত উদ্বেগজনিত অসুখে ভুগছিলেন।

এ মহিলার মৃত্যু চলমান লকডাউন পরিস্থিতির উপর প্রশ্ন তুলেছে। চলমান লকডাউনই তার উদ্বেগের কারণ ছিল বলে অনেকের ধারণা।

অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লানঝোতে লকডাউনে থাকা এক বিল্ডিংয়ে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ৩ বছর বয়সী এক শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাগুলো দেশব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জানান, আসন্ন শীতে চীনে সংক্রমণ বাড়তে পারে। এ অবস্থায় সরকারের এ লকডাউন ব্যবস্থা একদম সঠিক বলে তারা মনে করেন।

গত রবিবার, চীনে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক (৫৪৯৬ জন) লোক আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

মোট সংক্রমণের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি সংক্রমণ দেখা যায়,গুয়াংজু এর দক্ষিণ মেট্রোপলিসে। এ শহরটিতে ১৯ মিলিয়ন লোকের বসবাস। মহামারী শুরুর পর থেকেই এ শহরের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এ শহরের হাইজু জেলার বেশিরভাগই লকডাউনের অধীনে রয়েছে।

গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, কিছু বাসিন্দারা লকডাউকের নিয়ম মানছে না এবং তারা সকল নিয়ম অমান্য করে বাইরে বেরিয়ে আসছে যার ফলে সংক্রমণ ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে।

কঠোর লকডাউন নেই এমন অঞ্চলেও কোভিড পরীক্ষা এবং কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা জনগণকে অসন্তুষ্ট করে তুলছে।

বেইজিং এ বেশিরভাগ সিনিয়র রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের বসবাস। এ অঞ্চলে প্রবেশের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অক্টোবরে এ বিধিনিষেধ আরো কঠোর করা হয়, যা এখন পর্যন্ত শিথিল হয়নি।

তবে বিভিন্ন চীনা নাগরিকেরা স্বাস্থ্য এপের বিভিন্ন ত্রুটির কথা তুলে ধরেন যার ফলে কোভিড নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদের শহরে ফিরে যেতে পারছেন না।

তবে চলমান নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা অধিকাংশই রাজনৈতিক অভিজাত ও জাতীয়তাবাদী প্রভাবশালী দলের সদস্য। কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন সদস্য, তাও ঝুর মেয়ে, তাও সিলিয়াং কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন, যার ফলে তিনি তার বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।

৮১ বছর বয়সী, এই মহিলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, “আমি এতদিন সবকিছু সংযতভাবে সহ্য করছিলাম। কিন্তু এতদিন ধরে বাড়ি না ফেরার কষ্ট এবং আতংক আমার আর সহ্য হচ্ছে না।” তবে পরবর্তীতে তিনি তার এ লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে মুছে ফেলেন।

আই/কে/জে

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ