spot_img
25 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

আনোয়ার হোসেন : শুভ জন্মদিন বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন নবাব

- Advertisement -

সাইদ মাহবুব, সুখবর বাংলা: তিনি অভিনয় করেছেন দীর্ঘ ৫২ বছর। তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা পাঁচশ’র বেশি। অনবদ্য অভিনয়ে মুগ্ধ করেছেন দেশের মানুষকে। গ্রাম-বাংলার দর্শকদের কাছে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা, পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ছিল। নায়ক থেকে বাবা, দাদার চরিত্রে এসেও সমান তালে দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। তার হৃদয়ছোঁয়া অভিনয় দাগ কেটেছে সবার মনেই।

বলছি আনোয়ার হোসেনের কথা। দেশের সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও খ্যাতিমান অভিনেতা তিনি। ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলা কিংবা মুকুটহীন নবাব নামেও খ্যাত। আজ ৬ নভেম্বর আনোয়ার হোসেনের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বরেণ্য অভিনেতা।

১৯৩১ সালের এই দিনে জামালপুর জেলার মুরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে ‘বাংলার মুকুটহীন সম্রাট’ উপাধি পেয়েছিলেন এই অভিনেতা।

অভিনয়ের ক্যারিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট ছিল তার ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা’ সিনেমায় অভিনয় করা। সে সিনেমার ডায়ালগগুলোর প্রতিটি শব্দের দীপ্ত উচ্চারণ এখনও সব প্রজন্মের মানুষ মনোমুগ্ধ হয়ে শোনে।

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। সময়ের স্রোত যত বয়ে চলেছে তার অভিনয়ের চরিত্রে ততই বেড়েছে বৈচিত্র্য। নায়ক থেকে বাবা, দাদার চরিত্রে এসেও সমান মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন।

মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকা আনোয়ার হোসেন ১৯৬১ সালে মহিউদ্দিনের ‘তোমার আমার’ সিনেমায় ভিলেনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় পা রাখেন।

তবে নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান ‘সুর্যস্নান’ সিনেমা দিয়ে। রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেয়ে যান ১৯৬৭ সালের সিনেমা নবাব সিরাজউদ্দৌলায় অভিনয়ের মাধ্যমে।

বাংলার শেষ নবাবের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয়ের পর তিনিও ভক্তদের মনে পেয়ে যান মুকুটহীন সম্রাটের স্থান।

তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘সূর্যস্নান’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘জয় বাংলা’, ‘অরুণোদ্বয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘লাঠিয়াল’, ‘পালঙ্ক’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘নাজমা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সূর্যসংগ্রাম’, ‘দায়ী কে’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘নয়নমণি’, ‘ভাত দে’, ‘চাকর’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ইত্যাদি।

সমৃদ্ধ অভিনয় জীবনে আনোয়ার হোসেনের প্রাপ্তি কম নয়। দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসার পাশাপাশি তিনি অর্জন করেছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননাও। দেশের ইতিহাসে প্রথম অভিনেতা হিসেবে তিনি একুশে পদক লাভ করেছিলেন ১৯৮৮ সালে। এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর তিনিই শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে পুরস্কারটি তিনি লাভ করেন ‘লাঠিয়াল’ সিনেমার জন্য।

এরপর তিনি ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘দায়ী কে?’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০১০ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়াও আনোয়ার হোসেন দুইবার বাচসাস পুরস্কার এবং পাকিস্তানের নিগার পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননা লাভ করেছেন।

আনোয়ার হোসেন বিয়ে করেন ১৯৫৭ সালে। তার স্ত্রীর নাম নাসিমা খানম। তিনি চার পুত্র ও এক কন্যার জনক। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই গুণী শিল্পী।

আরো পড়ুন:

বহুমুখী প্রতিভাবান একজন শিল্পী মারজুক রাসেল

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ