spot_img
27 C
Dhaka

২৯শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

আর্জেন্টিনা কি পারবে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে?

- Advertisement -

ক্রীড়া ডেস্ক, সুখবর ডটকম: বিশ্বকাপ সামনে রেখে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা যেন একে অপরে বিলীন হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা যেকোনো মূল্যে বিশ্বকাপ জিততে চায়, যেকোনো মূল্যে তারা শিরোপা দেখতে চায় মেসির হাতে। জীবনের শেষ বিশ্বকাপে শিরোপা ছাড়া মেসির বিদায় হতে পারে অগস্ত্যযাত্রার মতোই।

সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিতর্কে পেলে ও ম্যারাডোনার সঙ্গে লিওনেল মেসির নামও প্রায়ই আসে। গত দেড় যুগে জাদুকরী ফুটবল খেলে বিশ্বের তাবৎ ফুটবল ভক্তকে আচ্ছন্ন করেছেন মেসি নামের জাদুতে। কী ব্যক্তিগত, কী দলগত–সম্ভাব্য সব শিরোপাই দখলে তার। কিন্তু যখন প্রশ্ন আসে জাতীয় দলের হয়ে অর্জনের, তখন চোখের সামনে যে রিক্ত এক শিল্পীর চেহারাই ভাসে।

অবশেষে ২০২১ কোপা আমেরিকায় ঘুচল সে খরা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। তবে বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই।

লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপের কাছাকাছি গিয়েও খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেও রিক্ততায় মুষড়ে পড়তে হয়েছে মেসিকে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও শিরোপা উৎসব করা হয়নি আর্জেন্টিনার। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে শিরোপা জেতে জার্মানি।

ব্রাজিলের পর রাশিয়া বিশ্বকাপেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। দুর্ভাগ্যটা তাড়া করে ফিরেছে সেবারও। তাইতো গ্রুপপর্বে বাজে পারফরম্যান্সের খেসারত দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পড়তে হয়েছে দুর্দান্ত ফ্রান্সের সামনে। সে লড়াই ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় মেসি-মারিয়াদের।

ব্রাজিল বা রাশিয়ায় না হলেও কাতারের মরুভূমিতে ফুল ফোটাতে ফের বদ্ধপরিকর লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থরা। ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার মাইলফলকের সামনে থাকা ৩৫ বছর বয়সী মেসির যে এটিই সবশেষ বিশ্বকাপ, তা জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মেসিই। নিজের শেষ বিশ্বকাপটা রাঙাতে চান শিরোপা উৎসব করে।

আর্জেন্টিনা পারবে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে? সে প্রশ্নের উত্তর সময়ের হাতে তোলা থাকলেও, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ভালো সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবল পণ্ডিতরা। স্কোয়াড গভীরতা, পারফরম্যান্স ও এক্স ফ্যাক্টরের বিচারে ব্রাজিলের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তিও কাতার বিশ্বকাপের হট ফেবারিট।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফেবারিট তালিকায় রাখার একমাত্র কারণ যে লিওনেল মেসির উপস্থিতি, বিষয়টি এমন নয়। বরং গত বিশ্বকাপে হোর্হে সাম্পাওলির অধীন ভরাডুবির পর লিওনেল স্ক্যালোনি দলের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাদের দিচ্ছে ফেবারিট তকমা। ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা সেমিফাইনালে হারার পর থেকে অজেয় আর্জেন্টিনা। শুধু তাই নয়, ব্রাজিলের মতো বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনাও ছিল অপরাজিত।

আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা

কাতার বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা অপরাজিত আছে টানা ৩৫ ম্যাচ। এই অপরাজেয় যাত্রা আর দুই ম্যাচ চললে তারা ছুঁয়ে ফেলবে ইতালির গড়া বিশ্বরেকর্ড। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১-এর জুনে স্পেনের বিপক্ষে হারার আগে টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত ছিল ইতালি।

আর্জেন্টিনা সবশেষ হারের মুখ দেখে ২০১৯ সালের ২ জুলাই। কোপা আমেরিকার সেই সেমিফাইনালের পর ৩৫ ম্যাচে ২৬ জয়ের পাশাপাশি ৯টি ম্যাচে ড্র করেছে আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনার এই দলটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশ্রণে গড়া দলটির অবিসংবাদিত নেতা লিওনেল মেসি। তিনিই দলের জিয়নকাঠি। একসময় জাতীয় দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নয় বলে সমালোচনার শিকার হওয়া মেসির সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক এখন খুবই ভালো। মাঠের খেলায়ও যার প্রমাণ মেলে। অধিনায়ক মেসির জন্য নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলেন রদ্রিগো ডি পল-লিয়ান্দ্রো পারাদেসরা।

অবশ্য পথটা এত সোজা ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনা পরপর হারে কোপা আমেরিকার দুটি ফাইনাল। আক্রমণভাগে দুর্দান্তসব তারকাকে নিয়ে এমন হতাশার ফলে মুষড়ে পড়েছিলেন মেসিও। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর শঙ্কা জেগেছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারটি হয়তো আন্তর্জাতিক শিরোপা না  জিতেই বিদায় নেবেন ফুটবলের সবুজ গালিচা থেকে।

এরপর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব তুলে দেন লিওনেল স্ক্যালোনির হাতে। কোচিংয়ে তার অভিজ্ঞতা বলতে তখন বয়সভিত্তিক দলে কোচিং করানো আর সাম্পাওলির সহকারীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। তবে দৃঢ় হাতে দলকে নতুন করে গড়ে তোলেন তিনি। বাদ দেন অভিজ্ঞ অনেককেই।

স্ক্যালোনির অধীন দল ঘুরে দাঁড়াতে থাকায় তাকেই পূর্ণ মেয়াদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তার অধীনই আসে ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকার পর প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা। স্ক্যালোনি গড়ে তুলেছেন দুর্দান্ত একটা লাইনআপ। অভিজ্ঞ মেসি-মারিয়ার পাশাপাশি এ দলটায় রয়েছেন  লাউতারো মার্টিনেজ-পারাদেসদের মতো তারকারা। আছে উইলিয়ান আলভারেজের মতো তরুণ তুর্কি।

মাস্টারমাইন্ড স্ক্যালোনির কৌশল

২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব ১৮ দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা স্ক্যালোনি যখন আর্জেন্টিনার দায়িত্ব কাঁধে নেন, তখন খুব একটা ভরসার চোখে দেখেনি কেউ। এমনকি  কোচ হিসেবে তার নিয়োগটাও ছিল অন্তর্বর্তীকালীন। কিন্তু স্ক্যালোনি দৃঢ়চেতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন, তাই শুরুতেই নেন কঠিন সিদ্ধান্ত। আর্জেন্টিনার কোচ হয়েই ছেঁটে ফেলেন ব্যর্থ প্রজন্মের তারকাদের। লিওনেল মেসির পাশাপাশি দলে টিকে যান আগের বিশ্বকাপের অল্প কয়েকজনই।

২০১৯ কোপা আমেরিকায় তৃতীয় হওয়ার পর তাকেই দায়িত্ব দেয়া হয় কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ কোপা আমেরিকার আসর পিছিয়ে যায় এক বছর। এই সুযোগে তিনি নতুন করে সাজান দল। লিওনেল মেসিকে ফ্রি রোল দিয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে জায়গা দেন লাউতারো মার্টিনেজকে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারাদেসের ভূমিকা বদলে তাকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে দেন তিনি। দলে জায়গা দেন রদ্রিগো ডি পলকে। আর্জেন্টিনা দলের রক্ষণভাগে ভারসাম্য আসে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মলিনা, নেহুয়েন পেরেজদের অন্তর্ভুক্তিতে।

স্ক্যালোনি সাধারণত পজেশন বেসড ফুটবল খেলাতে পছন্দ করেন। কোচ হওয়ার পর নির্দিষ্ট কোনো ফর্মেশনে তিনি দলকে থিতু করেননি। বরং খেলোয়াড় ও প্রতিপক্ষ বুঝে সাজিয়েছেন ট্যাকটিকস। আলবিসেলেস্তেদের কোচ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৪-৪-২, ৪-৩-৩-এর মতো প্রথাগত ফর্মেশনে যেমন দলকে খেলিয়েছেন, তেমনি খেলিয়েছেন ৪-২-৩-১, ৪-১-৪-১ ও ৪-১-৩-২ ফর্মেশনেও। তবে যেমনই ফর্মেশন হোক, কোচ হিসেবে তার দর্শন পরিষ্কার; জমাট ডিফেন্স রেখে যত কম গোল খাওয়া যায় এবং আক্রমণভাগে মেসির মতো সৃজনশীল খেলোয়াড়ের প্রতিভা কাজে লাগানো।

আর্জেন্টিনার এই দলের একটা দুর্বলতার জায়গা প্রথাগত উইঙ্গারের অভাব। ডি মারিয়া ও লুকাস ওকাম্পোস বাদে আর কোনো প্রথাগত উইঙ্গার নেই স্ক্যালোনির হাতে। তবে তার হাতে আছে দুর্দান্ত একটা মধ্যমাঠ, যা বল দখলে রেখে খেলতে পারে দারুণ পাসিং ফুটবল। তার সিস্টেমে বড় ভূমিকা থাকে দুই ফুলব্যাকের। চরম আক্রমণাত্মক এই ফুলব্যাকরা উইং ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণে ওঠে।

‘এক্স ফ্যাক্টর’ লিও মেসি

আর্জেন্টিনার দারুণ এই দলটার প্রাণ লিওনেল মেসি। ৩৫ বছর বয়সেও মাঠে ফোটাচ্ছেন অলৌকিক সৌন্দর্যের ফুটবল ফুল। আর্জেন্টিনার এই নাম্বার টেন তার শেষ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন অনেকটা নির্ভার হয়ে। ক্যারিয়ারে আর বিশেষ কিছু পাওয়ার নেই তার। একটা বিশ্বকাপ শিরোপা দিতে পারে পূর্ণতা। তাই মেসির পূর্ণ মনোযোগ থাকবে বিশ্বকাপেই। চাইবেন নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে।

বার্সেলোনার হয়ে মেসি যতটা সপ্রতিভ, আর্জেন্টিনার হয়ে ততটা নয়–এমন অভিযোগে দীর্ঘদিন বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। তবে সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে ২০২১-এর কোপা আমেরিকা জয়ের পর। বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেয়ার পর ক্লাবের হয়ে পারফরম্যান্সে ভাটার টান পড়লেও জাতীয় দলের হয়ে মেসি আছেন সেরা ফর্মে। কোপা আমেরিকায় ভিনগ্রহের ফুটবল খেলে এনে দিয়েছেন দেশকে শিরোপা। টানা ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রায়ও বড় অবদান এই নাম্বার টেনের।

কোপা আমেরিকার পর এ বছর ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে জিতেছেন লা ফিনালিসিমা। প্রীতি ম্যাচগুলোতেও মেসি ভাস্বর আপন মহিমায়। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ৬ ম্যাচে ১০ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট মেসির।

আর বিশ্বকাপের আগে এসে ক্লাবেও নিজেকে ফিরে পেয়েছেন মেসি। পিএসজির জার্সিতে এ মৌসুমে নিয়মিত করছেন গোল-অ্যাসিস্ট। তাই কাতারে আত্মবিশ্বাসটাও থাকবে তুঙ্গে।

যাদের ওপর থাকবে চোখ

  • লাউতারো মার্টিনেজ

ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার জাতীয় দলের জার্সিটা গায়ে চাপালেই অন্য এক শক্তি অনুভব করেন। ক্লাবের অফফর্মও তাকে ছোঁয় না আর্জেন্টিনার জার্সি চাপালে। আর্জেন্টিনার বিগত সময়ের স্ট্রাইকাররা ক্লাবে গোলের বন্যা বইয়ে দিলেও জাতীয় দলে থাকতেন নিজের ছাঁয়া হয়ে, কিন্তু লাউতারো অন্য ধাতুতে গড়া। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ৪০ ম্যাচেই করেছেন ২১ গোল। লিওনেল মেসির সঙ্গে তার রসায়নটা জমেও দারুণ।

  • উইলিয়ান আলভারেজ

আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে কখনোই স্ট্রাইকারের অভাব না হলেও প্রথমবারের মতো স্ট্রাইকার হিসেবে লাউতারোর পাশে নেই বড় কোনো নাম। তবে রিভারপ্লেট থেকে এ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেয়া উইলিয়ান আলভারেজ হতে পারেন স্কলানির গোপন অস্ত্র। দারুণ গতি আর সুযোগসন্ধানী দৃষ্টি তো আছেই, খেলা নিয়ন্ত্রণের গুণও আছে তার। ভবিষ্যতের বড় তারকা হতে যা দরকার, তার সবই আছে তার মধ্যে।

  • এনজো ফার্নান্দেজ

আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রতিভার একজন ধরা হচ্ছে বেনফিকার মধ্যমাঠের তারকা এনজো ফার্নান্দেজকে। ২১ বছর বয়সী তারকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন হলেও এরই মধ্যে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে রেখেছেন। কাতারে সুযোগ পেলে হতে পারেন বিশ্বকাপের চমক।

  • ক্রিস্টিয়ান রোমেরো

টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলা এই ডিফেন্ডার বর্তমান সময়ের অন্যতম  সেরা। শুধু দলের রক্ষণভাগ সামলানোই নয়, তার বড় গুণ হলো দুর্দান্ত বল পাসিং সক্ষমতা। সেই সঙ্গে বাতাসে ভালো খেলতে পারায় ইউরোপিয়ান দলগুলোর আক্রমণগুলো হেডে গোল হওয়া থেকে রক্ষা পেতে আর্জেন্টিনার বড় ভরসা হবেন তিনি।

আর্জেন্টিনার দুর্বলতা

আর্জেন্টিনার বড় দুর্বলতার জায়গা তাদের উইঙ্গারের অভাব। বিশেষ করে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া যদি ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ খেলতে না পারেন, তবে তারা হারাবে আক্রমণভাগের সবচেয়ে আনপ্রেডিক্টেবল খেলোয়াড়কে। মেসির সঙ্গে মারিয়ার রসায়ন আর্জেন্টিনার অনেক জয়ের রেসিপি। তা ছাড়া তার বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা আর্জেন্টিনার বড় শক্তির জায়গা। এ ছাড়া মধ্যমাঠে সৃজনশীল খেলোয়াড়ের অভাব ও একজন ব্যাকআপ স্ট্রাইকারের অভাবে ভুগতে হতে পারে তাদের।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ইতিহাস

ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপেই ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। তবে স্বাগতিক উরুগুয়ের বিপক্ষে সে ফাইনালে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট হতে হয় তাদের।

আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ১৯৭৮ সালে। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত সে বিশ্বকাপে ড্যানিয়েল প্যাসারেল্লার দল নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। আসরে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন মারিও ক্যাম্পোস।

এর ঠিক আট বছর পর ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কারো একক নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ জয় করে কোনো দেশ। সে বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার দারুণ ফুটবলশৈলী আজও নস্টালজিক করে তোলে ফুটবল ভক্তদের। ৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুটি গোল স্মরণীয় হয়ে আছে আজও। হ্যান্ড অব গডখ্যাত হাত দিয়ে গোলটি করার পর প্রতিপক্ষের ছয়জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আরও একটি গোল করেন তিনি। সে গোলটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে খ্যাত।

এর ঠিক পরের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সেরা ছন্দে না থাকলেও উঠে গিয়েছিল ফাইনালে। তবে জার্মানির বিপক্ষে সে ফাইনালে বিতর্কিত গোলে খোয়াতে হয় শিরোপা।

আর্জেন্টিনা সবশেষ ফাইনাল খেলে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সে বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হারে লিওনেল মেসির দল। অবশ্য সে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি।

এম/

আরো পড়ুন:

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ