spot_img
18 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

আফগানিস্তানের সঙ্গে তেল চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে চীন

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: আফগানিস্তানে তালেবানদের মধ্যযুগীয় শাসনব্যবস্থার দরুণ বিশ্বের অনেক সংস্থাই আফগানিস্তানকে মানবিক সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকছে। তালেবান সরকার আফগান নারী, এনজিও কর্মচারী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দেশে কাজ করা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত করার পর নেতৃস্থানীয় মানবিক বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) আফগানিস্তানে তাদের মানবিক কাজগুলো করা বন্ধ করে দিয়েছে।

যখন তালেবান আফগান নারীদের উচ্চশিক্ষার সমস্ত সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে, এ অবস্থায় এদেশের সাথে তেলের চুক্তি করা সত্যিই সাহসিকতার কাজ এবং চীন সেই কাজটিই করে দেখিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার, চীনের জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, চীনা কোম্পানিটি আগামী ২৫ বছরের জন্য উত্তর আফগানিস্তানের আমু দরিয়া অববাহিকা থেকে তেল উত্তোলনের অধিকার লাভ করে।

তবে আফগানিস্তানে তালেবান দখলদারির পর এ ১৬ মাসে আফগানিস্তান ঠিক কোথায় এসে পৌঁছেছে তা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে এশিয়া ফাউন্ডেশন “দ্য ফিউচার ফোরকাস্ট: এশিয়া ইন ২০২৩” শিরোনামে ১১ জানুয়ারি, একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে।

এতে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত আফগানিস্তানে হওয়া বেশিরভাগ সহিংসতার জন্য দায়ী করা হয় তালেবান বিদ্রোহকে। যদিও সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আফগানিস্তানের কিছু হলেও উন্নতি হয়েছে, তবে তালেবান সরকারকে ব্যাপক দারিদ্রতা, ব্যাপক বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তবে এসব কিছুর মধ্যেই আফগান নারীদের কাজ, শিক্ষাগ্রহণ, এমনকি নিজের পরিবারের সাথেই বাইরে ঘুরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ আফগানিস্তানের তালেবান শাসনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে হতাশ করে তুলেছে। এই একতরফা নীতির কারণে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভেও সমর্থ হয়নি।

তালেবানের এই একতরফা মনোভাব ও জেদ পুরো দেশটিকে মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আফগানিস্তানের এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও চীন, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু প্রতিবেশি দেশ তালেবান নিযুক্ত কূটনীতিকদের গ্রহণ করেছে৷ চীন এবং পাকিস্তান কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।

আবার অন্যদিকে অতীত ইতিহাসে যেসব দেশ আফগানিস্তানকে সহায়তা করেছিল, তারা এখন আর তালেবানদের সমর্থন করছে না। এর মধ্যে একটি দেশ হলো ভারত। নয়াদিল্লিতে তালেবান নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণ করার জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভারত সে অনুরোধ গ্রাহ্য করেনি। কিন্তু অতীতে ভারত আফগানিস্তানের অনেক উন্নয়নমূলক কাজেই অংশগ্রহণ করেছিল। তবে আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব ভারতকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রাক্তন সিনিয়র কর্নেল ঝো বো, গত বছর তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাঁচ দিন পরে লিখেছিলেন যে, আফগানিস্তানেই বিশ্বের সেরা সেরা বিজয়ীরা পরাজিত হয়েছে। যেমন, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বর্তমানকালের যুক্তরাষ্ট্র। চীন এখন আফগানিস্তানের সাথে অংশীদারিত্ব করছে, তবে এ অংশীদারিত্ব বন্ধুত্বের।

বেইজিং তালেবানকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এই শর্তে যে আফগানিস্তান চীনকে উইঘুর সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধিতা করতে সহযোগিতা করবে। চীন এক্ষেত্রে তালেবানদের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়াতে সহযোগিতা করতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

আফগানিস্তানে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলো পশ্চিমা দেশের কারণে আফগানিস্তানের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে পারে।

আমু দরিয়া থেকে তেল উত্তোলনের চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জানা যায়, জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সাথে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিটিতে কাবুলে ভারপ্রাপ্ত তালেবান খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী শেখ শাহাবুদ্দিন দেলাওয়ার এবং জিনজিয়াং সেন্ট্রাল এশিয়া পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেছেন।

২৫ বছরের এ চুক্তি অনুযায়ী, চীনা কোম্পানিটি আফগানিস্তানে বছরে ১৫০০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে এবং এ বিনিয়োগ তিন বছরে ৫৪০০ লাখ ডলারে উন্নীত হবে। তালেবান প্রশাসনের এই প্রকল্পে ২০% অংশীদারিত্ব থাকবে, যা বাড়িয়ে ৭৫% করা যেতে পারে। ২০১২ সালে, আমু দরিয়া অববাহিকায় ৮৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল অনুমান করা হয়েছিল।

এই চুক্তির অধীনে চীনা কোম্পানি আফগানিস্তানের সার-ই-পুল, জাওজান এবং ফারিয়াব প্রদেশে সম্মিলিতভাবে ৪৫০০ বর্গ কিলোমিটার (১৭৩৭ বর্গ মাইল) এলাকা জুড়ে তেল উত্তোলন করতে পারবে। এই প্রকল্পে ৩০০০ এরও বেশি স্থানীয় লোক কাজ পাবে এবং চুক্তির একটি শর্ত হলো, উত্তোলিত তেল আফগানিস্তানে প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

ডেপুটি পিএম বারাদার বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ আফগানিস্তান। অন্যান্য খনিজ উপাদান ছাড়াও তেল আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ, যার উপর দেশটির অর্থনীতি অনেকাংশেই নির্ভর করে। আফগানিস্তানে বর্তমানে ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ তেল রয়েছে। সম্প্রতি, বেশ কয়েকটি প্রকল্প অর্থনৈতিক কমিশন দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। এগুলো ছাড়াও দেশের সমৃদ্ধি এবং জনকল্যাণের জন্য বিভিন্ন মৌলিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইউ চুক্তিটিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কাবুল ও বেইজিংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমু দরিয়া তেল চুক্তি চীন ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

চুক্তিটি এমন একটি সময়ে হয়েছে যখন প্রতিবেশি পাকিস্তানের মতো চীনারাও আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছে। ১১ জানুয়ারি, আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালেবান কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করার কথা ছিল চীনা প্রতিনিধি দলের। কিন্তু চীনাদের লক্ষ্য করে সেদিন একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। এ হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যায়। আইএসকেপি এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

আই. কে. জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ