spot_img
23 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

ইমরান খান যেন বেনজীর ভুট্টোরই প্রতিচ্ছবি

- Advertisement -

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, ইমরান খানকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা রাওয়ালপিন্ডিতে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। উল্লেখ্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে এখন নানা সমালোচনা ও অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কয়দিন আগে ইমরান খান আইএসআই অধিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল ফয়সাল নাদিমকে “ডার্টি হ্যারি” বলে সম্বোধন করেন। আর এখন খান সাহেব তাকে হত্যার চেষ্টার জন্য নাদিমকেই দায়ী করছেন।

নাদিম এবং তার একজন সেক্টর কমান্ডার, পিটিআই এর এক সিনিয়র নেতা, আজম স্বাতীকে নির্যাতনের অভিযোগে এমনিতেই জনগণের রোষাণলে ছিলেন। সেনাবাহিনীকে কটূক্তি করার অভিযোগে স্বাতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্বাতী নাদিম এবং তার সেক্টর কমান্ডারের বিরুদ্ধে তাকে বেধরক মারধরের অভিযোগ আনলে ইমরান খান এ দুজনকে “ডার্টি হ্যারি” নামে অভিহিত করে এদেরকে অপসারণের দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জোরপূর্বক অপসারণের পর, ইমরান খান তার সাথে নোংরা রাজনীতি খেলার জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল জাভেদ কামার বাজওয়া এবং তার অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। তবে কিছুদিন আগে এ বাজওয়া ই রাহিল শরীফের সাথে ইমরানকে ইসলামাবাদের শাসনক্ষমতায় নিয়ে এসেছিলেন। আসলে তারা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এরপর জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর, ইমরান খান অনেকটা বেনজির ভুট্টোর মতোই জনগণের সহানুভূতি লাভের উদ্দেশ্যে ক্রমাগত সেনাবাহিনীর উপর দোষারোপ করে যাচ্ছেন।

ইমরানের সাথে বেনজীরের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বেনজীরের উপরেও মরণঘাতী হামলা হয়। তবে এ ঘটনায় বেনজীর ইমরানের মতো ভাগ্যবান ছিলেন না এবং তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। বেনজীরও ছিলেন সেনাবাহিনীর বিরোধী। সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করে তিনি শাসনতন্ত্রকে নিজের কবজায় আনতেই যাচ্ছিলেন এবং সেই মূহুর্তেই তাকে আততায়ীর হামলার শিকার হতে হয়। ইমরান খানের মতোই তিনিও মোশাররফ করিমের ঘনিষ্ঠভাজন ব্রিগেডিয়ার ইজাজ শাহসহ বেশ কিছু আইএসআই অফিসারদের সাথে জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরবর্তীতে জানা যায়, যে সমাবেশে বেনজীর কে হত্যা করা হয় সে সমাবেশে যোগ না দেওয়ার জন্য আগে থেকেই তৎকালীন আইএসআই প্রধান নাদিম তাজ তাকে সতর্ক করেছিলেন।

সেনাবাহিনীর সাথে ইমরানের গোপন বৈঠক এখন ইমরানকে নির্দোষ এবং নির্ভুল প্রমাণিত করছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে, আইএসআই প্রধান নাদিম আঞ্জুম ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে তিনি বাজওয়াকে চাকরিতে আজীবন মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ইমরান এ অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন এবং ইসলামাবাদে লং মার্চে যোগ দেন।

তার ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি সেনা সদস্যদেরকে “পশু”, “বিশ্বাসঘাতক” ইত্যাদি বলে তিরস্কার করেন। তবে সেনাসদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে ইমরানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাজওয়ার সেনাবাহিনী ছেড়ে দেওয়াকে অনেক সেনাসদস্যই মেনে নিতে পারছেনা। সৈন্যদের মধ্যে নানা মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রাক্তন আইএসআই প্রধান জহিরুল ইসলামসহ বেশকিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ইমরান খান এবং আর দল পিটিআই এর সমর্থন করেছেন। রাওয়ালপিন্ডির অনেকেরই বক্তব্য আইএসআই সেনাসদস্যদের তাদের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত ছিল। ইমরান খানের ব্যর্থতা যা ই হোক না কেন বর্তমানে তিনি তার প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়।

আইএসআই প্রধানের অনুমতিক্রমে সেনাবাহিনীর ইমরানকে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হয়নি। উপরন্তু, তাকে হত্যার চেষ্টা তাকে বেনজীর ভুট্টোর মতোই জনগণের কাছে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে। ইমরান খানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাধারণ জনগণের সেনাবাহিনীর সাথে সম্পৃক্ততা দিন দিন কমে যাচ্ছে, জেনারেল জাভেদ কামার বাজওয়ার পদত্যাগ তারই প্রমাণ।

বাজওয়া এবং তার লোকেরা যদি এখন ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তবে তা জনগণের সাথে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দুর্বল দ্বন্দ্ব হিসেবে পরিগণিত হবে। তাই ইমরান খানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে যদি নতুন সেনাপ্রধান তার কাজ চালিয়ে যান এটাই তার নিজের জন্য ভালো হবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ