spot_img
20 C
Dhaka

৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

আমেরিকার তেলের ভান্ডার

- Advertisement -

মাহবুব মারুফ, সুখবর বাংলা: আন্তর্জাতিক জ্বালানি এজেন্সির সব সদস্য দেশকেই অন্তত ৯০ দিন ব্যবহারের মত পেট্রোলিয়ামের মজুত ধরে রাখতে হয়। আরব-ইসরাইল যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সর্বাত্মক মদদ দেয়ার প্রতিবাদে তেল রফতানিকারক ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তেল রফতানি বন্ধ করে দেয়। এর প্রেক্ষিতে ১৯৭৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেল সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত জরুরী তেলের মজুদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।  তবে যুক্তরাষ্ট্রের মত এরকম তেল মজুদ পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

কোথায় রাখা হয় এই জরুরি তেলের মজুদ

মাটির তিন হাজার তিনশ’ ফিট নিচে মানবসৃষ্ট অনেকগুলো গুহার মধ্যে এই তেল জমা করে রাখা আছে। মাটির উপরে ট্যাঙ্ক বা অন্যান্য পদ্ধতিতে মজুদ করার চেয়ে এতে অনেক বেশি খরচ বেচে যায়। আর তাই এই পদ্ধতি। এখানে লবণের রাসায়নিক গঠন ও ভূতাত্ত্বিক চাপের কারণে এই সব গুহা থেকে তেল বেরিয়ে যেতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট চারটি স্থানে এই তেল মজুদ রয়েছে। টেক্সাসের ফ্রিপোর্ট এবং উইনির কাছে, আর লুইজিয়ানায় চেক চার্লস আর ব্যাটনরুজে। ভূগর্ভস্থ লবণের স্তরের একটা অংশ গলানোর পরে যে গুহা তৈরি হয় সেই গুহাতেই এইসব তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ করা হয়।

এই তেল কখন বা কিভাবে ব্যাবহার করতে পারে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৫ সালের এক আইন অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ এই মজুদকৃত তেল ব্যাবহারের নির্দেশ শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টই দিতে পারেন। তা আবার জরুরি কোনো সঙ্কটকালে। তবে এই তেলের ব্যাবহার সাথে সাথেই ব্যাবহার করা যায় না। প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দেয়ার পর এই তেল ব্যাবহার করতে বা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে অন্তত ২ দুই সপ্তাহ লেগে যায়। কারণ ভূগর্ভস্থ এই মজুদভান্ডারে রাখা হয় অপরিশোধিত তেল। আর এই অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের পরেই বাজারে ছাড়া হয়।

মজুদের বর্তমান অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জরুরি তেলের মজুদ এখন ১৯৮৪ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে।

কৌশলগত মজুদ থেকে আরো দেড় কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়ের অনুমতি দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সম্প্রতি ওপেক প্লাস দেশগুলো জ্বালানি উত্তোলনের কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া শীত মৌসুমে জ্বালানি বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণাও দিতে পারেন বাইডেন।

এর আগে গত মার্চে নিজেদের কৌশলগত মজুদ থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছিলেন বাইডেন প্রশাসন। যা প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের মধ্যে ছাড়ের কথা ছিল।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এত বড় জরুরি মজুত রাখার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আরো পড়ুন:

ঘূর্ণিঝড়ের কোন সতর্ক সংকেতের কী মানে?

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ