spot_img
27 C
Dhaka

২৬শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***বিজয়ের মাসে ২টি প্রদর্শনী নিয়ে আসছে বাতিঘরের নাটক ‘ঊর্ণাজাল’***মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি চুমকি, সাঃ সম্পাদক শবনম***সরকার নারীদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে : মহিলা আ. লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা***তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : কুমিল্লায় মির্জা ফখরুল***দেশে আর ইভিএমে ভোট হতে দেওয়া হবে না : রুমিন ফারহানা***রংপুর সিটি নির্বাচনে অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হবে : নির্বাচন কমিশনার***সৌদি আরবে চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মাননা পাচ্ছেন শাহরুখ খান***ভূমি অফিসে সরাসরি ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল***আজ মাঠে নামলেই ম্যারাডোনার যে রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন মেসি***স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে শেখ রাসেল

আসিয়ান ও জি-২০ সম্মেলনে মিলিত হতে যাচ্ছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তর্জাতিক এক শীর্ষ সম্মেলনে একত্রিত হতে যাচ্ছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। সেই উপলক্ষে এ সপ্তাহের শেষ দিকে নমপেনে একত্রিত হচ্ছেন তারা।

এ নেতৃবৃন্দ প্রথমে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে আসিয়ান এর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিবেন। পরবর্তী সপ্তাহে তারা ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনে এবং ব্যাংককে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিবেন।

২০২০ সালে মহামারী শুরুর পর এই প্রথমবার এই তিনটি সম্মেলনই নেতৃবৃন্দদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখানে জলবায়ু পরিবর্তন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কোভিড-১৯ মহামারীর পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে কয়েক দশক ধরে ভূ-রাজনৈতিক কোন বিভাজন দেখা না গেলেও, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার সম্পর্কে পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। যার ফলে বিশ্বের বাকি দেশগুলো যেকোন একটি দল বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিন এসব সম্মেলনে অংশ নিবেন কি না এ ব্যাপারটি এখনো নিশ্চিত করা না গেলেও চীনা নেতা শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতা জো বাইডেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুইটি সম্মেলনে অংশ নিবেন বলে জানা যায়।

একদিকে তৃতীয়বারের মতো নেতৃত্বে আসা শি জিনপিং মহামারীর পর প্রথমবারের মতো এসব সম্মেলনে সশরীরে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অপরদিকে রয়েছেন জো বাইডেন, যার দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলাফল করেছে। দুইজনই নিজেদের দেশকে একে অপরের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং নিজেদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইবেন।

বৃহস্পতিবার, হোয়াইট হাউস জানায়, বাইডেনের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো এ দুই নেতা আগামী সোমবার, জি-২০ সম্মেলনের আগে এক বৈঠকে বসবেন। অন্যদিকে বেইজিং গত শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, শি জিনপিং জি-২০ সম্মেলন এবং এপেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিবেন এবং সেইসাথে বাইডেন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বসবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই পরাশক্তির মধ্যে এ আলোচনা দুইটি দেশেরই উত্তেজন এড়াতে সাহায্য করবে। তবে শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে এ দুইটি দেশ একে অপরের সাথে কতটুকু সম্মত হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শুক্রবারে নমপেনে শুরু হওয়া আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ নেতারা মিলিত হবেন। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আলাপ আলোচনা মূলত বিভক্ত বিশ্ব রাজনীতিকেই প্রতিফলিত করবে।

এসব শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মিয়ানমার নিয়েও আলোচনা হতে পারে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে গত দুই বছর আগে নৃশংস এক অভ্যুত্থান সেই দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয় এবং সেখানকার মানুষেরা বিগত দুই বছর ধরে চরম অশান্তিতে জীবন কাটাচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বকে তারা কিভাবে মোকাবেলা করবে কিংবা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কোন পরাশক্তিকে তারা সমর্থন করবে- এসব বিষয়ের উপরেই এই সম্মেলনগুলোর সাফল্য নির্ভর করছে।

নমপেন, বালি এবং ব্যাংককে তিন শীর্ষ সম্মেলনের দিকে পুরো বিশ্বের নজর রয়েছে। তবে রাশিয়ার আগ্রাসন, মিয়ানমারের অভ্যুত্থান সংকট, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের যুদ্ধ এবং এছাড়াও নানা বিষয় বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে আসিয়ানের অবস্থা খারাপের দিকে রয়েছে।

গত মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। সে নির্বাচনে ১০ টি আসিয়ান রাষ্ট্রের মধ্যে ৭টিই (যার মধ্যে ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত মিয়ানমারও রয়েছে) ইউক্রেনের চারটি রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করায় রাশিয়ার নিন্দা প্রকাশ করে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড, লাওস এবং ভিয়েতনাম ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

আসিয়ান জোট এই সপ্তাহে কিয়েভের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এটি বৃহস্পতিবার, নমপেনে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবারের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

এই জোটের উদ্দেশ্য হচ্ছে এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বের বৃহত্তর নেতাদেরকে একত্রে নিয়ে আসা।

এ ব্যাপারে পংসুধীরক বলেন, “আসিয়ান যদি তার সদস্য রাষ্ট্রদেরকে একত্রিত না করতে পারে, যদি মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক শাসনের মতো দুর্বৃত্তদের লাগাম না টানতে পারে তবে তা নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। অন্যদিকে যদি এটি সদস্যদেরকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়, তবে এ জোট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী জোট হিসেবে গণ্য হবে।”

দুই বছর আগে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর এ দেশে স্বাধীনতার তীব্র অবনতি দেখা গিয়েছে। ক্ষমতাসীন সামরিক গোষ্ঠী কর্তৃক এ অঞ্চলের স্কুলসহ বেসামরিক কাঠামোতে সহিংস হামলা হতেও দেখা গিয়েছে।

এই সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অনেক বিদ্রোহী দলও গঠিত হয়েছে। মিয়ানমারের শাসক জান্তা গত বছরের এপ্রিলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা করে ব্যর্থ হয়। এ কারণে নমপেনে এবার আলোচনার শীর্ষে থাকবে মিয়ানমারের এ পরিস্থিতি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান নেতারা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন। মিয়ানমার শত বাধা সত্ত্বেও আসিয়ানের সদস্য হয়ে রয়েছে, যদিও যেকোন শীর্ষ সম্মেলনেই এদেশের কোন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন না।

আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করার জন্য পরামর্শ করতে একত্রিত হয়েছিলেন। যদিও এ বৈঠকে তারা তেমন কোন সমাধান কর‍তে পারেন নি।

এ বছর আসিয়ানের নেতৃত্বে রয়েছে কম্বোডিয়া এবং ২০২৩ সালে এর নেতৃত্বে থাকবে ইন্দোনেশিয়া।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বাইডেন সরকার সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

অন্যদিকে চীন এ সামরিক শাসনকে সমর্থন জানিয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক শাসন নিয়ে বিভিন্ন তদন্তে জানা যায়, চীন এবং রাশিয়া উভয়ই মিয়ানমারের শাসককে অস্ত্র সরবরাহ করে সমর্থন করছে।

সম্মেলনে এসব কিছুই প্রভাব ফেলবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। হতে পারে এ সম্মেলনে চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব এক নতুন মাত্রা পাবে।

এব্যাপারে রাজনৈতিক বিজ্ঞানী, চং বলেন, “রাশিয়া এবং চীনের সামরিক জান্তার প্রতি সমর্থনের কারণেই মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আসিয়ানের সমস্ত কার্যক্রমই ব্যর্থ হচ্ছে।”

তবে মিয়ানমারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র – চীনের মতভেদই একমাত্র কারণ নয়। বরং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসন, চীনের অন্যান্য দেশের প্রতি বিদ্রোহী মনোভাব, তাইওয়ান বিতর্ক এসবকিছুই আসিয়ানের সম্মেলনে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে এ ব্যাপারে আসিয়ান জোট চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টাটুকুই করবে। চীনা নেতা লি কেকিয়াং, শি জিনপিং এর প্রতিনিধি হিসেবে সপ্তাহের শুরুতেই এসেছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের সমাধানই চান। কারণ এ দ্বন্দ্বের ফলে অর্থনৈতিকভাবে তাদেরকেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আসিয়ান চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব মেটাবার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ